মাসআলা (১১১৬): যেমনটা ১১১১ নং মাসআলায় বলা হলো, আয়ের খুমসের বেলায় জীবন নির্বাহ খুরচ বাদ যায় এবং তাতে খুমস নেই। এখানে জীবন নির্বাহ খরচ বলতে উদ্দেশ্য, বছরের খরচাদি (আয়ের খরচাদি নয়)। আর বছরের খরচাদি হচ্ছে কোন ব্যক্তি তার নিজের ও তার ভরণপোষণাধীন পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহের নিমিত্তে এবং পরকালের কল্যাণার্থে ব্যয় করে থাকে। যেমন: খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, গৃহের আসবাবপত্র, যান, বইপত্র, সচারচর ভ্রমণসমূহ, দান-খয়রাত, উপহারাদি, মানতী খরচ, কাফফারা, অতিথি আপ্যায়ন ইত্যাদি।
মাসআলা (১১১৭): সব ধরনের খরচকে জীবন নির্বাহ খরচ বলা হয় না। বরং যেসব খরচ জীবনযাত্রা নির্বাহ এবং পরকালের কণ্যাণার্থে দরকার হয়, সেগুলোই হচ্ছে জীবন নির্বাহ খরচ। সুতরাং যেসব জিনিস ও পণ্য সামগ্রী প্রয়োজনীয় নয়, সেগুলোর জন্য খরচ করাকে জীবন নির্বাহ খরচ বলা যাবে না। তদ্রূপভাবে, যেসব খরচ কোন হারাম জিনিস ক্রয়ের জন্য ব্যয় করা হয়, যেমন পুরুষের জন্য স্বর্ণের আংটি খরিদ করা, ফুর্তি করার ক্রীড়া উপকরণাদি খরিদ করা, জুয়ার উপকরণাদি খরিদ করা ইত্যাদিও এই হুকুমভুক্ত হবে।
মাসআলা (১১১৮): জীবন নির্বাহ খরচ বলতে ব্যক্তির দৈনন্দিন কিংবা মাসিক খরচাদি বুঝায় না। বরং বাৎসরিক খরচাদিকে বুঝায়। কাজেই খুমস সেই আয়ের উপর হিসাব করতে হবে যা বাৎসরিক প্রয়োজনীয় খরচাদি সম্পন্ন করার পর উদ্বৃত্ত থাকবে।
মাসআলা (১১১৯): জীবন নির্বাহ খরচের হার নির্ধারিত হবে ঐ খরচাদি থেকে, যা সারা বছর ধরে ঐ বছরের আয় হতে ব্যয় করা হয়, পূর্বের কিংবা পরের বছরের নয়। সুতরাং যদি কারো এক বছরে কোন আয় না হয়, সেক্ষেত্রে সে পূর্বের কিংবা পরের বছরের আয় হতে ঐ বছরের জীবন নির্বাহ খরচকে কর্তন করতে পারবে না।
মাসআলা (১১২০): জীবন নির্বাহ খরচের মাপকাঠি হলো ঐসব সচরাচর খরচাদি, যা লোকরা অবস্থা অনুযায়ী করে থাকে। সুতরাং একদিক থেকে তা কেবল অপরিহার্য দ্রব্যাদি ও প্রাথমিক প্রয়োজনীয় জিনিসসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আবার অপরদিকে যেসব খরচাদি অযথা ও অপচয় এবং বাড়াবাড়ি খরচ, যা তার অবস্থার সাথে মাননসই নয়, যেমন: বিবাহ অনুষ্ঠানে উপঢৌকন ও আনুষ্ঠানিকতা বাবদ খরচ, শোকানুষ্ঠানে ও মেহমান আপ্যায়নে খরচ ইত্যাদি, এরূপ খরচাদিও এর মধ্যে পড়ে না।
সূত্রঃ রেসালায়ে মুস্তাখাব আল-আহকাম বই থেকে সংগ্রহীত
হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহু )- এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত
