খুমসের আহকাম

হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহু )- এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত

by Syed Yesin Mehedi

মুলধনের খুমস হিসাব করা এবং তা পরিশোধ করার পদ্ধতি
মাসআলা (১১৮০ : মুলধনের খুমস হিসাব করার জন্য প্রথমে যা কিছু পণ্য ও নগদ টাকা রয়েছে, তা খুমসবর্ষের মাথায় গিয়ে হিসাব করে এবং মূল্য নির্ণয় করে তার খুমস পরিশোধ করতে হবে। এরপর পরবর্তী বছরে তার পণ্যদ্রব্য ও নগদ টাকার সমষ্টিকে মূল পুঁজির সাথে তুলনা করে দেখবে। যদি কোনো কিছু মুলধনের অতিরিক্ত বিদ্যমান থাকে, তাহলে তা লভ্যাংশ হিসাবে গণ্য হবে এবং তাতে খুমস ধার্য হবে। আর যদি প্রাথমিক মুলধনের উপর কোনো কিছুই বৃদ্ধি না পেয়ে থাকে, তাহলে খুমস দেওয়া ওয়াজিব নয়। যেমন ধরুন, যে ব্যক্তির মুলধন ছিল আটানব্বইটি ভেড়া এবং কিছু পরিমাণ নগদ টাকা, যার খুমস সে পরিশোধ করেছে। এখন যদি খুমসবর্ষের মাথায় গিয়ে তার বর্তমান ভেড়াগুলোর মূল্য ও নগদ টাকার সমষ্টি, অটানব্বইটি ভেড়ার মূল্য ও নগদ টাকার সমষ্টির (যার খুমস আগে পরিশোধ করেছে) তুলনায় বেশি হয়, তাহলে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত অংশের খুমস প্রদান করতে হবে।
মাসআলা (১১৮১ঃ মুলধনের খুমস হিসাব করার ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো পণ্যদ্রব্য এবং (অর্থাৎ নগদ টাকা ভিন্ন) অন্যান্য মালামালের মূল্য নির্ধারণ করা, যেভাবেই সম্ভবপর হয়, এমনকি অনুমানের উপর ভিত্তি করে হলেও।
মাসআলা (১১৮২) : যদি পুরস্কার বা অনুরূপ কোনো মালামাল, যাতে খুমস নেই, এরূপ কোনো জিনিস মুলধনের সাথে মিশে যায়, তাহলে খুমসবর্ষের মাথায় গিয়ে উক্ত জিনিসকে মূলধন থেকে আলাদা করে ফেলা জায়েয আছে। বাকী সম্পদের খুমস প্রদান করতে হবে। যদি না তার মুলধন এরূপভাবে থাকে যে, তার জীবন নির্বাহ খরচকে ঐ সম্পদ থেকেই পূরণ করে, যেমন দোকানদার সেক্ষেত্রে সে মুলধন থেকে যে পরিমাণ টাকা তার নিজ খরচাদির জন্য নিয়েছে তবে মুলধন থেকে নেওয়ার নিয়্যাত ব্যতিরেকেই তা তার খুমস পরিশোধকৃত সম্পদ আর অপরিশোধকৃত সম্পদের মধ্যে আনুপাতিক হারে বন্টন হয়ে যাবে।
মাসআলা (১১৮৩) : যে ব্যক্তি তার আগের বছরগুলোর আয়ের খুমস হিসাবে সঠিক হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে এরূপ সন্দেহের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না এবং তার জন্য পুনরাং খুমস পরিশোধ করা ওয়াজিব নয়। তবে হ্যাঁ, যদি কোন আয়ের টাকা সম্পর্কে সন্দেহ করে যে এ টাকা কী আগের বছরের আয়ের টাকার অন্তর্ভূক্ত হবে যার খুমস ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে, নাকি এ বছরের আয়ের অন্তর্ভূক্ত হবে, যার এখনো খুমস পরিশোধ করা হয়নি, সেক্ষেত্রে তার জন্য ওয়াজিব হলো এহতিয়াতবশত উক্ত টাকার খুমস প্রদান করা।
মাসআলা (১১৮৪) : কেউ যদি সন্দেহ করে যে কোনো একটি জিনিসের খুমস প্রদান করেছে কি না? সেক্ষেত্রে উক্ত সন্দেহের জিনিসটি যদি এমন কোনো জিনিস হয়ে থাকে যার উপর খুমস ধার্য হয়েছে, তাহলে খুমস প্রদান করার ব্যাপারে ইয়াকীন (নিশ্চিত বিশ্বাস) অর্জন করা ওয়াজিব।
মাসআলা (১১৮৫) : যেসব ক্ষেত্রে লোকেরা জানে না যে তাদের আয়ের উপর খুমস ধার্য হয়েছে কি-না? যেমন ধরুন, তার বসতবাড়িটা উপার্জিত টাকা দ্বারা খরিদ করেছে, কিন্তু এটা জানে না যে উক্ত উপার্জিত টাকা ঐ বছরের মধ্যেই বাড়ি খরিদের কাজে ব্যয় করেছে নাকি বছর শেষ হওয়ার পরে ও খুমস পরিশোধ করার আগে? এরূপ ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো খুমসের ওয়ালয়ে আমর কিংবা তাঁর প্রতিনিধির সাথে আপোসরফা করে নেওয়া।
মাসআলা (১১৮৬) : অবধারিত খুমসের ক্ষেত্রে আপোসরফা চলে না। (সন্দেহকৃত ব্যাপারে আপোসরফা করা যাবে)।

সূত্রঃ রেসালায়ে মুস্তাখাব আল-আহকাম  বই থেকে সংগ্রহীত

হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহু )- এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔