খুমসের আহকাম

হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহু )- এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত

by Syed Yesin Mehedi

মাসআলা (১১২১): জীবন নির্বাহ খরচ বলতে বুঝায় সেই সকল খরচ, যা কোনো ব্যক্তি তার নিজের জন্য এবং তার ভরণপোষণাধীন ব্যক্তিবর্গের জন্য কম-বেশি ব্যয় করে থাকে। আর যে খরচাদি এখনো সম্পন্ন করেনি, তা এ খরচের অন্তর্ভূক্ত হবে না। যদিও সে যদি ঐ খরচগুলো সম্পন্ন করতো তাহলে সেটা তার জন্য সাধারণ বিবেচনা ও সামাজিক অবস্থার বিচারের দিক থেকে অতিরিক্ত বলে বিবেচিত হতো না। কাজেই যে ব্যক্তি নিজ জীবনকে কঠিন করে নিয়েছে এবং যা কিছু তার নিজের ও পরিবারের জন্য মানানসই ছিল সেগুলো সংগ্রহ করেনি, এমনতাবস্থায় সে যে পরিমাণ অর্থ খরচ করতে পারতো অথচ খরচ করেনি, ঐ পরিমাণ অর্থকে জীবন নির্বাহ খরচের মধ্যে ধরা তার জন্য জায়েয নয়।
মাসআলা (১১২২): স্বামী তার স্ত্রীর জন্য যে স্বর্ণ খরিদ করে, তা যদি তার (অর্থাৎ স্বামীর) অবস্থার সাথে মানানসই হয়, তাহলে তা জীবন নির্বাহের খরচের মধ্যে গণ্য হবে এবং খুমস থাকবে না।
মাসআলা (১১২৩):; যে ব্যক্তি নিজে প্রথম তলায় বসবাস করে কিন্তু তার সন্তানের ভবিষ্যতে প্রয়োজনের কথা ভেবে দ্বিতীয় তলা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, এমতাবস্থায় যদি বর্তমানে তার সন্তানের ভবিষ্যতের প্রয়োজনে দ্বিতীয় তলা নির্মাণ করার খরচ সাধারণ বিচারে তার অবস্থার সাথে মানানসহ বলে গণ্য হয়ে থাকে, তাহলে সে যা খরচ করেছে তাতে খুমস নেই। আর যদি এরূপ না হয় এবং বর্তমানেও তার নিজেরও ঐ ঘরের প্রয়োজন না থাকে এবং তার সন্তানেরও প্রয়োজন না থাকে, তাহলে তার খুমস প্রদান করা ওয়াজিব।
মাসআলা (১১২৪): কোনো ব্যক্তি কল্যাণমূলক কাজে, যেমন: স্কুল মাদ্রাসায় সাহায্য করা, বন্যাকবলিত ও অন্যান্য দুর্গত লোকদের সাহায্য করা ইত্যাদি কাজে যে অর্থ ব্যয় করে থাকে, তা তার বাৎসরিক জীবন নির্বাহ খরচের অন্তর্ভূক্ত হবে এবং তাতে খুমস নেই।
মাসআলা (১১২৫): জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় যে জিনিস প্রয়োজনের বাইরে চলে গেছে, যেমন যে বাড়ি কেউ বসবাসের জন্য নির্মাণ করেছে কিংবা খরিদ করেছে, অতঃপর সরকারী বাড়িতে বসবাস করার কারণে ঐ বাড়ির আর প্রয়োজন নেই, এক্ষেত্রে অবস্থা দুই ধরনের হবে:
১. হয় তা বছরের আয়ের মধ্য হতে অথবা যে আয়ের খুমস নেই অথবা খুমস দেওয়া হয়েছে এমন অর্থ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে, তাহলে খুমস নেই।
২. আর না হয় যে আয়ের উপর খুমস ধার্য হয়েছে কিন্তু তা পরিশোধ করা হয়নি, এমন অর্থ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে, তাহলে ঐ বাড়ি প্রস্তুত করতে যে টাকা খরচ করা হয়েছে তার খুমস প্রদান করতে হবে।

সূত্রঃ রেসালায়ে মুস্তাখাব আল-আহকাম  বই থেকে সংগ্রহীত

হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহু )- এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔