প্রশ্ন-৫৬৯: এক ব্যক্তি তাওয়াফের মধ্যে আল্লাহর ঘর চুম্বন ও স্পর্শ করার কারণে স্বীয় পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে এবং জানে না যে ফিরে এসে ঐ যে স্থান থেকে ছেড়ে গিয়েছিল সেখান থেকেই অব্যাহত রেখেছে কি-না এমতাবস্থায় তার তাওয়াফ কি সঠিক?
উত্তর : যদি এ বিষয়ে মনোযোগী থাকে যে, যেখান থেকে তাওয়াফ ছেড়ে দিয়েছে সেখান থেকেই শুরু করবে এবং পরবর্তীতে সন্দেহ দেখা দেয় তাহলে তাওয়াফ সঠিক হওয়ার নির্দেশই জারি করবে। অন্যথায় এই তাওয়াফ যথেষ্ট হিসেবে গণ্য করায় আপত্তি রয়েছে।
প্রশ্ন-৫৭০। এক ব্যক্তি তাওয়াফের সময় ভিড়ের ধাক্কায় কয়েক ধাপ সামনে চলে যায়। অতঃপর ঐ অংশটুকু পূরণ করার পরিবর্তে আরেকটি পাক সম্পন্ন করে যা সামষ্টিকভাবে পূর্ণ সাত পাক এবং একটি অসম্পূর্ণ পাক হয়। এই তাওয়াফ কি সঠিক?
উত্তর: তার তাওয়াফে সমস্যা রয়েছে এবং তা পুনঃ আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন-৫৭১: এক ব্যক্তি তাওয়াফ সম্পন্ন করার পর ভুলক্রমে এক পাক বেশি প্রদক্ষিণ করেছে এবং পরবর্তীতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে যে সে কি আরো তিন কিম্বা চার পাক সম্পন্ন করেছে? অতঃপর ওমরাহ’র সকল আমলকেও সে সম্পাদন করেছে। তার তাওয়াফ কি বাতিল? অতিরিক্ত পাকসমূহে দ্বিধা-সংশয় কি ক্ষতিকর নয়?
উত্তর: ক্ষতিকর এবং তাওয়াফ ও নামায পুনঃ আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন-৫৭২: এক ব্যক্তি ভিড়ের কারণে তাওয়াফের কিছু অংশ তাওয়াফের গণীর বাইরে সম্পন্ন করেছে এবং পরে বাদবাকি আমলসমূহকেও পালন করেছে। তার কর্তব্য কী?
উত্তরঃ যদি সম্ভব না থাকে এমনকি অন্য কোন সময়েও সীমানার মধ্যে তাওয়াফ করতে না পারে তাহলে অসুবিধা নেই। অন্যথায় তাওয়াফ ও নামায পুনঃ আদায় করতে হবে
প্রশ্ন-৫৭৩। যে ব্যক্তির কর্তব্য হলো জাবিরা তথ্য ব্যান্ডেজ অবস্থার ওযু এবং তায়াম্মুম করা, কিন্তু অজ্ঞতার বশে তায়াম্মুম ছাড়াই ওমরাহ’র আমলসমূহ সম্পাদন করেছে। তার কর্তব্য কী?
উত্তর: তাওয়াফ ও এর নামায পুনঃ আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন-৫৭৪: যে ব্যক্তি ভুলক্রমে তাওয়াফকে রোকনে ইয়েমেনী থেকে আরম্ভ করেছে এবং সে স্থানেই সমাপ্ত করেছে এবং তাওয়াফের নামায পড়েছে অতঃপর
বুঝতে পেরেছে, তার নির্দেশ কি? আর যদি তাওয়াফের মাঝে বুঝতে পারে এবং তাওয়াফকে হাজারুল আসওয়াদে সমাপ্ত করে তাহলে অতিরিক্ত অংশটুক কি তার তাওয়াফের ক্ষতি করবে?
উত্তর: তাওয়াফ ও নামায পুনঃ আদায় করতে হবে। আর দু’অবস্থার ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য নেই।’
প্রশ্ন-৫৭৫: এক ব্যক্তি এক পাকের কয়েক মিটার পথ নষ্ট করে ফেলেছে এবং যেহেতু সূক্ষ্মভাবে তার শুরু ও শেষ জানা নেই, কাজেই যে অংশ নষ্ট হয়ে গেছে তা সঠিকভাবে সম্পন্ন করার নিয়তে হাজারুল আসওয়াদ থেকে আরম্ভ করে সেখানেই এসে সমাপ্ত করে একটি পূর্ণ পাক সম্পাদন করলো। আর পূর্বের ও পরের অতিরিক্ত অংশটি হলো নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভূমিকাস্বরূপ। এই তাওয়াফ কি সঠিক হয়েছে?
উত্তরঃ সঠিক। যদি না ঐ অংশটি নষ্ট হওয়ার পরে তাওয়াফকে অব্যাহত রাখে: সেক্ষেত্রে তাওয়াফে ত্রুটি হবে।
প্রশ্ন-৫৭৬: যে ব্যক্তি তাওয়াফের সীমানার ব্যাপারে অবগত নয়, তাওয়াফ সমাপ্ত করার পর তার সন্দেহ হলো যে, তাওয়াফের গীর মধ্যে ছিল কি-না, তার তাওয়াফ কি সঠিক?
উত্তর: যদি প্রথম থেকেই গণীর মধ্যে থাকে এবং সন্দেহ করে যে বাইরে চলে গেছে কি-না তাহলে তার তাওয়াফ সঠিক। আর যদি প্রথম থেকে সন্দেহ করে তাহলে প্রশ্নে উল্লেখিত অজ্ঞতা নিয়ে ঐ তাওয়াফ যথেষ্ট বলে গণ্য করা যায় না।
প্রশ্ন-৫৭৭: এক ব্যক্তি তাওয়াফের প্রথম পাকে প্রদক্ষিণরত ছিল। এমন সময়ে
জামাআতের নামায শুরু হয়ে যায়। সে তাওয়াফ ছেদ করে নামাযে ব্যস্ত হয় এবং নামায শেষে তাওয়াফ পুনরারম্ভ করে এবং সম্পূর্ণ সাত পাক সম্পন্ন করে। তার তাওয়াফ কি সঠিক?
উত্তর: অসুবিধা রয়েছে। তাওয়াফ পুনঃ আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন-৫৭৮ : এক ব্যক্তি তাওয়াফের প্রথম পাক যখন তা অসম্পূর্ণ থাকে সে অবস্থাতেই ছেড়ে দেয় অতঃপর বাকি ছয় পাক সম্পন্ন করে এবং তারপর প্রথম পাকের অসম্পূর্ণ অংশটুকু সম্পন্ন করে। তার তাওয়াফ কি সঠিক?
উত্তর: সঠিক নয়।
প্রশ্ন-৫৭৯ : যদি কেউ তাওয়াফের ও সাঈ’র পাক সংখ্যা এবং নিক্ষিপ্ত কঙ্করের সংখ্যার ব্যাপারে অন্যের ওপরে নির্ভর করে তাহলে কি যথেষ্ট হবে?
উত্তরঃ যদি সংখ্যার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারে তাহলে নিষেধ নেই।
প্রশ্ন-৫৮০: এক ব্যক্তি অসুস্থতা কিম্বা বার্ধক্যের কারণে তাওয়াফের প্রথম পাকে ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং তাওয়াফের পীর ভেতর থেকে বাইরে চলে আসে। অতঃপর কিছু বিশ্রাম গ্রহণের পর যে স্থান থেকে তাওয়াফকে ছেদ করেছিল সেখান থেকেই আরম্ভ করে, সে যেহেতু চতুর্থ পাকে পৌঁছেনি, কাজেই তার তাওয়াফের নির্দেশ কী?
উত্তরঃ যদি (তাওয়াফের) ধারাবাহিকতার নিরবচ্ছিন্নতা ক্ষুন্ন না হয়ে থাকে, তাহলে সঠিক।
প্রশ্ন-৫৮১: তাওয়াফকে নিরিবিলি সময়ে কাবাঘর ও মাকামের সীমানার মধ্যে সম্পাদন করার জন্য কি বিলম্ব করা ওয়াজিব নাকি মুস্তাহাব বা অগ্রগণ্য? বিশেষ করে যদি তাশরীকের দিনসমূহের পরে তাওয়াফের গণী নিরিবিলি না হয়?
উত্তরঃ যদি সীমানার মধ্যে তাওয়াফ সম্ভব থাকে এমনকি নিরিবিলি সময়ে হলেও, তাহলে তাওয়াফের সীমানার মধ্যেই তাওয়াফ করবে যদি বিলম্বও করতে হয়।’
প্রশ্ন-৫৮২: তাওয়াফের সময় ধাক্কা খাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত থাকাই কি নির্দিষ্ট গণীর মধ্যে তাওয়াফ করা সম্ভব না হওয়ার মাপকাঠি যা এই সীমানার বাইরে তাওয়াফ করার বৈধতা দান করবে?
উত্তর: অন্তর্ভুক্ত নয়।’
প্রশ্ন-৫৮৩ : যদি নিশ্চিত থাকে যে নির্ধারিত সীমানার মধ্যে তাওয়াফ করা অবস্থায় কোনো নারী বা পুরুষের গায়ে ধাক্কা লাগবে তবুও কি নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই তাওয়াফ করা ওয়াজিব?
উত্তরঃ যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা কোন ওযর নয়।
প্রশ্ন-৫৮৪ : কিছু কিছু মহিলাদের বড়ি খাওয়ার কারণে তাদের মাসিকের নিয়ম ক্ষুন্ন হয়ে পড়ে। এমনও অবস্থা হয় যে দীর্ঘ সময় ধরে একাধারে রক্ত এবং রক্তের দাগ দেখতে পায়। এ ধরনের মহিলাদের হজ্বের সময় কর্তব্য কী?
উত্তর: যদি রক্ত তিন দিন অব্যাহত থাকে এমনকি যদি এমনভাবেও হয় যে, রক্ত বের হওয়ার পর তিন দিন পর্যন্ত জরায়ুর অভ্যন্তরে রক্ত-কলুষিত থাকে তাহলে তা মাসিকের নির্দেশভুক্ত হবে। নতুবা মুস্তাহাযা নারীর কর্তব্যের ন্যায় মেনে চলবে।
প্রশ্ন-৫৮৫ : যদি কোন মহিলা তামাকু ওমরাহ’র মধ্যে সাড়ে তিন পাকের পরে ও চতুর্থ পাকের আগে ঋতুবতী হয়ে পড়ে এবং আরাফাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পবিত্র না হয়, তাহলে তার কর্তব্য কী?
উত্তর: এক্ষেত্রে তাকে ইফরাদ ওমরাহ’য় পরিবর্তন করতে হবে।’
প্রশ্ন-৫৮৬ যদি কোন মহিলা তামাকু ওমরাহ’র তাওয়াফে চতুর্থ পাকের পর ঋতুবতী হয় এবং আরাফাতে অবস্থানের সময় পর্যন্ত পবিত্র না হয়, তাহলে তার কর্তব্য কী?
উত্তর: সে তামাত্তু ওমরাহ’র সাঈ এবং তাকসীর (চুল ছাঁটাই বা নখ কাটা) কে সম্পাদন করবে এবং তামাত্তু হজ্বের জন্য ইহরাম বাঁধবে। আর হজ্বের তাওয়াফ সম্পাদন করার সময়, তার পূর্বে কিম্বা পরে তামাকু ওমরাহ’র অবশিষ্ট তাওয়াফ ও এর নামায সম্পন্ন করবে।
প্রশ্ন-৫৮৭ঃ জনৈকা মহিলা একটি মাসআলা জানতো না, মাসিকের পরে সে মনে করত যে জানাবাতগ্রস্ত বা যৌনভাবে অপবিত্র হয়েছে এবং এ কারণে জানাবাতের বা যৌন অপবিত্রতার গোসলের নিয়ত করতো এবং এই অবস্থায় হজ্ব পালন করেছে। অনুগ্রহপূর্বক বলবেন যে তার হজ্বের ব্যাপারে নির্দেশ কী?
উত্তর: যদি তার উদ্দেশ্য ঐ রক্ত থেকে সংঘটিত অপবিত্রতার কারণে গোসল হয়ে থাকে আর তার নাম দেয় জানাবাত বা যৌন অপবিত্রতা, তাহলে তার আমল সঠিক।
প্রশ্ন-৫৮৮ : জনৈকা মহিলা তাওয়াফের অবস্থায় কালিলাহ্ তথা স্বল্পমাত্রার ইস্তেহাযাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এমতাবস্থায় তার কর্তব্য কী?
উত্তর: যদি চতুর্থ পাক শেষ হওয়ার পরে হয় তাহলে ওযু পুনঃ সম্পন্ন এবং শরীর ও পোশাক ধৌত করে তাওয়াফ সমাপ্ত করবে। আর যদি তার আগে হয় তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিবের ভিত্তিতে’ ওষু পুনঃ সম্পন্ন করা এবং ধৌত করার পর তা সম্পূর্ণ করবে এবং এরপরে তা পুনঃ আদায় করবে।
প্রশ্ন-৫৮৯ : জনৈকা ইস্তেহাযাগ্রস্ত মহিলা গোসল এবং ওযুর পর তাওয়াফে ব্যস্ত হয়। আর তাওয়াফের মাঝে রক্তের দাগ দেখতে পায়। তার কর্তব্য কী?
উত্তরঃ যদি তার রক্ত অব্যাহত থাকে এবং রক্ত বের হওয়া থেকে বেঁচে থেকে কর্তব্যের প্রতি আমল করে থাকে, তাহলে তার ওপর কোন কিছু করণীয় নেই। অন্যথায় নতুন অপবিত্রতার নির্দেশভুক্ত হবে।
প্রশ্ন-৫৯০ : যে সব মহিলা মাসিক ঋতুস্রাবকে প্রতিহত করার জন্য বড়ি খেয়ে থাকে, যাতে তাওয়াফের সময় ঋতুবতী না হয়ে পড়ে এবং মাসিকের দিনগুলোতে একটি বা দু’টি ফিকে রঙের রক্তের দাগ দৃশ্যমান হয়, এই রক্ত কি ইস্তিহাযা বলে গণ্য হবে নাকি ক্ষত বা ঘায়ের রক্ত বলে গণ্য হবে? আর সর্বাবস্থায় তা কি তাওয়াফের ক্ষতি করবে?
উত্তর : ইস্তেহাযার নির্দেশ পড়বে এবং ইস্তেহাযাগ্রস্ত নারীর কর্তব্যের মতোই আমল করবে। আর যদি তাওয়াফের মাঝে রক্তের দাগ দেখে, তাহলে চতুর্থ পাক শেষ হওয়ার আগে ও পরের মধ্যে যে বিস্তারিত বিবরণ পূর্ববর্তী কিছু কিছু মাসআলায় বর্ণিত হয়েছে তদনুযায়ী আমল করবে।’
প্রশ্ন-৫৯১: এক ব্যক্তির ওপর মৃতদেহ স্পর্শজনিত গোসলের কর্তব্য ছিল। কিন্তু হজ্বের আমলসমূহের পরে তা তার মনে পড়ে, এমতাবস্থায় তার কর্তব্য কী?
উত্তর: যদি মৃতদেহ স্পর্শ করার পর জানাবাতের বা যৌন অপবিত্রতাজনিত গোসল করে থাকে (যেহেতু যৌনভাবে অপবিত্রও ছিল কিম্বা পরবর্তীতে যৌনভাবে অপবিত্র হয়েছে) তাহলে যৌন অপবিত্রতাজনিত গোসলই যথেষ্ট হবে এবং তার আমল সঠিক। অন্যথায় তাওয়াফ ও তার নামাযকে পুনঃ আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন-৫৯২: যে ব্যক্তির কোন কারণে, তাওয়াফ কিম্বা সাঈ ছেদ হয়ে যায় এবং সামনে এগিয়ে যায়, সে চায় যেখান থেকে ছেদ পড়েছে সেখান থেকেই আরম্ভ করবে, কিন্তু ভিড়ের কারণে নিজেকে সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হয় না এবং সেখানকার সমান্তরাল বরাবর বাম কিম্বা ডান পার্শ্বে অবস্থান নেয়। সে কি যে জায়গা থেকে তাওয়াফ ছেদ হয়েছে তার সমান্তরাল বরাবর স্থান থেকে শুরু করতে পারবে। নাকি ঐ স্থান থেকেই হতে হবে?
উত্তর: ঐ স্থান হওয়া আবশ্যক নয়। বরং সমান্তরাল বরাবরই যথেষ্ট এবং তাওয়াফ সম্পূর্ণ করতে হবে।
প্রশ্ন-৫৯৩ : এক পাক এবং দুই পাকের তাওয়াফ কি মুস্তাহাব নাকি তাওয়াফ সাত পাক বিশিষ্ট হতে হবে? আর কেউ যদি ধারণা করে যে মুস্তাহাব ও ওয়াজিব
তাওয়াফের সাত পাকের পর এক-দুই মুস্তাহাব তাওয়াফ সম্পাদন করে এবং পরে তাওয়াফের নামায পড়ে, তাহলে তার তাওয়াফের কি সমস্যা হবে?
ওয়ারেও তা মুস্তাহাব হওয়াটা প্রমাণিত নয়। তবে উল্লেখিত তাওয়াফ সঠিক নয়। প্রশ্ন-৫৯৪ : তাওয়াফে সন্দেহের বাতিকগ্রস্ততার মাপকাঠি কী?
উত্তর: সাধারণ বিচার।
প্রশ্ন-৫৯৫ : সাড়ে ছাব্বিশ হাত গনীর মধ্যে তাওয়াফ করা এবং মাকামের পেছনে যথাসম্ভব নিকটে নামায পড়া, যেমনটা হজ্ব নির্দেশিকায় বর্ণিত হয়েছে, যেন মনে হয় তাদের নিকটে বিদআত। এমতাবস্থায় তারা যেভাবে গনী সীমার বাইরে তাওয়াফ করে এবং মাকামের থেকে দূরে নামায পড়ে সেভাবেই কি পালন করতে হবে?
উত্তরঃ এ ধরনের কিছু নেই। কর্তব্য অনুযায়ীই আমল করতে হবে।’ প্রশ্ন-৫৯৬: এই যে বলেছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাওয়াফ এবং
সাঈকে সম্পূর্ণ ও পুনঃ আদায় করতে হবে, অনুগ্রহপূর্বক বলবেন যে সেক্ষেত্রে তারতীব তথা ধারাক্রমও কি আবশ্যক?
উত্তর : হ্যাঁ, সতর্কতা হলো, প্রথমে তাওয়াফ সম্পূর্ণ করবে ও নামায পড়বে। অতঃপর তা পুনঃ আদায় করবে।
প্রশ্ন-৫৯৭: যে ব্যক্তির তামাত্তু ওমরাহ কিম্বা ইফরাদ ওমরাহ’র তাওয়াফ কিম্বা সাঙ্গ-তে প্রতিনিধি নিযুক্ত করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, সেক্ষেত্রে প্রতিনিধি কি ইহরাম অবস্থায় প্রতিনিধিত্ব করবে নাকি অ-ইহরাম অবস্থায়? আর যদি ধরা হয় ইহরাম আবশ্যক নয়, তাহলে কি ইহরামের পোশাকে তাওয়াফ করবে, নাকি সেলাইযুক্ত কাপড়েও জায়েজ?
উত্তরঃ প্রতিনিধির ক্ষেত্রে ইহরাম কিম্বা ইহরামের কাপড় কোনটাই আবশ্যক নয়। প্রশ্ন-৫৯৮: যে সব ক্ষেত্রে তাওয়াফ ও নামায পুনঃ আদায় করতে হবে সেসব ক্ষেত্রে কি ইহরাম অবস্থায় থাকা আবশ্যক?
উত্তর: আবশ্যক নয়।
প্রশ্ন-৫৯৯ : যখন ইহরামকারী ইহরামের কাপড় ছেড়ে সেলাই করা কাপড় পরে ওমরাহ’র আমল সমূহকে যেমন তাওয়াফ ও সাঈ সম্পাদন করে, তা অজ্ঞতাবশত হোক আর ইচ্ছাকৃতই হোক, তার তাওয়াফ ও সাঈ কি সঠিক? আর তার ওমরাহ যথেষ্ট হবে কি-না?
উত্তর : উল্লেখিত তাওয়াফ ও সাঈ সঠিক। আর উল্লেখিত ওমরাহই যথেষ্ট হবে।
প্রশ্ন-৬০০: যখন তামার ওমরাহ’র ইহরামে ইহরামকারী জানাবাত বা যৌনভাবে অপবিত্র হবে এবং পানি যদি তার জন্যে ক্ষতিকর হয় কিম্বা পানি না থাকে কিম্বা ওমরাহ’র সময় পার হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে তায়াম্মুম দ্বারা তাওয়াফ ও নামায কি যথেষ্ট হবে? নাকি প্রতিনিধিত্ত নিযুক্ত করতে হবে?
উত্তরঃ প্রতিনিধি নিযুক্ত করা আবশ্যক নয়।
প্রশ্ন-৬০১ : যদি মহিলাদের মাথার চুলের কিছু অংশ কিম্বা তার শরীরের অন্যান্য অংশ যা তাওয়াফের অবস্থায় আবৃত থাকা দরকার, প্রকাশমান থাকে, তাহলে কি তার তাওয়াফের ক্ষতি হবে? আর যদি মাথার চুল প্রকাশিত থাকা অবস্থায় তাওয়াফ সম্পাদন করে তাহলে কি তার তাওয়াফ বাতিল হবে?
উত্তর : যদি ইচ্ছাকৃত হয়, তাহলে অধিকতর সতর্কতার ভিত্তিতে তাওয়াফ সঠিক নয়।’ আর ইচ্ছাকৃত ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে সঠিক। তবে অধিকতর সতর্কতার ভিত্তিতে, শুধুমাত্র যে ব্যক্তি নিজ দোষে অজ্ঞ থাকে, তার ক্ষেত্রে ব্যতীত।
প্রশ্ন-৬০২: তাওয়াফ অবস্থায় পানাহার করা কি জায়েজ?
উত্তর: নিষেধ নেই।
প্রশ্ন-৬০৩ : একটি নাবালক শিশু পিতার অনুমতিক্রমে ইহরাম বাঁধে এবং অর্ধসমাপ্ত তাওয়াফকে যথেষ্ট মনে করে ছেড়ে দেয়। আর সাঈকেও দ্বিতীয় তলা থেকে
সম্পন্ন করে। এমতাবস্থায় তার কর্তব্য কি?
উত্তর : যদি প্রথম থেকেই সাত পাকের নিয়ত না করে থাকে তাহলে তার তাওয়াফ বাতিল এবং তাওয়াফ, নামায ও সাঈকে পুনঃ আদায় করতে হবে। অতঃপর তাকছীর (চুল ছাঁটাই বা নখ কাটা) করতে হবে।
প্রশ্ন-৬০৪: যে ব্যক্তি ষষ্ঠ পাকে তার তাওয়াফকে ত্যাগ করে এবং তা অব্যাহত রাখতে পারে নি এবং অন্য একজন তদ্স্থলে অবশিষ্ট তাওয়াফকে সম্পন্ন করলো, কিন্তু তাওয়াফের নামায সে নিজেই পড়েছে এবং পরবর্তীতে বুঝতে পেরেছে যে, তাওয়াফের মধ্যে বিশ্রাম তাওয়াফের ক্ষতি করে না। এবং সে নিজেই বিশ্রাম সেরে তাওয়াফকে সম্পন্ন করতে পারতো। এমতাবস্থায় তার কারণীয় কি?
উত্তর: তাওয়াফের অবশিষ্ট অংশকে সম্পূর্ণ করবে এবং নামায পুনঃ আদায় করবে।
প্রশ্ন-৬০৫: যদি কেউ রোকনে ইয়ামেনীকেই নিশ্চিতভাবে
রোকনে হাজারুল আসওয়াদ বলে মনে করে, এ কারণে তাওয়াফকে রোকনে ইয়ামেনী থেকে হাজারুল আসওয়াদ হিসাবে আরম্ভ করে এবং পুরোপুরি সাতপাক সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে বুঝতে পারে যে তার ঐ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়াটা ভুল ছিল। এমতাবস্থায় তার কর্তব্য কী?
উত্তর: উপরোক্ত তাওয়াফ বাতিল। তা পুনঃ আদায় করতে হবে।
প্রশ্ন-৬০৬ : মানুষ অনেক সময় এমন সন্দেহ করে যে, আমার তাওয়াফের এই পাকটি নষ্ট হয়ে গেছে কি-না? এক্ষেত্রে কি তাওয়াফ শেষ হওয়ার পর এক পাককে সতর্কতা হিসাবে সাত পাকের সাথে যোগ করবে এবং তারপরে নামায পড়বে? উত্তর : এ ধরনের দ্বিধা-সংশয়ের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা ঠিক নয়। আর যদি
তাওয়াফের কিছু অংশে সমস্যা সৃষ্টি হয় তাহলে ঐ অংশটুকুই সংশোধন করতে হবে।
তা সংশোধন করা ব্যতিরেকে তাওয়াফের নিয়তে তা অব্যাহত রাখা তাওয়াফে সমস্যার কারণ হবে। আর তাওয়াফের পরে সতর্কতামূলকভাবে এক পাক সম্পন্ন করা সমস্যার সমাধান করবে না।
প্রশ্ন-৬০৭ঃ ওয়াজিব তাওয়াফে যেসব শর্ত পালন করা আবশ্যক তা কি মুস্তাহাব তাওয়াফেও বিদ্যমান?
উত্তর: দৃশ্যত যা কিছু হজ্বের আমলের মধ্যে ব্যতিক্রম করা হয়নি তার সবকিছুই বিদ্যমান থাকবে।
প্রশ্ন-৬০৮: মুস্তাহাব তাওয়াফে নারীরা জানে যে পুরুষের শরীরের প্রতি তাকাবে
এবং কখনো বা পুরুষদের ভিড়ের চাপের মধ্যে পড়ে যাবে। শরিয়তের দৃষ্টিতে এতে কি কোনো সমস্যা নেই?
উত্তর: যদি সুযোগ থাকা অবস্থায় না-মাহরামের প্রতি না তাকায় তাহলে অসুবিধা
নেই। তবে ভিড়ের মধ্যে মেনে চলা উত্তম। তবে সর্বাবস্থায় তাওয়াফ সঠিক।
প্রশ্ন-৬০৯ : মুস্তাহাব তাওয়াফসমূহেও কি খতনার শর্ত রয়েছে? উত্তরঃ হ্যাঁ, শর্ত রয়েছে।
প্রশ্ন-৬১০ : মুস্তাহাব তাওয়াফের প্রত্যেকটি পাককে কি একজন করে মুমিনের নিয়তে সম্পন্ন করা যায়? নাকি সমুদয় সাত পাককে একজনের নিয়্যতে সম্পন্ন করতে হবে?
নিয়তে পালন করা যায়।
উত্তর : এক পাকে প্রতিনিধিত্ব সঠিক নয়। তবে সবগুলো পাককে কয়েক জনের
প্রশ্ন-৬১১ : মুস্তাহাব তাওয়াফকে কি ওয়াজিব তাওয়াফের গনী সীমার বাইরে সম্পাদন করা জায়েজ?
উত্তর : জায়েজ নয়’ কেবল জরুরি ক্ষেত্র ছাড়া।
প্রশ্ন-৬১২ : যদি হাজী মিনা থেকে প্রত্যাবর্তন করে এবং ওয়াজিব তাওয়াফ এখনো সম্পন্ন না করে থাকে, এমতাবস্থায় কি মুস্তাহাব তাওয়াফ সম্পন্ন করতে পারবে?
উত্তর : সতর্কতা হলো যতক্ষণ ওয়াজিব আমলসমূহ সম্পাদন করেনি ততক্ষণ মুস্তাহাব তাওয়াফ করবে না।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)
