মাসআলা (১): প্রত্যেক মুকাল্লাফ ব্যক্তিকে যেসব মাসআলা জানার সাথে দৈনন্দিন শারয়ী কর্তব্যসমূহ পালনের সম্পর্ক থাকে সেগুলো শিখতে হবে। যেমন : নামায, রোযা, পবিত্রতা, কিছু কিছু লেনদেন ইত্যাদি সম্পর্কিত মাসায়েল। আর যদি মাসআলা না শেখার ফলে কোনো ওয়াজিব কাজ তরক কিংবা কোনো হারাম কাজে পতিত হওয়ার কারণ ঘটে তাহলে সে গুনাহগার সাব্যস্ত হবে।
মাসআলা (২) : মুকাল্লাফ বলা হয় সেই ব্যক্তিকে, যার মধ্যে তাকলীফের শর্তাবলী বিদ্যমান থাকে।
মাসআলা (৩) : তাকলীফের শর্তগুলো হচ্ছে যথাঃ ১. সাবালক হওয়া। ২. সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া। ৩. সক্ষম থাকা।
মাসআলা (৪) : সাবালক হওয়ার কয়েকটি আলামত রয়েছে। যথা : ১. তলপেটে (লজ্জাস্থানের উপরে) মোটা লোম গজানো। ২. স্বপ্নদোষ (বীর্য নির্গমন) ঘটা। ৩. বালকদের ক্ষেত্রে বয়স চান্দ্রমাসের ১৫ বছর পূর্ণ হওয়া আর বালিকাদের ক্ষেত্রে চান্দ্রমাসের ৯ বছর পূর্ণ হওয়া।
মাসআলা (৫) : যতক্ষণ অবধি কোনো ব্যক্তির মধ্যে সাবালকত্বেও কোনো একটি আলামত দেখা না যাবে ততক্ষণ শারয়ীভাবে তাকে সাবালক বলা যাবে না এবং কোন শারয়ী আহকাম পালন করা তার কর্তব্য নয়।
মাসআলা (৬) : তাকলীফের বয়স হওয়ার আগেই লজ্জাস্থানে লোম গজানো কিংবা স্বপ্নদোষ ঘটার (আলামত) প্রকাশ পেয়েছে, কেবল এরূপ সম্ভাবনা সাবালকের হুকুমে ফেলার জন্য যথেষ্ট হবে না।
মাসআলা (৭) : মেয়েরা ৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে যে রক্ত দেখে তা তাদের সাবালিকা হওয়ার শারয়ী চিহ্ন নয়।
মাসআলা (৮) : সাবালকত্বেও বয়স নির্ধারণে হিজরী চান্দ্রমাসই মাপকাঠি। কাজেই যদি সৌরবর্ষ অনুযায়ী কারো জন্ম তারিখ জানা থাকে তাহলে সৌরবর্ষ ও চান্দ্রবর্ষেও ব্যবধানের হিসাবের ভিত্তিতে তা চান্দ্র মাসের হিসাবে নিরূপণ করা যায়। (প্রত্যেক চান্দ্রবর্ষ, সৌরবর্ষেও তুলনায় ১০ দিন, ২১ ঘন্টা ১৭ সেকেন্ড কম)।
