প্রশ্নঃ ১) তাক্বলীদ কাকে বলে?
উত্তরঃ ফতোয়া প্রদান করার এবং মারজা হওয়ার পূর্ণ যোগ্যতাসম্পন্ন একজন মুজতাহিদের তাকলীদ করা ওয়াজিব। এহতিয়াত অনুযায়ী যিনি আ-লামও হবেন।
প্রশ্নঃ ২) তাক্বলীদ ওয়াজিব হওয়ার বিধানটি তাকলীদি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নাকি ইজতেহাদী বিষয়ভুক্ত ?
উত্তরঃ এটি একটি ইজতেহাদী ও আঁকলি বিষয়।
প্রশ্নঃ ৩) আপনার দৃষ্টিতে এহতিয়াতের মাধ্যমে আমল করা উত্তম নাকি তাক্বলীদের মাধ্যমে আমল করা উত্তম ?
উত্তরঃ যেহেতু এহতিয়াতের মাধ্যমে আমল করতে হলে তার ক্ষেত্রসমূহ সম্পর্কে এবং এহতিয়াতের পদ্ধতি সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়। অথচ মুষ্ঠিমেয় ব্যক্তি ছাড়া এ দুটি বিষয়ে জ্ঞান রাখে না। উপরোক্ত এহতিয়াতের মাধ্যমে আমলের ক্ষেত্রে প্রায়শঃই অধিক সময় ব্যয় করার প্রয়োজন দেখা দেয়, কাজেই পূর্ণশর্ত সম্পন্ন মুজতাহিদকে তাকলীদ করাই বরং শ্রেয়।
প্রশ্নঃ ৪) একজন মারজা নির্বাচন এবং তাঁর ফতোয়া হাতে পাওয়ার উপায়সমূহ কি কি ?
উত্তরঃ মারজায়ে তাক্বলীদের ইজতিহাদ অথবা আ-লামত্ব প্রমানিত হতে হবে যাচাইয়ের মাধ্যমে। অথবা নিশ্চিত জ্ঞানের মাধ্যমে এমনকি যদি তা তাঁর সুখ্যাতি থেকে অর্জিত হয় যা তাঁর ব্যাপারে নিশ্চিত হতে সাহায্য করে। অথবা অর্জিত আস্থার মাধ্যমে অথবা দুজন বিশেষজ্ঞ আদেল ব্যক্তির সাক্ষের মাধ্যমে। আর মারজায়ে তাকলীদের ফতোয়া হাতে পাওয়ার উপায় সমূহ হল নিজে মারজার মুখ থেকে শোনা অথবা দুজন আদেল ব্যক্তির বর্ণনা থেকে জানা, এমনকি একজন আদেল ব্যক্তি হলে চলবে। অথবা কোন বিশ্বস্ত ব্যক্তির বর্ণনা থেকে যার কথায় আস্থা আসে অথবা মুজতাহিদের রেসালাহ (ফতোয়া) বইয়ের সাহায্য নেয়া যার মধ্যে ভুল-ক্রটি নেই।
প্রশ্নঃ ৫) বেলায়াতের ফকীহ্র এ মূলনীতিটির অর্থগত এবং ব্যবহারিক উভয় ক্ষেত্রে বিশ্বাস করা কি আকাল বা বুদ্ধিপ্রসূত বিষয় নাকি শারয়ী বিষয়?
উত্তরঃ একজন ন্যায়বান এবং দ্বীনের অভিজ্ঞ ফকীহর শাসন অর্থে বেলায়েতে ফকীহর মূলনীতিতে বিশ্বাস করা ধর্মের শারয়ী নির্দেশ। সেটাকে বুদ্ধিও সমর্থন করে। আর ব্যবহারিক দিক থেকে তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতি রয়েছে যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সংবিধানে স্পষ্ট বর্ণিত হয়েছে।###
সুত্রঃ আজবেবাতুল ইস্তিফতাআত (ওলীয়ে আমরে মুসলিমীনে জাহান হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহুল অলী)- এর ফতোয়া সংকলন)
