১০১৭. যে রাতগুলোতে মিনায় রাত্রিযাপন করা ওয়াজিব, সেগুলোর দিনের বেলায় তিন জামারাহতে কঙ্করও নিক্ষেপ করতে হবে। অর্থাৎ তিনটি জামারাহ, যথাঃ জামারাহ-ই-উলা, জামারাহ-ই উচ্চতা এবং জামারাহ-ই-আকাবাহ’য় কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে। কিন্তু যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সেগুলোর সবকয়টিকে বর্জন করে, তার হজ্বে ক্ষতি হবে না, হজ্ব সঠিক হবে। যদিও ইচ্ছাকৃতভাবে বর্জন করলে সে পাপ করলো।
১০১৮. যে সব লোকের যিলহজ্বের ১৩তম রাতকে মিনায় যাপন করতে হবে, তাদের জন্য ১৩তম দিনেও কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব।
১০১৯. প্রত্যেকটি জামারাহ’য় প্রত্যেক দিনে যতগুলো কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে তার সংখ্যা হলো সাতটি। আর সেগুলো নিক্ষেপ করার পদ্ধতি, শর্তাবলী ও তার ওয়াজিব দিকগুলো ইতঃপূর্বে জামারাহ-ই-আকাবার বেলায় যেভাবে বর্ণিত হয়েছে হুবহু সে রকম।
১০২০. কঙ্কর নিক্ষেপের সময় হলো যে রাতে রাত্রিযাপন করেছে, তার সূর্যোদয়ের প্রথম থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। রাতের বেলায় এটা করা জায়েজ নয়।
১০২১. যাদের দিনের বেলায় এই আমল করতে অক্ষমতা রয়েছে যেমন- রাখাল, অসুস্থ ও দুর্বল ব্যক্তি কিম্বা যে অত্যধিক ভিড়ের আশঙ্কা করে প্রভৃতি, তাদের জন্য ঐ দিন রাতে অথবা পরবর্তী রাতে তা সম্পন্ন করা জায়েজ।
১০২২. কঙ্কর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা মেনে চলা ওয়াজিব। অর্থাৎ প্রথমে জামারাহ্-ই-উলা, অতঃপর জামরাহ-ই-উচ্চতা এবং তারপর জামারাহ-ই-আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে।
১০২৩. যদি উল্লেখিত ধারাবাহিকতা সহকারে সম্পন্ন করা না হয়, তাহলে যেগুলোর বেলায় ধারাবাহিকতার লঙ্ঘন করেছে, সেগুলো পুনরায় সম্পন্ন করবে যাতে ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি প্রথমে জামারাহ-ই উদ্ধৃতায় নিক্ষেপ করে অতঃপর জামারাহ-ই-উলায় নিক্ষেপ করে থাকে, তাহলে জামারাহ-ই-উদ্ধৃতায়
পুনরায় নিক্ষেপ করলেই যথেষ্ট হবে। আর তারপরে জামারাহ-ই-আকাবায় নিক্ষেপ করলেই হবে। জামারাহ-ই-উলায় পুনঃ নিক্ষেপ করার দরকার নেই।
১০২৪. পূর্ববর্তী মাসআলায় যে নির্দেশ বর্ণিত হয়েছে, সেক্ষেত্রে তা জাতসারে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ধারাবাহিকতা লঙ্ঘন করুক আর ভুলবশত ও অনিচ্ছায় করে থাকুক, এতে কোনো পার্থক্য নেই। সর্বাবস্থায়ই তা পুনঃআদায় করতে হবে।
১০২৫. কেউ যদি কোন একটি দিনে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে ভুলে যায়, তাহলে পরবর্তী দিনে তার কাযা করা ওয়াজিব। আর যদি দুই দিনকে ভুলে যায় তাহলে পরবর্তী দিনে উভয় দিনেরই কাযা আদায় করবে।
১০২৬. কাযাকে আদা (তথা বর্তমান আমলের) ওপরে অগ্রগণ্য করতে হবে। কাজেই যদি যিলহজ্বের ১১তম দিনে ঈদের দিনের কাযা পালন করতে চায়, তাহলে প্রথমে কাযা আদায় করবে, তারপরে ১১তম দিনের আমলকে পালন করবে, যা বর্তমান কর্তব্য। একইভাবে, আগের দিনের কাযাকে পরের দিনের কাযার আগে অগ্রগণ্য করতে হবে। সুতরাং উদাহরণস্বরূপ, যদি যিলহজ্বের তেরতম দিনে ঈদের তথা ১০ম দিনের এবং ১২তম ও ১৩তম দিনের কাযা আদায় করতে চায়, তাহলে ঈদের দিনের কাযা থেকে শুরু এবং ১৩তম দিনের আমল সম্পাদনের মাধ্যমে তা শেষ করতে হবে।
১০২৭. যেমনভাবে তিন জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপের কাযা পালন করা ওয়াজিব, একইভাবে, সেগুলোর কিছু কিছু অংশের কঙ্কর নিক্ষেপ যদি বর্জন করা হয়, তাহলে তারও কাযা পালন করা ওয়াজিব। সুতরাং যদি যিলহজ্বের এগারতম দিনে জামারাহ্- ই-উলায় কঙ্কর নিক্ষেপ করে এবং বাকি দুটো কঙ্কর নিক্ষেপ না করে তাহলে পরের দিন তা পালন করবে। অতঃপর ঐ দিনের কর্তব্য পালন করবে।
১০২৮. যদি পরের দিন বুঝতে পারে যে, আগের দিন জামারাতের ধারাবাহিকতার বরখেলাপ করে কঙ্কর নিক্ষেপ করেছে, তাহলে তার কাযা করতে হবে, যাতে ধারাবাহিকতা অর্জিত হয়। অতঃপর দিনের কর্তব্য পালন করবে।
১০২৯. যদি প্রত্যেকটি জামারাহ’য় কিম্বা সেগুলোর কোনো কোনোটায় চারটি করে পাথর নিক্ষেপ করে থাকে এবং পরবর্তী দিনে তার মনে পড়ে, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো পূর্ববর্তী দিনগুলোর অবিশষ্টগুলোকেও কাযা করবে। অতঃপর সেদিনের কর্তব্য পালন করবে।
১০৩০. কেউ যদি তিন জামারাহতে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে ভুলে যায় এবং মিনা থেকে বের হয়ে মক্কায় চলে আসে, এমতাবস্থায় যদি তাশরীকের দিনগুলোতে তার মনে পড়ে, তাহলে ফিরে আসতে হবে এবং তা পালন করতে হবে। আর যদি সক্ষম না থাকে, তাহলে প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে হবে। আর যদি তাশরীকের দিনগুলোর পরে তার মনে পড়ে কিম্বা ইচ্ছাকৃতভাবে ফেলে রাখে পরবর্তী সময়ের জন্য তাহলে
সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো সে নিজে কিম্বা তার প্রতিনিধি মক্কা থেকে ফিরে আসবে এবং তা পালন করবে। আর পরবর্তী বছরও যেসব দিনের কঙ্কর নিক্ষেপ বাদ গেছে, সে নিজে কিম্বা তার প্রতিনিধি তার কাযা পালন করবে।
১০৩১. যদি জামারাহ’য় কঙ্কর নিক্ষেপ করতে ভুলে যায়, আর মক্কা থেকে বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত তার মনে না আসে, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো পরবর্তী বছরে সে নিজে কিম্বা তার প্রতিনিধি এর কাযা করবে।
১০৩২. যে ব্যক্তি কোনো কোনো জামারাহকে ভুলে যায়, তার নির্দেশ হলো পূর্ববর্তী দুই মাসআলায় বর্ণিত নির্দেশের মত। বরং যে ব্যক্তি সকল জামারাহ’য় কিম্বা কোনো কোনো জামারাহ’য় সাতটি পাথরের চেয়ে কম নিক্ষেপ করেছে সেও সতর্কতামূলক ওয়াজিব অনুযায়ী এই একই নির্দেশভুক্ত হবে।
১০৩৩. যে ব্যক্তির পাথর নিক্ষেপ করার ক্ষেত্রে অক্ষমতা রয়েছে, যেমন অসুস্থ কিম্বা শিশু, যে পাথর নিক্ষেপ করতে পারে না অথবা পঙ্গু ব্যক্তি যার হাত কিম্বা পা ভেঙ্গে গেছে অথবা অত্যধিক দুরবস্থার কারণে অথবা বেহুশ থাকার কারণে যদি সক্ষম না হয়, তাহলে তার প্রতিনিধি একাজ করবে। আর যদি প্রতিনিধি নিযুক্ত করতেও অক্ষম হয় যেমন বেহুঁশ ও ছোট শিশু হয়, তাহলে তার অভিভাবক কিম্বা তার পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তি তা পালন করবে। আর সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজে পালন করার বিষয়ে নিরাশ না হবে, ততক্ষণ প্রতিনিধি তা করবে না।’ সবচেয়ে উত্তম হলো যদি সম্ভব হয়, তাহলে ওযর সম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়ে যাবে এবং তার উপস্থিতিতে কঙ্কর নিক্ষেপ করবে। আর যদি সম্ভব হয়, তাহলে পাথরকে তার হাতে রাখবে ও নিক্ষেপ করবে।
১০৩৪. যদি আমল সম্পন্ন করার পরে অক্ষমতা দূরীভূত হয়ে যায়, তাহলে তাকে ঐ আমলের জন্যে প্রতিনিধি নিয়ে আসার দরকার নেই। যদিও সেটা অধিকতর সতর্কতা।
১০৩৫. যদি অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার ব্যাপারে নিঃরাশ হয় কিম্বা অক্ষম ব্যক্তি তার অক্ষমতা দূরীভূত হওয়ার বিষয়ে নিঃরাশ হয়, তাহলে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা ওয়াজিব। আর যদি নিঃরাশ না থাকে তাহলেও প্রতিনিধি নিযুক্ত করতে পারবে। কিন্তু যদি সমস্যা দূর হয়ে যায়, তাহলে সতর্কতা হলো সে নিজেই তা পালন করবে।
১০৩৬. যে দিন কঙ্কর নিক্ষেপ করা ওয়াজিব ছিল সেদিনটি অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরে যদি সন্দেহ করে যে সে তা পালন করেছে কি-না, তাহলে ভ্রুক্ষেপ করবে না।
১০৩৭. যদি নিক্ষেপ করার পরে সন্দেহ করে যে সঠিক ছিল কি-না, তাহলে ভ্রূক্ষেপ করবে না।
১০৩৮. যখন জামারাহ-ই-আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপে ব্যস্ত রয়েছে, তখন যদি জামারাহ্ উলা বা উছতাকে কিম্বা উভয়কে সম্পন্ন করেছে কি-না এমন সন্দেহ সৃষ্টি হয়, তাহলে ভ্রূক্ষেপ করবে না।
১০৩৯. যদি সংখ্যার ব্যাপারে সন্দেহ করে যে, পাথর সাতটি ছিল, নাকি তার চেয়ে কম, তাহলে পরবর্তী জামারাহ’য় কঙ্কর নিক্ষেপে লিপ্ত হওয়ার আগে যে কয়টি কম হওয়ার ব্যাপারে আশংকা করবে, সেগুলো সম্পন্ন করবে। যাতে নিশ্চিত হয় যে সাতটিই হয়েছে। যতই একাজ থেকে অবসর হয়ে থাকুক না কেন, কিম্বা অন্যান্য কাজে লিপ্ত হোক না কেন। (সতর্কতামূলক ওয়াজিব অনুযায়ী)
১০৪০. যদি তিন জামারাহর প্রত্যেকটিতে পাথর নিক্ষেপ করার পর নিশ্চিত হয় যে, এর একটি জামারাহ’য় একটি কিম্বা দু’টি কিম্বা তিনটি পাথর কম হয়ে গেছে, তাহলে যে কয়টি কম হওয়ার ব্যাপারে সম্ভাবনা দেখা দেবে, সে কয়টিকে তিন জামারাহ’র প্রত্যেকটিতে নিক্ষেপ করবে।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)
