কুরআন মজীদে যে চার মাসকে ‘আরবাআতুন হুরুম’ বলা হয়েছে মাহে রজব সেই মাসগুলোর অন্যতম। অন্য তিন মাস হল যিলকদ, যিলহজ্ব ও মহররম। এ চার মাসকে আশহুরে হুরুম এজন্য বলা হয় যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে এ মাসগুলি অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ।
মানুষের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই অতি মূল্যবান। কেননা, এ মুহূর্তগুলির মূল্যায়ণ ও অবমূল্যায়ণের উপরই তার সফলতা ও ব্যর্থতা নির্ভর করে। জীবনের মুহূর্তগুলি মহান আল্লাহর দান। তিনি দেখতে চানÍ কে কত বেশি সৎকর্মের মাধ্যমে এ মুহূর্তগুলিকে সফল করে তোলে। এজন্য জীবনের একটি মুহূর্তও হেলায় বিনষ্ট করা উচিত নয়, পূর্ণ সতর্কতা ও সচেতনতার সঙ্গে তা কাজে লাগানো উচিত।
মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি যাই হোক না কেন সে তার জীবনের কিছু কিছু মুহূর্তকে অত্যন্ত মূল্যবান বিবেচনা করে। তার বিবেচনায় সেই বিশেষ মুহূর্তের সতর্কতা ও সচেতনতা জীবনকে অনেক দূর অগ্রসর করে দেয়। এই সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হলে সে আনন্দিত হয়, এগুলো হল মানুষের নিজস্ব বিবেচনা, কিন্তু মানুষ এই বিবেচনাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
মহান আল্লাহও তাঁর বান্দাদেরকে এমন কিছু সময় দান করেছেন যে সময়ে তার বাড়তি সতর্কতা ও সচেতনতা কাম্য। এই বাড়তি সচেতনতাটুকু দ্বারা আল্লাহর নৈকট্যের পথে অন্য অনেক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি অগ্রসর হওয়া সম্ভব। তাই আল্লাহপ্রেমিক বান্দাগণ এই সময়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ‘আশহুরে হুরুমে’র অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রজব মাসের মুহূর্তগুলিও সেই বিশেষ মনোযোগের দাবিদার।
রজবের পর শাবান। এরপরই রমাযান। মাহে রমাযানের পূর্ণ রহমত ও বরকত লাভ করতে এখন থেকেই সচেতন হওয়া কর্তব্য। গুনাহ ছেড়ে নেক আমলের দিকে ধাবিত হওয়ার অত্যন্ত মূল্যবান উপলক্ষ আমাদের সামনে উপস্থিত। এর যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য অর্জনে সক্ষম হতে পারি।
565
আগের পোস্ট
