ঈমান আনয়নের পুনঃ আদেশের কারণ
এখানে একটি বিষয় উত্থাপিত হয় যে, এ আয়াতে ‘তোমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন কর’- ঈমান আনয়নের এমন পুনঃ আদেশের কারণ কী? তবে কি আয়াতে যাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে তারা ঈমান আনয়ন করে নি? কেননা আয়াতের শুরুতে তো এভাবে সম্বোধন করা হয়েছে‘হে মু’মিনগণ!’ তাহলে কেন পুনরায় মু’মিনদের প্রতি আল্লাহ ও রাসূলের উপর পুনরায় ঈমান আনয়ন করার আদেশ করা হচ্ছে? তারা তো সবাই ঈমানদার ছিল, তাহলে দ্বিতীয়বার কেন ঈমানের আদেশ এসেছে? এ প্রশ্নের উত্তরে দু’টি সম্ভাব্য বিষয় রয়েছে; যথা: প্রথম সম্ভাব্য বিষয়টি হচ্ছে- এখানে বিশেষ গুরুত্বারোপের কারণে তাদেরকে ঈমানের উচ্চতর স্তরের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা তখন পর্যন্ত সবাই আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান পোষণ করেছিল এবং মুসলমানদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আয়াতের এ পর্যায়ে তাদের ঈমানকে আরও সুদৃঢ়করণ এবং ঈমানের স্তরকে উন্নীতকরণের আদেশ দেয়া হয়েছে। যেমনভাবে পবিত্র কুরআনের অপর এক সূরাতে এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে-
‘হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন কর।’ এখানেও ঈমানদারদের প্রতি ঈমান আনয়নের আদেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ এমন আদেশের মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহর প্রতি ঈমানকে যতটুকু সম্ভব সুদৃঢ়, সুগভীর, অধিকতর শক্তিশালী এবং পরিশুদ্ধ করা।
দ্বিতীয় যে সম্ভাব্য বিষয় এ আয়াতে রয়েছে, তা হচ্ছে- ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর।’ এখানে এ অর্থে আসে নি যে, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন কর; অর্থাৎ তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর যে, আল্লাহ বিদ্যমান এবং তোমরা বিশ্বাস স্থাপন কর যে, রাসূল অস্তিত্বমান- এ বিষয়টি তো সুস্পষ্ট ও প্রতীয়মান। বরং এখানে ঈমান আনয়ন বলতে এ বিষয়ের প্রতি ইশারা করা হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের জিহাদের প্রতি আদেশের উপর বিশ্বাস স্থাপন কর বা তা মান্য কর। কেননা সমাজে এমন লোক রয়েছে যারা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস পোষণ করে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে জিহাদের আদেশ দেয়া না হয় কিংবা রাসূলের প্রতি আকিদা পোষণ করে যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি তাদেরকে জিহাদের প্রতি আহ্বান না জানান। যতক্ষণ পর্যন্ত কষ্ট, বেদনা, নিদ্রাহীনতা, অভাব-ক্ষুধা, স্ত্রী ও সন্তানাদি থেকে দূরে অবস্থানের কোন বিষয় না থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত একশ্রেণীর লোক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ও আল্লাহকে মেনে চলে; অনুরূপভাবে রাসূলের প্রতিও তেমন আকিদা পোষণ করে। কিন্তু যখনই তারা কোন বিপদাপদ কিংবা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হয়, তখনই না তারা আল্লাহর বান্দা হিসেবে স্বীকার করে, না রাসূলের (সা.) অনুগত উম্মত হিসেবে। যদি তাদের পক্ষে সম্ভব হত তাহলে বলত, না আল্লাহ আমাদের নিকট থেকে এমন কিছু চেয়েছেন, না রাসূল (সা.) আমাদের প্রতি এমন কোন আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু যখন তাদের পক্ষে এমনটি বলা সম্ভব হয় নি এবং তারা এমনটি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি জিহাদের আদেশ দিয়েছেন ও রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে এ কাজে আহ্বান জানিয়েছেন; তখন তারা গড়িমসি শুরু করে দেয় এবং উক্ত আদেশ উপেক্ষা করে।
57
আগের পোস্ট
