সূরা সাফফের তাফসীর

by Syed Yesin Mehedi

হযরত মূসা (আ.) তাদেরকে বলেন যে, যদি তোমরা ঐ পবিত্র ভূ-খণ্ডে প্রবেশ কর তবে তোমাদের বিজয় হবে। এ ভূ-খণ্ডে যদি তোমরা প্রতিরোধ সংগ্রাম এবং শত্রুদের মোকাবেলা কর, তবে কেউ তোমাদের পরাস্ত করতে পারবে না। এমন নিশ্চয়তা দেয়ার পরও তারা নানাবিধ টালবাহানা ও গড়িমসি শুরু করে দেয় এবং হযরত মূসাকে (আ.) বলে-
সেখানে অতিশয় বলদর্পী এক সম্প্রদায় রয়েছে, এবং তারা সে স্থান থেকে যতক্ষণ বের না হচ্ছে কিছুতেই আমরা সেখানে প্রবেশ করব না। এমনকি তাদের ধৃষ্টতা ও ঔদ্ধত্য এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে, তারা স্বীয় নবী হযরত মূসাকে (আ.) উদ্দেশ্য করে বলে,
“তারা বললঃ হে মূসা! আমরা কখনই সেখানে প্রবেশ করব না, যতক্ষণ তারা সেখানে অবস্থান করছে; তাই আপনি এবং আপনার প্রতিপালক উভয়ে যান এবং যুদ্ধ করুন, আমরা এখানেই বসে থাকব।”
বর্তমানেও মুসলিম জাতিসমূহের মধ্যে এমন অনেক গোষ্ঠী রয়েছে যাদের অবস্থাও হযরত মূসার (আ.) সম্প্রদায়ের অনুরূপ। কিছু কিছু মুসলমানের অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় তারা মনে করে যে, বিজয়কে উপঢৌকনের মোড়কে আবৃত করে তাদের সম্মুখে উপস্থাপন করলে তারা কেবল তা গ্রহণ করবে। কিন্তু তাদের জানা উচিত বিজয় কখনও উপঢৌকন হিসেবে আসে না; বরং বিজয়কে অব্যাহত চেষ্টা ও সাধনার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। আপনারা যদি একটু দৃষ্টিপাত করেন, তাহলে বুঝতে পারবেন যে, যে সব জাতি সাম্রাজ্যবাদী অপশক্তি ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনে সক্ষম হয়েছে; তারা সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম ও চেষ্টা-সাধনার বদৌলতে সে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছে। চাই সেটা আফ্রিকা অঞ্চলের কোন মুসলিম জাতি হোক কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের কোন মুসলিম দেশ হোক অথবা অন্য কোন অঞ্চল কিংবা অন্য কোন জাতি হোক না কেন। একমাত্র আপোষহীন সংগ্রাম ও বিপ্লবের মাধ্যমেই একটি জাতি চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে পারে। আমাদের এ দেশ (ইরান) এবং আমাদের জাতিও আপোষহীন সংগ্রাম ও বিপ্লবের মাধ্যমেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনে সক্ষম হয়েছে; আর এ বিজয় অব্যাহত চেষ্টা ও সাধনার মাধ্যমে, প্রাণ বিসর্জন ও রক্ত ঝরানোর মাধ্যমে এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে হস্তগত হয়েছে। বিজয় তো কখনও অনায়াসে আসে না এবং তা তো উপঢৌকন হিসেবেও পাওয়া যায় না। এটা এমন নয় যে, কেউ এসে বলবে- আপনারা তো এতদিন অবহেলিত ও মজলুম জাতি হিসেবে ছিলেন; আসুন, এখন বিজয়ের আসনে উপবেশন করুন!!! এমনটি কী আদৌ সম্ভব? না এমনটি কখনও বাস্তবসম্মত নয়। বরং এটা সহজাত নিয়মের পরিপন্থী এবং ইতিহাসের প্রচলিত প্রথা বিরোধী।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔