আর্থিক ও শারীরিক জিহাদ
যখন মু’মিনরা জিহাদের প্রতি বিশ্বাস পোষণ করবে, তখন এ বিশ্বাসের প্রতিফল কি হবে? এ সম্পর্কে আয়াতের ধারাবাহিকতায় উল্লেখ করা হচ্ছে- ‘তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ কর।’ এখন জিহাদ কিভাবে করতে হবে, সে সম্পর্কে বলা হচ্ছে- ‘তোমাদের ধন-সম্পদের মাধ্যমে’ অর্থাৎ এখানে প্রথমে সহজসাধ্য বিষয় থেকে শুরু করা হয়েছে; জিহাদের প্রথম ধাপ হচ্ছে ধন-সম্পদ। যদি তোমাদের ধন-সম্পদের বিনিময়ে সমস্যা নিরসন হয়ে যায় তবে আল্লাহর পথে তা দান কর। আর যদি শুধু সম্পদ দান যথেষ্ট না হয় তবে সেক্ষেত্রে করণীয় হচ্ছে, ‘তোমাদের জীবনের বিনিময়ে (জিহাদ কর)।’ তথা সে অবস্থাতে তোমরা নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ কর। আর এমনটিই হচ্ছে তোমাদের জন্য ফলদায়ক ও লাভজনক ব্যবসা; যার মাধ্যমে তোমরা কষ্টদায়ক শাস্তি ও চরম ক্ষতি থেকে নিস্কৃতি লাভ করবে।
অর্থ ও শরীর দিয়ে জিহাদ অধিক ফলদায়ক ব্যবসা
হয়তো কেউ কেউ বিস্ময়বোধের সাথে এমন প্রশ্নাবলি উত্থাপন করতে পারে যে, এটা কিভাবে সম্ভব আমরা নিজেদের অতীব মূল্যবান জীবন ও কষ্টার্জিত সম্পদকে এভাবে বিসর্জন দিব? তাহলে বিনিময়ে আমরা কি পাব? যদি আমরা জীবন বিসর্জন দিই তবে তো মারা যাব, এমতাবস্থায় কী নিজেদের নগদকে বিসর্জন দিব বাকী কিছুর আশায় (যা হয়তো আগামীতে আমাদের সন্তানাদির ভাগ্যে জুটতে পারে)? অথবা আমাদের হাতে যে ধন-সম্পদ আছে সেগুলো দান করে কী খালি হাত ও নিঃস্ব হয়ে যাব, আমাদের বাড়ী-ঘর বিক্রি করে আল্লাহর পথে দান করব? আমাদের জীবনের সর্বস্ব আল্লাহর পথে বিলিয়ে দিব— এ আশাতে যে এগুলোর বিনিময়ে আল্লাহ আমাদেরকে সওয়াব দান করবেন? এ সব কিছু যা আমাদের আয়ত্তাধীন রয়েছে সেগুলো তো অনেক মূল্যবান। আমাদের জীবন তো অনেক মূল্যবান, আমাদের ধন-সম্পদ তো অনেক দরকারি; এগুলো সবই বিসর্জন দিব? এমতাবস্থায় আল্লাহ আপনাদের এসব প্রশ্নের উত্তরে ঘোষণা করবেন,
“এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা তা জান (ও উপলব্ধি কর)!” (সূরা সাফ্ফ : ১১)
114
আগের পোস্ট
