যাদের উপর রোযা রাখা ওয়াজিব নয়

by Syed Tayeem Hossain

১। যে ব্যক্তি বার্ধ্যকের কারণে রোযা রাখতে অক্ষম অথবা রোযা রাখা তার জন্য কষ্টের কারণ হয় তাহলে ঐ ব্যক্তির উপর রোযা রাখা ওয়াজিব নয়। কিন্তু দ্বিতীয় অবস্থায় (অর্থাৎ রোযা যখন তার জন্য কষ্টের কারণ হয়) প্রতিদিনের রোযার জন্য এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্য ফকিরকে দিতে হবে।
২। যে ব্যক্তি বার্ধ্যকের কারণে রোযা রাখতে অক্ষম যদি সে রমজানের পর রোযা রাখতে সক্ষম হয় তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো যে রোযাগুলি পরিত্যাক্ত হয়েছে তার কাযা আদায় করা।
৩। যদি কোন ব্যক্তি এমন রোগগ্রস্থ হয় যার কারণে সে অধিক পিপাসা অনুভব করে এবং পিপাসা সহ্য করতে না পারে এবং তার জন্য ক্ষতির কারণ হয় এমনাবস্থায় তার উপর রোযা রাখা ওয়াজিব নয়। তবে দ্বিতীয় অবস্থায় (অর্থাৎ পিপাসা যখণ তার জন্য ক্ষতির কারণ হয়) ঐ ব্যক্তিকে এক মুদ্দ পরিমাণ গম ও যব আহার হিসাবে দান করতে হবে এবং এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি পান না করা এবং পরে সে যখন রোযা রাখতে সক্ষম হবে তখন এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে ঐ রোযাসমূহের কাযা আদায় করবে।
৪। ঐ মহিলা যার প্রসবকালীন সময় নিকটবর্তী এবং রোযা তার গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর সেক্ষেত্রে রোযা রাখা ওয়াজিব নয়। তবে তাকে প্রতিদিন এক মুদ্দ পরিমাণ গম বা যব দান করতে হবে। পক্ষান্তরে রোযা রাখা স্বয়ং ঐ মহিলার জন্য যদি ক্ষতিকর হয় তবুও উক্ত মহিলার উপর রোযা রাখা ওয়াজিব নয়। তবে এহতিয়াতে ওয়াজিব হলো প্রতি রোযার জন্য এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্য ফকিরকে দেয়া এবং উপরোক্ত উভয় ক্ষেত্রেই রোযার কাযা আদায় করতে হবে।
৫। যে মহিলা কোন শিশুকে স্তন্য দান করে (দুধ খাওয়ায়) এবং স্তনেও যদি দুধ কম হয়। চাই ঐ মহিলা স্বয়ং শিশুর মা হয় অথবা ধাত্রী মা অথবা কোন কিছুর বিনিময় ব্যতিত দুধ খাওয়ায়, যদি রোযা ঐ শিশুর জন্য (যাকে দুধ খাওয়াচ্ছে) ক্ষতিকর হয় তাহলে ঐ মহিলার উপর রোযা রাখা ওয়াজিব নয়। কিন্তু প্রতিটি রোযার জন্য এক মুদ্দ পরিমাণ যব ও গম ইত্যাদি ফকিরকে দান করতে হবে এবং যদি রোযা স্বয়ং মহিলার জন্য ক্ষতিকর হয় তাহলেও রোযা রাখা তার উপর ওয়াজিব নয় কিন্তু এহতিয়াতে ওয়াজিবের কারণে প্রতিদিনের জন্য এক মুদ্দ পরিমাণ খাদ্য ফকিরকে দিবে এবং এই দুই অবস্থায় উক্ত রোযাসমূহের কাযা পরে আদায় করতে হবে। অবশ্য যদি কোন এমন মহিলা পাওয়া যায় যে বিনা পারিশ্রমিকে শিশুকে দুধ পান করাতে পারে অথবা দুধ খাওয়ানোর পারিশ্রমিক মা বাবা অথবা অন্য কোন অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে পেতে পারে তাহলে এহতিয়অতে ওয়াজিব হলো শিশুটিকে অন্য মহিলার নিকট হস্তান্তর করা এবং নিজে রোযা রাখা।####

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔