স্মরণীয় ঘটনা

by Syed Yesin Mehedi

স্মরণীয় ঘটনা
আয়াতুল্লাহ আল্ উযমা বুরূজারদী শিয়া বিশ্বের একজন মারজায়ে তাক্বলীদ ছিলেন। তিনি শোক দিবসগুলিতে তাঁর গৃহে শোকানুষ্ঠান পালন করছিলেন। এ অনুষ্ঠানসমূহের কোনো এক অনুষ্ঠানে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভাল ছিল না। ফলে তিনি ব্যক্তিগত কক্ষে বিশ্রাম করছিলেন এবং বক্তার বক্তব্য শ্রবণ করছিলেন। সে শোকপ্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিতদের একজন বললো: “যুগের ইমাম ও জনাব বরূজারদীর নিরাপত্তার জন্যে দরূদ বর্ষিত হোক!”
হঠাৎ তারা লক্ষ্য করল যে, তিনি স্বীয় লাঠি দ্বারা দরজায় আঘাত করছেন। তাঁর নিকটবর্তীগণ উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন: “কি আদেশ করতে চান?” এ মহানুভব মারজায়ে তাক্বলীদ বললেন: “কেন আমার নামকে যুগের ইমামের (আ.) নামের পাশে নিয়ে এসেছ? আমি এর উপযুক্ত নই যে, আমার নামকে ইমামের নামের সারিতে নিয়ে আসবে এবং দু’জনের জন্যে দরূদ প্রেরণ করবে।”(আয়াতুল্লাহ সাফী কর্তৃক বর্ণিত।) 
এ দ্বীনী মারজা যিনি যুগের ইমামের প্রতিনিধি, তিনি সম্মত নন যে, তাঁর নাম নিষ্পাপ ইমামের নামের সারিতে আনা হোক। কিন্তু আমাদের অনেকেই বক্রবোধ ও বেয়াদবীর কারণে, দুর্বল ও আপাদমস্তক মুখাপেক্ষী এমন সৃষ্টিবস্তুর নাম, মহাশক্তিধর আল্লাহর নামের পাশে সন্নিবেশ করছে এবং এমনকি সেগুলিকে সমশ্রেণীভুক্ত জ্ঞান করছে।
ইসলাম কর্মপদ্ধতি, উদ্দেশ্য ও অভিসন্ধির প্রতি অতিশয় গুরুত্ব প্রদান করেছে। কুরআন উত্তম কর্মের প্রশংসা করে, না কর্মের আধিক্যের এবং বলে: “লিইয়াব্লু ওয়াকুম আইয়্যুকুম্ আহ্সানু আমালা।” অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে চান যে, তোমাদের মধ্যে কে সবচেয়ে উত্তম কর্ম সম্পাদন করে।
হযরত আলী (আ.) রুকূ অবস্থায় স্বীয় আংটি এক ফকিরকে প্রদান করেন, আর এ কারণে কুরআনের একটি আয়াত অবতীর্ণ হয়। জনগণ ধারণা করে, একটা আংটির জন্যে আয়াত অবতীর্ণ হওয়া এ কারণে ছিল যে, আংটিটার মূল্য শাম ও সিরিয়ার ট্যাক্স ও করের সমপরিমাণ ছিল। অথচ বাস্তব ক্ষেত্রে এ ধরনের মূল্যের একটা আংটি আলীর (আ.) পরহেযগারীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; অনুরূপভাবে আলীর ইনসাফের সঙ্গেও সামঞ্জস্য হয় না যে, তিনি এ ধরনের আংটি পরিধান করবেন আর অন্যরা দরিদ্র ও নিঃস¡ থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা এই যে, “ইন্নামা-অলিয়্যুকুমুল্লাহু ওয়া রাসুলুহূ ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ, আল্লাযীনা ইউক্বীমূনাস্ সালাতা ওয়া ইয়ুতূনায্যাকাতা ওয়াহুম্ রা-কি’য়ূন।” অত্র আয়াতটি তার পরিমাণের উপর নয়, বরং আমলের অবস্থার উপর ভিত্তি করে অবতীর্ণ হয়। আংটির ওজন, ঘনফল এবং মূল্যের উপর ভিত্তি করে নয় বরং নিষ্ঠা ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে অবতীর্ণ হয়।

( সূত্র :  তাফসীরে নামায গ্রন্থ থেকে)

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔