২৮শে রজব ইমাম হোসাইন (আ.)-এর মদীনা থেকে কারবালা সফর

by Syed Yesin Mehedi

২৮শে রজব ইমাম ইমাম হোসাইন (আ.)-এর মদীনা থেকে কারবালা উদ্দেশ্যে সফর উপলক্ষ্যে আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী ট্রাস্ট-এর উদ্যোগে খুলনায় এক বিশেষ মজলিস অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত ২৮শে রজব, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ (শনিবার), বাদ মাগরিব এ মজলিসের সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, দোয়া ইমামে জামান (আ.) ও মার্সিয়া মাধ্যমে।
মজলিসে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষা বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ইমাম হোসাইন (আ.)-এর মদীনা থেকে কারবালার সফর ছিল একটি আধ্যাত্মিক সফর। তিনি উক্ত সফরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন এবং উম্মতে মোহাম্মাদীকে সত্যের পথে আহ্বান জানান। ২৮ শে রজব ৬০ হিজরীতে তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক সফর শুরু করেন। সে সময় মদীনার গভর্ণর ছিল ওয়ালিদ বিন আতিক্বা, মাবিয়ার মৃত্যুর পরে তাকে নির্দেশ দেয়া হয় সে যেন ইমাম হোসাইন (আ.)-এর কাছ থেকে বাইয়াত গ্রহণ করে। ইমাম হোসাইন (আ.) তার জবাবে বলেন: এজিদ হচ্ছে একজন ফাসিক, মদ্যপায়ি ব্যাক্তি, সে অবৈধভাবে বিভিন্ন নির্দোষ মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে আমি কখনই তার বাইয়াত করব না। যখন মারওয়ান বিন হাকাম ইমাম হোসাইন (আ.)-এর কাছে এজিদের বাইয়াতের জন্য কথা বলে তখন ইমাম হোসাইন (আ.) তার জবাবে বলেন: হে খোদার শত্রু! আমাকে তোমরা ছেড়ে দাও কেননা আমি রাসুল (সা.) থেকে শুনেছি তিনি বলেছেন: আবু সুফিয়ানের সন্তানদের জন্য মুসলমানদের খেলাফতকে তিনি হারাম বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি যদি মাবিয়াকে মেম্বারের উপরে দেখতেন তাহলে তিনি তাকে সেখান থেকে নিচে নামিয়ে দিতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে রাসুল (সা.)-এর উম্মতেরা তা দেখেছে কিন্তু তারা কিছুই বলেনি। ইমাম হোসাইন (আ.) ৬০ হিজরী ২৮শে রজব রাতে তাঁর নিজেদের আত্মীয়স্বজন এবং সঙ্গিসাথীদের নিয়ে মদীনা থেকে মক্কার দিকে রওনা হন।
ইমাম হোসাইন (আ.) মদীনা থেকে বাহির হওয়ার সময় দুটি ওসিয়ত করেন:
১-আমার মদীনা থেকে বাহির হওয়ার উদ্দেশ্যে হচ্ছে শুধুমাত্র রাসুল (সা.)-এর উম্মতের হেদায়াতের জন্য আমি আমার নানা হযরত মোহাম্মাদ (সা.) এবং আমার বাবা হযরত আলী (আ.)-এর ন্যায় আদর্শ অনুযায়ী জনগণকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করব।
২-তারাই নিজেদের মুসলমান বলে দাবী করতে পারবে যারা মানুষকে খোদার পথে দাওয়াত দেয় এবং সৎকর্ম করে। যারা আমাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে তারা রাসুল (সা.) থেকে কখনও পৃথক হবে না এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার খোদার কাছে রয়েছে।
এই শোকসভার আয়োজনে মুসলমানদের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইমাম হোসাইন (আ.)-এর আধ্যাত্মিক সফর দর্শনের প্রতি আধ্যাত্মিক শিক্ষা বহিঃপ্রকাশ। মজলিসের শেষে দোয়া এবং তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

 

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔