ইসলামি আদর্শ বা মডেল কেমন হওয়া উচিত

by Rashed Hossain

সৈয়দ মোহাম্মদ আলী আবেদী

পৃথিবীতে যত জাতি বা দল বা ধর্ম রয়েছে প্রত্যেক জাতি, দল বা ধর্মেই একজন মডেল বা আদর্শ ব্যক্তি থাকে যাকে সেই গোত্র বা ধর্মের লোকেরা আইডল বা মডেল হিসাবে ফলো করে থাকে।
ঠিক একইভাবে আমাদের ইসলাম ধর্মেও আদর্শ বা মডেল রয়েছে। আমাদের ইসলাম ধর্মে আমরা কাকে ফলো করবো এবং যাকে ফলো করবো তার মধ্যে কি কি গুণাবলী থাকা উচিৎ সেই সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিব।
আমরা যারা ইসলাম ধর্মের অনুসারী তাদের জন্য প্রথম ইসলামী আইডল বা মডেল হলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.), মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীতে যত নবীকে প্রেরণ করেছেন তাদের সকলে চাইতে তাঁর ফজিলাত ও মর্যাদা অনেকগুন বেশি। পৃথিবীতে তার আগে যত নবী প্রেরণ করেছেন তাঁরা ছিলেন কোনো গোত্রের জন্য প্রেরিত কিন্তু রাসূলে খোদা (সা.) ছিলেন পুরো বিশ্ব জগতের জন্য প্রেরিত নবী ও রাসূল।
রাসূলে খোদা (সা.) সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে এত পরিমাণ আয়াত ও হাদিস বর্ণিত হয়েছে যা অন্য নবীর নামে বা সম্পর্কে এতটা বর্ণিত হয়নি।
হযরত উবাইদা ইবনে কাব (রা.) হতে বর্ণিত “রাসুল (সা.) বর্ণনা করেছেন: “কিয়ামতের দিন আমি সমস্ত নবীদের সর্দার হবো।” (সহীহ তিরমিজী, হাদীস নং-৩৬২৩)
এছাড়াও পবিত্র কুরআনুল কারীমে মহান আল্লাহ তার প্রিয় হাবীব হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা তুলে ধরতে অসংখ্য আয়াত নাযিল করেছেন।
পবিত্র কুরআনে সূরা আহযাব এর ৫৬ এবং ৫৭নং আয়াতে উল্লেখ করেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ নিজে এবং ফেরেস্তাগণ নবীর (সা.) এর ওপর দরুদ পড়েন, হে মুমীনগণ তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সম্মান কর।”
এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন উক্ত সূরার ৫৭নং আয়াতে আরো বর্ণনা করে বলেন, “যারা আল্লাহ ও তার রাসূলকে কষ্ট দেয় তারা অভিশপ্ত। তাদের জন্য ইহকালে ও পরকালে প্রস্তুত রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।”
পবিত্র কুরআনুল কারীমের সূরা আহযাব এর উক্ত আয়াত দ্বারা মহান আল্লাহ রাসূলে খোদা (সা.) এর মর্যাদা এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে রাসূলে খোদার (সা.) কতটা প্রিয়তা ও সম্মানিত ব্যক্তি তা প্রকাশ করেছেন।
উক্ত একই সূরাতে মহান আল্লাহ আরো বলেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহ রাসূল (সা.) এর মাঝেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।”-(সুরা আহযাব, আয়াত নং-২১)
রাসুল (সা.) সকলের থেকে উত্তম তার প্রমাণ নিশ্চিত করেছেন। কুরআনের উক্ত আয়াতের মতো আরও অফুরন্ত আয়াতে ও হাদীসে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে যার কারণেই ইসলাম ধর্মের অনুসারিগণ তাঁকে সর্ব প্রথম আইডল হিসাবে মনে করে।
পবিত্র কুরআনুল কারীমে স্পষ্টভাবে রাসুল (সা.)কে বলা হয়েছে (ওসওয়াতুল হাসানা) অর্থাৎ উত্তম আদর্শ। যেহেতু পবিত্র কুরআন বলছে রাসূল (সা.) হলেন আমাদের জন্য একমাত্র উত্তম আদর্শ সেহেতু আমাদের সকলের উচিৎ তাকে অনুসরণ করা, অনুকরণ করা এবং সকল বিষয়ে তাকে ফলো করা।
একজন ইসলামি আদর্শ বা আইডল হিসাবে রাসূল (সা.) এর মধ্যে সকল গুণাবলী রয়েছে। এখন চলুন একটু ভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করি, কিছু কিছু মানুষের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে রাসূল (সা.) ছাড়া আর কি কেউ নেই ইসলামি আইডল বা ইসলামি ফলোয়ার বা কেউ বলতে পারে রাসূল (সা.) এর মৃত্যুর পরে আমরা কি করবো, কাকে ফলো করবো? রাসূল (সা.) এর পরিবর্তে যাকে ফলো করবো তাকে কেমন হতে হবে বা রাসূলে খোদা (সা.) কি কোনো ইঙ্গিত দিয়ে গিয়েছেন কাকে ফলো করতে হবে? আসুন একটু ইতিহাস যাচাই করে আসি। রাসূলে খোদা (সা.) যখন ইন্তেকাল করেন তখন তাঁর পরিবর্তে তার প্রতিনিধি বা তাঁর জায়গার কে প্রতিনিধিত্ব করবে তা নিয়ে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি হট্টগোল শুরু করেন। আমি আমার স্বল্প জ্ঞান অনুযায়ী মনেকরি রাসূলে খোদা (সা.) এর পরিবর্তে তাঁর প্রতিনিধি কে হবেন তা যাচাই করা কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। রাসূল (সা.) এর মর্যাদা ও ফজিলতময় সম্মানে বা তাঁর প্রতিনিধি একমাত্র মহান আল্লাহ এবং রাসূল (সা.) নিজে বানাতে পারেন। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় আমরা নিজেরা দেশ চালানোর জন্য যে সংবিধান তৈরি করি তা সময়ের সাথে বা দল বা দেশের পরিস্থিতি বুঝে সংশোধন করতে হয়। কারণ, আমরা সাধারণ মানুষ আমরা সকল বিষয়ে জ্ঞান রাখি না। তাই আমাদের বানানো সংবিধানকে পরিবর্তন করতে হয়। কিন্তু মহান আল্লাহর বানানো সংবিধান পবিত্র আল কুরআন তা কখনই পরিবর্তন হবে না। পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে ধ্বংস পর্যন্ত সংবিধান থাকবে। এখন আমার আগের কথায় ফিরে আসি, আমার এই উদাহরণ দেয়ার কারণ হলো রাসূলে খোদা (সা.) এর পরে তাঁর প্রতিনিধি যিনি হবেন তা নির্বাচন করা কোনো সাধারণ মানুষের কাজ নয়। কারণ, কোন সাধারণ মানুষ দ্বারা রাসূলে খোদা (সা.) এর প্রতিনিধি নির্বাচন কখনোই সম্ভব নয়। রাসুলের স্থানে বা রাসুলের প্রতিনিধি হতে হলে রাসুলের মতো হতে হবে। “খালকান ওয়া খুলকান, সূরাতাম ওয়া সিরাতান” অর্থাৎ আখলাকে ও চরিত্রে।
রাসূল (সা.) এর মতো আখলাক তাঁর মতো চরিত্র এবং তাঁর সাথে সকল কিছু মিলে এমন কেউ কি আছে? আসুন একটু যাচাই করে দেখি। ইতিহাসে পাওয়া যায় রাসূলে খোদা (সা.) এর আখলাক-চরিত্রের সাথে সবথেকে বেশি যার মিল ছিল তিনি হলেন হযরত আলী (আ.)। হযরত আলী (আ.) সম্পর্কে রাসূলে খোদা (সা.) নিজে বলেন, “আলী আমার ভাই এবং আমার পরবর্তীকালে আমার ওয়াসী এবং আমার খলীফা তার আদেশ নিষেধকে মান্য করো এবং তার আনুগত্য করো।” (কানযুল উম্মাল, খন্ড-১৩, পৃষ্ঠা নং-১৩১)
এখানে রাসূলে খোদা (সা.) হযরত আলী (আ.)কে তাঁর ওয়াসী বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং তার দেওয়া আদেশ নিষেধ মান্য করতে বলেছেন। শুধু যে একটি হাদিসে রাসুলে খোদা (সা.) হযরত আলী (আ.) সম্পর্কে বলেছেন তা নয়, মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে সূরা মায়েদাতে হযরত আলীর (আ.) শানে এরশাদ করেছেন- “তোমাদের অভিভাবক শুধু আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং সেই বিশ্বাসী যে নামাজ বজায় রাখে এবং যাকাত দেয় রুকু অবস্থায়।” (সূরা আল মায়েদা আয়াত নং-৫৫)
অনুরূপভাবে যাদের মধ্যে মহান রাসূলের (সা.) গুণাবলী সবচেয়ে বেশী পরিলক্ষিত হবে তারা-ই হবেন রাসূলের (সা.) যোগ্য প্রতিনিধি বা ইসলামী আদর্শ। ####

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔