২৫৯: যে ব্যক্তি ইহরামের সময় এই সংকল্প করে যে, আমি ইহরাম বাঁধ তামার ওমরাহ’র জন্য বা অন্য কিছুর জন্য। যেহেতু এক মাসআলায় আপনি বলেছে যে, ইহরামের নিয়ত আবশ্যক নয় বরং সম্ভব নয়। কাজেই উপরোক্ত ইহরামের উপায় কী?
উত্তর : ইহরামের ক্ষতি করবে না যদিও ইহরামের জন্যে সংকল্প করা আবশার নয়। আর ইহরাম কোন সংকল্প তথা উদ্দেশ্যমূলক বিষয় নয়। বরং ব্যক্তি যদি হয় কিম্বা ওমরাহ’র উদ্দেশ্যে তালবিয়্যাহ পাঠ করে, তাহলেই তার ইহরাম হয়ে যায় যদিও সে তা ইহরামের উদ্দেশ্যে না করে থাকে।
প্রশ্ন-২৬০ : পুরুষরা সচরাচর ইহরামের জন্য একটি তোয়ালেকে লঙ্গী হিসে কোমরে বেঁধে নেয় এবং আরেকটি কাঁধের ওপরে রাখে। কিন্তু কিছু কিছু লোক যায়। বাতাসের কারণে কিম্বা গাড়িতে ওঠার সময়ে তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশিত না হয়ে পড় সেজন্য ঐ দু’টি তোয়ালের অতিরিক্তি এক মিটারে একটি সেলাই বিহীন কাপড়কে পায়ের মাঝ দিয়ে এমনভাবে পরে নেয় যাতে কাপডটির দুই প্রান্ত সামনে ও পেছা থেকে তোয়ালের নিচে থাকে। একাজে কি আপত্তি রয়েছে?
উত্তর: আপত্তি নেই।
প্রশ্ন-২৬১ : যে ব্যক্তি তালবিয়াহ বলতে সক্ষম নয়, তার জন্যে কি প্রতিনিদি নিয়োগ করা যাবে?
উত্তর : বোবা লোক আঙ্গুলি দ্বারা তালবিয়্যাহর ইঙ্গিত করবে এবং তার জিহ্বাকেও চালাবে। প্রতিনিধি নিয়োগই যথেষ্ট হবে না। অধিকতর সতর্কতা হলো প্রতিনিধিও নিযুক্ত
প্রশ্ন-২৬২: যে ব্যক্তি ইতঃপূর্বে তার ওয়াজিব হজ্বকে পালন করেছে এবং একটি মুস্তাহাব হজ্ব পালন করার সংকল্পও করেছে। কিন্তু অবগতির অভাবে কিম্বা ভুলে যাবার কারণে ওমরাহ’র ইহরামের নিয়তে বলে, “আমি ইসলামে ওয়াজিব হজ্বের উদ্দেশ্যে তামাত্তু হজ্বের ওমরাহ’র ইহরাম বাঁধছি কুরবাতান ইলাল্লাহ্।” অথচ এটা মুস্তাহাব হজ্ব, এর মধ্যে ইসলামের ওয়াজিব হজ্বের কথা আনা এবং সেটা নিয়তে রাখায় কি অসুবিধা হবে না?
উত্তর: অসুবিধা রয়েছে। যদি না নিছক কথার ভুল হয়ে থাকে আর তার মনের সংকল্প থাকে যে, ওমরাহ্ তার জন্যে কর্তব্য সেটাই সম্পাদন করা, আর তার নাম দিয়ে থাকে ইসলামের ওয়াজিব হজ্ব।
প্রশ্ন-২৬৩: যদি কেউ জানে যে তালবিয়্যাহকে সঠিক না বললে ইহরাম হয় না, অতঃপর তালবিয়্যাহকে ভুল পড়ে এবং হজ্বের আমলসমূহকে পালন করে, তাহলে তার আমলসমূহ কি সঠিক হবে?
উত্তর: যদি ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকে, তাহলে সঠিক নয়। আর যদি ইচ্ছাকৃত না হয় এবং ভুল কিম্বা মাসআলা না জানার কারণে হয়, তাহলে উল্লেখিত মাসআলার ক্ষেত্রে আমল সঠিক হওয়া অসম্ভব নয়।
প্রশ্ন-২৬৪ : যদি কেউ তালবিয়্যাঙ্কে ভুল বলে এবং দুই অবস্থান (আরাফাত ও মুযদালিফায় অবস্থান) এর পরে ও হজ্বের আমলসমূহ শেষ করার পূর্বে যদি বুঝতে পারে যে সঠিকভাবে ইহরাম বাঁধেনি, তাহলে তার অপরাপর আমল এবং তদ্রূপভাবে তার পূর্ববর্তী ওমরাহ’র কর্তব্য কী হবে?
উত্তর: যদি ধরা হয় ঐ ভুলের ক্ষতিপূরণ করার সময় পার হবার পরে সে বুঝতে পেরেছে, তাহলে তার আমল সঠিক হওয়া অসম্ভব নয়। তবে অধিকতর সতর্কতা হলো, এই হজ্ব তার জন্যে যথেষ্ট গণ্য না করা। আর এই সতর্কতা বর্জন করা সমীচীন নয়। এই সতর্কতাটি মুস্তাহাব।
প্রশ্ন-২৬৫ঃ ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক’ এই তালবিয়্যাহ’র অনুবাদ কী?
উত্তর: উপরোক্ত বাক্যটির অনুবাদ এরূপ: “আমি তোমার আহবানে সাড়া দিচ্ছি, হে আল্লাহ! আমি তোমার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি। তোমার কোন অংশীদার নেই। আমি তোমার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি।” যেসব ক্ষেত্রে অনুবাদ বলতে হয় আর যদি ‘আহ্বান শব্দটি না বলে তবুও যথেষ্ট হবে।
প্রশ্ন-২৬৬ : যে ইহরামের পোশাক সম্পর্কে জানা নেই যে, তা মসজিদের মিম্বারে বক্তৃতার আয় থেকে কেনা নাকি ধর্মীয় টাকায় কেনা, তার কি ঘুমস প্রদান করা আবশ্যক?
উত্তর : সন্দেহের ক্ষেত্রে আবশ্যক নয়। যদিও সতর্কতা বাঞ্ছনীয়।
প্রশ্ন-২৬৭ : যে ব্যক্তি অন্যকে নিয়ত এবং তালবিয়্যাহ তালকীন করে তথা। উচ্চারণ করে শোনায়, আর সে নিজে নিয়ত ভুলে গেছে, তার কর্তব্য কী? উত্তর : যদি ওমরাহ’ কিম্বা হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে তালবিয়্যাহ না বলে থাকে তাহলে তার ইহরামই বাঁধা হয়নি এবং সম্ভব হলে মীকাতে ফিরে আসবে। আর যদি সম্ভব না হয়, তাহলে হেরেমের বাইরে চলে যাবে এবং পুনরায় ইহরাম বাঁধবে।
প্রশ্ন-২৬৮ : ইহরামের কাপড় কি দু’টি কাপড়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং এর বেশি হতে পারবে না?
উত্তর: তার ওয়াজিব পরিমাণ হলো দু’টি। আর বেশি হলে নিষেধ নেই।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)
