মাসআলা (১১৫২) : দীঘকালীন ব্যবহার্য পণ্যে খুমস ওয়াজিব না হওয়ার ক্ষেত্রে মাপকাঠি হলো সাধারণ বিচারে একজন ব্যক্তির অবস্থা ও মর্যাদা অনুযায়ী সেগুলোর প্রতি ‘প্রয়োজন’ কথাটি প্রযোজ্য হওয়া। যদিও সারা বছরে সেগুলো ব্যবহার নাও করা হয়। এ কারণে যদি কার্পেট ও থালা-বাসন ঘটনাক্রমে গোটা বছরের মধ্যে ব্যবহৃত না হয়ে থাকে কিন্তু অতিথি আপ্যায়নের জন্য সেগুলোর প্রয়োজন থাকে, তাহলে তাতে খুমস নেই। তবে দীর্ঘকালীন ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে মাপকাঠি হলো ‘ব্যবহার’ করা। কাজেই যা কিছু বছরের ব্যবহারের থেকে উদ্বুত্ত আসবে, তাতে খুমস রয়েছে।
মাসআলা (১১৫৩): যে (সিরিজ) কিতাবে কয়েক খণ্ডবিশিষ্ট (যেমন ওয়াসায়িলুশ শিয়া গ্রন্থের সেট) তা যদি পুরো সেটই প্রয়োজনীয় হয়, অথবা যে খণ্ডটি দরকার সেটা ক্রয় করতে হলে পুরো সেটই ক্রয় করার উপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে খুমস নেই। অন্যথায় যেসকল খণ্ডের বর্তমানে প্রয়োজন নেই, সেগুলোর খুমস প্রদান করতে হবে। আর স্রেফ প্রত্যেক খণ্ডের একটি করে পৃষ্ঠা পড়ে রাখলেই খুমস মওকুফ হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয়।
মাসআলা (১১৫৪): বসতবাড়ি, যা বাস করার জন্য দরকার তা জীবন নির্বাহ খরচের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। সুতরাং যে তিনতলা বাড়ির এক তলায় বাড়ির মালিক বসবাস করে এবং অন্য তলাগুলোতে তার সন্তানরা বসবাস করে, তাতে খুমস নেই।
মাসআলা (১১৫৫): যে গাড়ি বছরের মধ্যের আয় হতে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য এবং জীবনের প্রয়োজনসমূহ মেটানোর জন্য খরিদ করা হয়েছে এবং সাধারণ বিচারে উক্ত ব্যক্তির অবস্থার সাথে মানানসই চাহিদাবলির অন্তর্ভূক্ত হয়, তা তার জীবন নির্বাহ খরচের মধ্যেই পড়বে এবং তাতে খুমস নেই। তবে হ্যাঁ, যদি তা ব্যবসা ও কাজের উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে, যেমন: রেন্ট-এ-কার, পিক আপ, মিনিবাস, বাস ইত্যাদি তাহলে তাতে খুমস ওয়াজিব হওয়ার প্রশ্নে কাজের হাতিয়ার তথা সরঞ্জামাদির হুকুমে পড়বে।
সূত্রঃ রেসালায়ে মুস্তাখাব আল-আহকাম বই থেকে সংগ্রহীত
হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহু )- এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত
