১লা শাবান হযরত যায়নাব (সা.আ.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে খুলনার কাসরে হুসাইনী ইমামবাড়ায় আনন্দ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী।
নারীদের গর্ব ও হযরত ফাতিমা (সা.আ.)-এর নেতৃত্ব
আলোচনায় সৈয়দ ইব্রাহিম খলিল রাজাভী উল্লেখ করেন যে, ইসলাম নারী জাতিকে যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে, হযরত যায়নাব (সা.আ.)-এর জীবন তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। আজকের বিশ্বের নারীদের জন্য সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় হলো তাদের নেত্রী স্বয়ং হযরত ফাতিমা জাহরা (সা.আ.)। জগতজননী ফাতিমা (সা.আ.)-এর আদর্শে গড়ে ওঠা নারী সমাজই প্রকৃত সাফল্যের অধিকারী।
কেবল পিতার সৌন্দর্য নয়, বরং ইসলামের অলংকার
হযরত যায়নাব (সা.আ.)-এর ব্যক্তিত্ব নিয়ে বলতে গিয়ে আলোচক বলেন, অনেকেই মনে করেন তিনি কেবল তার পিতা মাওলা আলী (আ.)-এর চারিত্রিক সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, হযরত যায়নাব (সা.আ.) কেবল তার পিতার সৌন্দর্য নন, বরং তিনি পূর্ণাঙ্গ ইসলামের সৌন্দর্য। কারবালার ময়দান থেকে কুফা ও শাম—সর্বত্র তিনি ইসলামের প্রকৃত রূপকে রক্ষা করেছেন এবং একে অলঙ্কৃত করেছেন।
বিনা শিক্ষকের মহীয়সী আলেমা (আলেমা গায়রে মুয়াল্লিমা)
হযরত যায়নাব (সা.আ.)-এর জ্ঞান কোনো জাগতিক শিক্ষকের কাছ থেকে অর্জিত নয়। আলোচক জোর দিয়ে বলেন:
“বিবি যায়নাব (সা.আ.) এমন এক আলেমা, যার দুনিয়াবি কোনো মুয়াল্লিম বা শিক্ষক ছিল না।”
তার জ্ঞান ছিল সরাসরি মহান আল্লাহ প্রদত্ত । তিনি শৈশব থেকেই খোদায়ী প্রজ্ঞায় সিক্ত ছিলেন।
আলোচনায় ইলম বা জ্ঞানের উৎস সম্পর্কে অত্যন্ত চমৎকার কিছু দিক উন্মোচিত হয়:
-
খোদায়ী জ্ঞান: বিবি যায়নাব (সা.আ.)-এর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা সরাসরি আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত।
-
মাওলা আলীর দান: সেই একই ইলমের উত্তরাধিকারী হিসেবে মাওলা আলী (আ.) সায়্যিদা যায়নাবকে সুসজ্জিত করেছেন। পিতার কাছ থেকে তিনি যে জ্ঞান ও বাগ্মিতা পেয়েছেন, তা তাকে “শেরে খোদা”-র ন্যায় সাহসী ও অপ্রতিভ করে গড়ে তুলেছে।
পরিশেষে, বক্তা বলেন যে হযরত যায়নাব (সা.আ.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সমাজ ও পরিবার গঠন করা উচিত। তার ধৈর্য ও জ্ঞানই আজ আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক।
ফজর/ইয়াসিন


