খুমসের আহকাম

হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহু )- এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত

by Syed Yesin Mehedi

মাসআলা (১১৭১): আয়ের খুমস জীবন নির্বাহ খরচের উপর ধার্য হবে না। অর্থাৎ আয়ের থেকে যে টাকা জীবন যাপনের প্রয়োজনে এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খরিদ বাবদ খরচ করা হবে তাতে খুমস নেই এবং শুধু যে টাকা বছর শেষে উদ্বৃত্ত থাকবে সে টাকার উপরেই খুমস দিতে হবে। এ ব্যাপারে হিসাব নিকাশ করে দেখতে হবে।
মাসআলা (১১৭২):প্রত্যেক বছরের জীবন নির্বাহ খরচ ঐ বছরেরই আয় থেকে কর্তন করতে (এবং খরচ করতে) হবে, আগের বা পরের বছরের নয়। কাজেই যদি কোনো বছরে তার কোনো আয় না হয়, তাহলে সে ঐ বছরের জীবন নির্বাহ খরচকে আগের বা পরের অর্জিত আয় হতে কর্তন করতে পারবে না।
মাসআলা (১১৭৩): আয় হতে জীবন নির্বাহ খরচ মেটানোর ব্যাপারে এমন কোন শর্ত নেই যে, সে ব্যক্তির আয় ব্যতীত অন্য কোন জিনিস থাকতে পারবে না। বরং যদি আয় ছাড়াও অন্য কোনো মালদ্রব্য থাকে, যাতে খুমস ধার্য হয় না, অথবা যদি ধার্য হয় তবে তা পরিশোধ করা হয়ে থাকে, তাহলে সে আয় হতে জীবন নির্বাহ খরচ কর্তন করতে পারবে। তবে হ্যাঁ, যদি বছরের আয় খুমস পরিশোধকৃত টাকার সাথে যৌথভাবে জীবন নির্বাহ খরচ বাবদ ব্যয় হয়ে থাকে, তাহলে বছর শেষে খুমস প্রদত্ত টাকার তুলনায় খুমস প্রদান না করা টাকার অনুপাতে অবশিষ্ট টাকার খুমস পরিশোধ করা ওয়াজিব এবং সে যে খুমস পরিশোধকৃত টাকা ব্যয় করেছে তদস্থলে বছরের আয়ের টাকা থেকে কর্তন করে নেওয়া তার জন্য জায়েয হবে না। যেমন ধরুন, যে চাউলের খুমস পরিশোধ করা হয়ে গেছে, তা যদি খরচ করে, তাহলে তদস্থলে সমপরিমাণ নতুন চাউলকে খুমসের হিসাব থেকে বের করে নিতে পারবে না। কাজেই সে নতুন চাউল থেকে যে পরিমাণ চাউল তার বছরের জীবন নির্বাহ বাবদ ব্যয় করেছে তাতে খুমস নেই। আর তা থেকে যে পরিমাণ চাউল খুমসবর্ষের শেষ অবধি অবশিষ্ট রয়েছে তার খুমস দিতে হবে।
মাসআলা (১১৭৪): যেসব লোকের ব্যক্তিগত আয় রয়েছে, যত কমই হোক না কেন, সে অবিবাহিতই হোক আর বিবাহিতই হোক, তাদের জন্য খুমসবর্ষ নির্ধারণ করা এবং তাদের বছরের আয় রোজগারের হিসাব করে দেখা ওয়াজিব। হিসাবে যদি বছর শেষে কোনো কিছু অবশিষ্ট থাকে তাহলে তার খুমস প্রদান করতে হবে। অবশ্য খুমসবর্ষের মাথায় হিসাব ও বছরের আয় রোজগারের হিসাব নিকাশ স্বতন্ত্র কোনো ওয়াজিব কাজ নয়। বরং এটা হলো খুমসের পরিমাণ নির্ণয়ের একটি উপায়মাত্র। আর খুমস তখনই ওয়াজিব হবে যখন সে জানতে পারবে যে তার উপর খুমস ধার্য হয়েছে, কিন্তু তার পরিমাণ সে জানে না। তবে যদি ব্যবসায়ের মুনাফা থেকে কিছুই তার কাছে অবশিষ্ট না থাকে এবং তার সমস্তই জীবন নির্বাহ খরচ বাবদ ব্যয় হয়ে থাকে তাহলে তার উপর কোনোই খুমস ধার্য হবে না এবং কিছুই পরিশোধ করতে হবে না।
মাসআলা (১১৭৫): যে স্বামী ও স্ত্রী তাদের টাকা যৌথভাবে সংসারের কাজে ব্যয় করে, তাদের প্রত্যেকেরই আয় অনুসারে পৃথক খুমসবর্ষ নির্ধারণ করা ওয়াজিব এবং প্রত্যেককেই খুমসবর্ষের শেষে তাদের আয় ও বেতনের উদ্বৃত্ত টাকার খুমস প্রদান করতে হবে। অনুরূপভাবে যে গৃহিণী মহিলার স্বামীর খুমসবর্ষ নির্ধারিত রয়েছে যখন সে তার মালসম্পদের খুমস পরিশোধ করে থাকে, আবার তার নিজেরও কখনো কখনো আয় রয়েছে, সেক্ষেত্রে তার জন্য ওয়াজিব হলো বছরের প্রথম রোজগার হাতে পাওয়ার সময়কে খুমসবর্ষের শুরু হিসাবে নির্ধারণ করা এবং তার আয় থেকে সারা বছরে যেসব ব্যক্তিগত খরচাদি, যেমন: যিয়ারতে যাওয়া, উপহার খরিদ করা ইত্যাদি কাজে ব্যয় করবে, তাতে খুমস নেই। আর যা কিছু তার বছরের আয় থেকে তার বাৎসরিক জীবন নির্বাহ খরচের পর বছর শেষে উদ্বৃত্ত থাকবে, তার খুমস পরিশোধ করা ওয়াজিব হবে।
মাসআলা (১১৭৬): ব্যক্তি নিজেই তার নিজের খুমসের হিসাব বের করে অতঃপর যা কিছু তার উপর ওয়াজিব হবে সেটা খুমসের ওয়ালী-য়ে আমর কিংবা তাঁর প্রতিনিধির কাছে জমা দিতে পারবে।

সূত্রঃ রেসালায়ে মুস্তাখাব আল-আহকাম  বই থেকে সংগ্রহীত

হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহু )- এর ফতোয়া অনুযায়ী সংকলিত

 

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔