ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের ন্যাক্কারজনক হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে খুলনা। সোমবার (০২ মার্চ) নগরীর বাবরী চত্তরে (শীববাড়ী মোড়) বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি ও র্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী’, কাসরে আব্বাসী ইমামবারগাহ, খালিশপুর ও ‘জামিয়াতে মুহিব্বীনে আহলে বাইত বাংলাদেশ’ এর যৌথ উদ্যোগে প্রতিবাদ সভার ও বিক্ষোভ র্যালীর আয়োজন করা হয়।
বক্তব্য রাখেন আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানী সভাপতি হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলীল রাজাভী তিনি বলেন, গ্রেট ইসরাইলের স্বপ্ন ইরান ভেঙ্গে দিয়েছে। ইসরাইলের সীমানার উপরে হিজবুল্লাহ সংগঠন তৈরী করেছে ইরান। এই কারণে ইরানের বিরুদ্ধে পাশ্চাত্যরা শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে জাতি মনে করে ইরানী জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যাবে তারা জেনে রাখুক ইমাম হোসাইন (আ.) এর শাহাদাতের পরও যেইভাবে ইসলাম বেঁচে ছিল, রাহবার সাইয়্যোদ আলী খামেনায়ী শাহাদাতের পরও ইসলাম এবং ইনকিলাব বেঁচে থাকবে।
এছাড়াও সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মুসলিম বিশ্বের ঐক্য বিনষ্ট করতে চায়। তারা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আমেরিকা ও ইসরায়েলের পতন কামনা করে স্লোগান দেন।
এই কর্মসূচিতে বক্তারা শিয়া-সুন্নি ভেদাভেদ ভুলে মুসলিম উম্মাহকে এক হওয়ার আহ্বান জানান। ‘জামিয়াতে মুহিব্বীনে আহলে বাইত বাংলাদেশ’ এর ব্যানারে খচিত “লা শিয়া লা সুন্নি—নাহনু মুসলিমুন” (শিয়া নয়, সুন্নি নয়—আমরা সবাই মুসলিম) স্লোগানটি উপস্থিত জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষা বিভাগীয় প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ সাজ্জাদ হোসেন, বক্তব্য রাখেন এ্যাড, রুহুল কুদ্দুস, খুলনা জেলা ইমাম পরিষদের মুখপাত্র ও তালিমুল মিল্লাত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ নাজমুস সউদ, এ্যাড. আব্দুর রাজ্জাক, এস এম সোহরাব হোসেন, শেখ আব্দুল হালিম, বিশিষ্ট আলেমে দীন মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, মিনহাজুল কোরআন ফাউনেন্ডশরে মুখপাত্র মোঃ হানজালা প্রমুখ।
পরিশেষে দোয়া পরিচালনা করেন ‘জামিয়াতে মুহিব্বীনে আহলে বাইত বাংলাদেশ’ এর সভাপতি মাওলানা মোঃ ইব্রাহিম ফাইজুল্লাহ।
কর্মসূচিগুলোতে স্থানীয় উলামা মাশায়েখ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত হয়ে ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
121
