রমজান কেবল একটি মাস নয়, এটি একটি রূহানি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখানে আমাদের মূল লড়াই নিজের সাথে—যাকে ইসলামি পরিভাষায় বলা হয়েছে ‘জিহাদে আকবর’ বা বড় জিহাদ।
কুরআনের আলোকে তাকওয়া: আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেছেন:
“হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা তাকওয়া (খোদাভীতি) অর্জন করতে পারো।” (সূরা বাকারা: ১৮৩)
অর্থাৎ, উপবাস থাকাটা উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো নিজের ভেতর এমন এক শক্তি তৈরি করা যা আপনাকে অন্যায় থেকে দূরে রাখবে।
আহলে বায়েত (আ.)-এর শিক্ষা ও হাদিস:
১. ইমাম আলী (আ.)-এর কালজয়ী বাণী: ইমাম আলী (আ.) নফসের পবিত্রতা সম্পর্কে বলেছেন:
“কতই না রোজাদার আছে যাদের রোজার অর্জন কেবল ক্ষুধা ও পিপাসা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর কতই না ইবাদতকারী আছে যাদের ইবাদতের প্রাপ্তি কেবল ক্লান্তি ও জাগরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।” (নাহজুল বালাগা, হিকমত নং ১৪৫)
শিক্ষা: এই হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, রোজা রেখে যদি আমরা মিথ্যা কথা, গীবত বা মানুষের মনে কষ্ট দেওয়া বন্ধ না করি, তবে সেই রোজার কোনো আধ্যাত্মিক মূল্য নেই।
২. ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর নির্দেশনা: তিনি রোজার প্রকৃত স্বরূপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন:
“যখন তুমি রোজা রাখো, তখন তোমার কান, চোখ, চুল, চামড়া এবং তোমার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ যেন রোজা রাখে (অর্থাৎ গুনাহ থেকে বিরত থাকে)। তোমার রোজা রাখার দিনটি যেন রোজা না রাখার দিনের মতো না হয়।” (আল-কাফি, খণ্ড ৪)
জিহাদে আকবর বা নফসের সাথে লড়াই: রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি যুদ্ধ থেকে ফেরার পর সাহাবীদের বলেছিলেন, “তোমরা ছোট জিহাদ থেকে বড় জিহাদের (জিহাদে আকবর) দিকে ফিরে এসেছ।” সাহাবীরা যখন জিজ্ঞেস করলেন বড় জিহাদ কোনটি? তিনি বললেন, “নিজের নফস বা প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে লড়াই করা।” রমজান হলো সেই বড় জিহাদে জয়ী হওয়ার মাস।
আমাদের আকিদা ও ইমান তখনই সার্থক হবে যখন আমরা আমাদের মনকে হিংসা এবং দুনিয়াবি লালসা থেকে মুক্ত করতে পারব। আহলে বায়েত (আ.)-এর দেখানো পথে চলে আমরা যেন এই রমজানে কেবল ক্ষুধার্ত না থেকে প্রকৃত মুমিন হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারি।
