৭৫১. মুকাল্লাফ ব্যক্তির জন্য ওমরাহ’র আমলসমূহ শেষ হওয়ার পরে তামাত্তু হজ্বের ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব ।
৭৫২. যদি তামাত্তু হজ্বের নিয়্যত করে এবং ওমরাহ্’র ইহরামের সময় বর্ণিত পদ্ধতিতে ওয়াজিব ‘লাব্বাইকা গুলো পাঠ করে, তাহলে তার ইহরাম বাঁধা হয়ে যাবে । এক্ষেত্রে ইহরাম বাঁধার নিয়ত করার দরকার নেই । একইভাবে নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে পরিহার করার জন্যেও নিয়ত করার দরকার নেই (যে বিষয়গুলো ওমরাহ্’র ইহরামের মধ্যে উল্লেখিত হয়েছে) ।
৭৫৩. নিয়্যত হতে হবে মহান আল্লাহর আনুগত্য পালনের জন্য নিখাদ ও নিষ্ঠাপূর্ণ । লোক দেখানো ও ভ-ামি আমলকে বাতিল করে দেয় ।
৭৫৪. ইহরাম বাঁধা ও ‘লাব্বাইকা’ বলার পদ্ধতি হলো হুবহু সেই পদ্ধতি যা ওমরাহ’র ইহরামের বেলায় উল্লেখ করা হয়েছে ।
৭৫৫. ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তার সবগুলোই এই ইহরামের বেলায়ও নিষিদ্ধ থাকবে। আর যেগুলোর ক্ষেত্রে কাফফারা বিদ্যমান ছিল, এখানেও সেই একই নিয়মে কাফ্ফারাও বলবৎ হবে ।
৭৫৬. ইহরামের সময় সুপ্রশস্ত এবং যতক্ষণ পর্যন্ত ইহরামের পর আরাফাতের (সক্ষমতা বা স্বাভাবিক সময়ের) অবস্থানে পৌঁছতে পারে, ততক্ষণ বিলম্ব করতে পারবে । আর সে সময় থেকে দেরি করতে পারবে না ।
৭৫৭. সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো, যে ব্যক্তি তামাত্তু ওমরাহ থেকে অবসর হবে এবং ইহরাম থেকে মুক্ত হবে, সে প্রয়োজন ছাড়া মক্কা থেকে বের হবে না । আর যদি বাইরে যাওয়ার জন্য কোন প্রয়োজন দেখাই দেয়, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলে হজ্বের ইহরাম বাঁধবে ও বাইরে যাবে এবং ঐ ইহরাম সহকারেই হজ্বের আমলসমূহের জন্য ফিরে আসবে ।
৭৫৮. যদি বিনা প্রয়োজনে এবং বিনা ইহরামে মক্কা থেকে বের হয় কিন্তু ফিরে আসে ও ইহরাম বাঁধে এবং হজ্ব পালন করে, তার আমল সঠিক ।
৭৫৯. তারবীয়াহ’র দিবসে (৮ই জিলহজ্ব) ইহরাম বাঁধা মুস্তাহাব । বরং এটাই
অধিকতর সতর্কতা ।
৭৬০. হজ্বের ইহরামের স্থান হলো মক্কানগরী। আর তা যেখানেই হোক না কেন, এমনকি মক্কার নবনির্মিত মহল্লাতে হলেও চলবে। তবে মুস্তাহাব হলো মাকামে ইব্রাহীম (আঃ) কিম্বা হিজ্বরে ইসমাঈলে ইহরাম বাঁধা ।
৭৬১. যদি ইহরাম বাঁধতে ভুলে যায় এবং মিনা ও আরাফাত অভিমুখে বের হয়ে যায়, তাহলে মক্কায় ফিরে আসা এবং ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব। আর যদি সময় সংকীর্ণতা কিম্বা অন্য কোন সমস্যাবশত তা সম্ভব না হয়, তাহলে যে স্থানে রয়েছে সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধবে ।
৭৬২. হজ্বের সকল আমল শেষ হওয়ার পরে ছাড়া যদি তার মনে না আসে যে, সে ইহরাম বাঁধেনি, তাহলে বাহ্যত তার হজ্ব সঠিক। আর সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো, যদি আরাফাত ও মাশআরুল হারামে অবস্থানের পরে কিম্বা আমলসমূহ থেকে অবসর হওয়ার পর তার মনে পড়ে, তাহলে হজ্ব সম্পূর্ণ করবে এবং পরবর্তী বছরে পুনরায় তা আদায় করবে।
৭৬৩. মাসআলা না জানা ব্যক্তি যদি ইহরাম না বাঁধে, তাহলে তার নির্দেশ হবে সেই ব্যক্তির মত, যে ভুলক্রমে ইহরাম বাঁধেনি ।
৭৬৪. যদি কেউ ইহরাম জেনে শুনে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে আরাফাত ও মাশআরে অবস্থান করা পর্যন্ত পরিহার করে, তাহলে তার হজ্ব বাতিল ।
হজ্বের ইহরামসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর বা ফতোয়া
প্রশ্ন-৭৬৫ : মক্কার নবনির্মিত কিছু কিছু মহল্লার দূরত্ব মসজিদুল হারাম থেকে ১৮ কিলোমিটারেরও বেশি। যেগুলো হয়তো সাধারণ বিচারে মক্কার উপকণ্ঠ বলে গণ্য হবে । তবে এমন নয় যে, এগুলো মক্কার অংশ । কেননা, রাস্তার সাইনবোর্ড সমূহে তীর চিহ্ন দ্বারা মক্কার দিক নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে । এমতাবস্থায় হজ্বের জন্য কি উপরোক্ত মহল্লাসমূহে ইহরাম বাঁধা যায় ?
উত্তর : যদি মক্কার মহল্লা হয় তাহলে আপত্তি নেই । আর যদি মক্কার মহল্লা না হয়। কিম্বা এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকে, তাহলে যথেষ্ট হবে না ।
প্রশ্ন-৭৬৬ : যে সকল অসুবিধাগ্রস্ত লোকেরা মক্কার আমলসমূহকে আরাফাত ও মুযদালিফায় অবস্থান করার আগে সম্পন্ন করতে পারে, যদি অজ্ঞতাবশত ইহরাম ছাড়াই মক্কার আমলসমূহ আরাফাত ও মুযদালিফায় অবস্থান করার আগে সম্পাদন করে তাহলে তার নির্দেশ কী?
উত্তর : যথেষ্ট হবে না। হয় দুই উকুফস্থলে অবস্থান করার আগে সেগুলোকে ইহরাম সহকারে পুনঃ আদায় করবে অথবা দুই স্থানে অবস্থান করার ও তার আমলসমূহ সম্পাদনের পরে সেগুলোকে পুনঃ আদায় করবে ।
প্রশ্ন-৭৬৭ : জনৈক হাজী আরাফাতে কিম্বা মিনায় বুঝতে পেরেছে যে, হজ্বের ইহরামে সে তালবিয়্যাহ বলেনি । সেক্ষেত্রে বুঝতে পারার সময়ে তালবিয়্যাহ বললে কি যথেষ্ট হবে? তার করণীয় কী?
উত্তর : যদি মক্কায় যেতে পারে এবং ইহরাম বাঁধতে পারে এবং অবশিষ্ট আমলসমূহকে যা ইহরাম সহকারে পালনীয় সেগুলোকে পালন করতে পারে, তাহলে সেটাই করবে । আর যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে সেখানেই লাব্বাইকা বলবে । আর যদি তাছীর (চুল বা নখ ছাঁটাই করা) কিম্বা হাল্ক (মাথা ন্যাড়া) করার পরে বুঝতে পারে, তাহলে তার আমল সঠিক । লাব্বাইকা বলার প্রয়োজন নেই ।
প্রশ্ন-৭৬৮ : মক্কা শহরটি কয়েকটি দীর্ঘ ও উঁচু পর্বতশ্রেণী দ্বারা পরিবেষ্টিত। আর পর্বতের দু’পাশে ভবন নির্মিত হয়েছে । কখনো এই পর্বতের একদিক থেকে অন্য দিকে যাবার জন্য কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। আর এক পাশের বাসিন্দারা অন্য পাশ থেকে বিচ্ছিন্ন । যেমন শোবে বনি আমের যা মসজিদুল হারামের নিকটবর্তী এবং আযিযিয়া যা ৯ কিলোমিটার বা তার চেয়ে বেশি দূরে, তা অন্য পাশে অবস্থিত । সাধারণ হিসাবে এই সকল মহল্লাকে মক্কা বলা হয় । প্রশ্ন হলো, এই সকল মহল্লা ও অনুরূপ স্থানসমূহ থেকে তামাত্তু হজ্বের ইহরাম বাঁধা কি সঠিক?
উত্তর : যদি মক্কার মধ্যে হয়, তাহলে সেখান থেকে হজ্বের ইহরাম বাঁধা সঠিক । যদি নব নির্মিত ভবন ও স্থাপনাও হয় । ( সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা )
