প্রথম, জামারাহ্ আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ (অর্থাৎ মিনায় জামরাহ্ নামক একটি স্থানে কঙ্কর নিক্ষেপ)
৮০০. যে পাথর নিক্ষেপ করা হবে সে ক্ষেত্রে শর্ত হলো সেটাকে কঙ্কর (নুড়ি) বলা হবে। সুতরাং যদি এতোটা ক্ষুদ্র হয় যে, সেটাকে নুড়ি বলা না যায় (যেমন বালু) তাহলে তা যথেষ্ট নয়। আবার যদি খুব বড় হয় তাহলেও যথেষ্ট নয়। তদ্রূপ কঙ্কর ছাড়া অন্য কিছু, যেমন ঢিলা, পোড়ামাটি, বিভিন্ন প্রকার গহনা ইত্যাদি জায়েজ নয়। বিভিন্ন প্রকারের পাথর এমনকি মার্বেল পাথর হলেও দোষ নেই ।
৮০১, শর্ত হলো, কঙ্করসমূহ হেরেম এলাকার হতে হবে। হেরেমের বাইরের এর যথেষ্ট নয়। আর হেরেমের যে কোন স্থান থেকেই সংগ্রহ করা মোবাহ্ বা যে, কেবল মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে খীফ, বরং সতর্কতার ভিত্তিতে অন্যান্য মসজিদ সমূহ ছাড়া, আর মুস্তাহাব হলো মাশআরুল হারাম থেকে তা সংগ্রহ করা ।
৮০২. শর্ত হলো কঙ্করসমূহ অব্যবহৃত হতে হবে। অর্থাৎ সেগুলোকে সে নিজে আকিদা অন্য কেউ সঠিকভাবে যদি নিক্ষেপ না করে থাকে, এমনকি পূর্ববর্তী বছরগুলোতেও ।
৮০৩. শর্ত হলো কঙ্করসমূহ মোবাহ্ বা বৈধ হবে । সুতরাং অন্যায়ভাবে সংগৃহীত বছর দ্বারা কিম্বা যা অন্য কেউ সংগ্রহ করেছে তা দ্বারা যথেষ্ট হবে না । ৮০৪. কঙ্কর নিক্ষেপ করার সময় হলো ১০ই যিলহজ্ব ঈদের দিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত । আর যদি ভুলে যায় তাহলে যিলহজ্ব মাসের তেরতম দিন পর্যন্ত সম্পাদন হতে পারে। আর যদি সেদিন পর্যন্তও স্মরণে না আসে তাহলে সতর্কতাবশত রবর্তী বছরে সে নিজে কিম্বা তার প্রতিনিধি তা নিক্ষেপ করবে।
৮০৫. কঙ্করসমূহ নিক্ষেপ করার সময় কয়েকটি বিষয় ওয়াজিব ও
এক. নিয়ত খাঁটি মনে এবং অন্যকে প্রদর্শনের উদ্দেশ্য ব্যতীত হতে হবে ।
দুই. সেগুলোকে নিক্ষেপ করতে হবে। সুতরাং যদি নিকটে গিয়ে হাত সেখানে রেখে দেয় তাহলে যথেষ্ট হবে না।
তিন, নিক্ষেপের মাধ্যমে জামারাহ’য় পৌঁছাতে হবে।
চার. কঙ্করসমূহের সংখ্যা হবে সাতটি।
পাঁচ. ধীরে ধীরে একটির পর একটি নিক্ষেপ করতে হবে। এক্ষেত্রে যদি । সাথে গিয়ে জামরায় আঘাত করে তাহলে অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি সবগুলো কিনা। কয়েকটি একসাথে নিক্ষেপ করে তাহলে যথেষ্ট নয়। যদিও একসাথে সেগুলো জামারাহ’য় না পৌঁছায় এবং পর পর যেয়ে পৌঁছায় ।
৮০৬. যদি সন্দেহ করে যে, কঙ্কর অন্য কেউ ব্যবহার করেছে কি-না, তাহলে তা ক্ষেপ করা জায়েজ।
৮০৭, যদি হেরেমের এলাকার মধ্যে যে কঙ্কর রয়েছে তার ব্যাপারে সন্দেহ করে বাইরে থেকে এনেছে কি-না, এতে ভ্রুক্ষেপ করবে না।
৮০৮. যদি নিক্ষেপ করা পাথরের ব্যাপারে সন্দেহ করে যে, তাকে নুড়ি বলা হয়। না, তাহলে যথেষ্ট মনে করা ঠিক নয় ।
৮০৯, যদি নিক্ষেপরত অবস্থায় কয়টি নিক্ষেপ করা হলো সে বিষয়ে সন্দেহ হয়, তাহলে ততগুলো পরিমাণ নিক্ষেপ করবে যতক্ষণ না সংখ্যার ব্যাপারে নিশ্চি হবে। তদ্রূপ যদি সন্দেহ করে যে, নিক্ষিপ্ত পাথর জামরাহ’য় আঘাত করেছে কি তাহলে ততক্ষণ পর্যন্ত নিক্ষেপ করবে যতক্ষণ না সে নিশ্চিত হয় ।
৮১০. যে পাথরকে নিক্ষেপ করা হয়েছে সেটা যদি জামারাহ’য় না তাহলে পুনরায় নিক্ষেপ করতে হবে। যদিও নিক্ষেপের সময় তার ধারণা ছি জামারাহ্’য় পৌঁছেছে। সুতরাং যদি জামারাহ্’র পাশে অন্য কিছু স্থাপন করা থাকে ভুলক্রমে সেগুলোতে নিক্ষেপ করে, তাহলে যথেষ্ট নয়। তাকে পুনঃ আদায় কর হবে, এমনকি যদি পরবর্তী বছরে তার প্রতিনিধির মাধ্যমেও হয় ।
৮১১. যদি কয়েকটি পাথরকে একসাথে নিক্ষেপ করে তাতে আপত্তি নেই। সেক্ষেত্রে একটিই হিসাব হবে। সেগুলোর মধ্য থেকে একটি সেখানে আঘাত অথবা সবগুলোই আঘাত করুক ।
৮১২.দ-ায়মান অবস্থায় কিম্বা সওয়ার অবস্থায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা জায়েজ ।
৮১৩. যদি পাথর নিক্ষেপ করার পর এবং সে স্থান থেকে ফিরে আসার পর পাথরের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়, তাহলে যদি সন্দেহ হয় কমসংখ্যার ওপর, সেক্ষেত্রে সতর্কতা হলো ফিরে যাবে এবং কমতিটা পূরণ করবে। আর যদি সন্দেহ হয় সংখ্যার আধিক্য সম্পর্কে, সেক্ষেত্রে ভ্রূক্ষেপ করবে না।
৮১৪. যদি কোরবানীর পশু জবাই করা কিম্বা মাথা ন্যাড়া করার পরে পাথর নিক্ষেপ করা কিম্বা তার সংখ্যা সম্পর্কে সন্দেহ করে, তাহলে ভ্রূক্ষেপ করবে না।
৮১৫. পাথর পৌঁছানো এবং তার সংখ্যা সম্পর্কে অনুমানের কোন দাম নেই ।
৮১৬. পাথর নিক্ষেপ করার সময় ছোট বা বড় অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকা শর্ত না। আর খোদ পাথরসমূহেও পবিত্রতার শর্ত নেই।
৮১৭. শিশু, অসুস্থ এবং অন্য যারা কোন কারণবশত- যেমন বেহুঁশ হয়ে পড়া- নিজেরা কঙ্কর নিক্ষেপ করতে সক্ষম নয়, তাদের পক্ষ থেকে কেউ প্রতিনিধি হয়ে তা নিক্ষেপ করবে ।
৮১৮. মুস্তাহাব, বরং সতর্কতাপূর্ণ কাজ হলো, যদি সম্ভব হয়, তাহলে অসুস্থকে বহন করে জামারার কাছে নিয়ে যেতে হবে এবং তার উপস্থিতিতেই কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে ।
৮১৯, যদি অসুস্থ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠে এবং বেহুঁশ ব্যক্তি হুঁশ ফিরে পায় সেক্ষেত্রে প্রতিনিধি যদি ইতিমধ্যে কঙ্কর নিক্ষেপ করে থাকে, তাহলে তার নিজের একাজ আর পুনঃ আদায় করার দরকার নেই।
৮২০, যাদের দিনের বেলা কঙ্কর নিক্ষেপ করতে অসুবিধা রয়েছে, তারা রাত্রে নিক্ষেপ করতে পারবে । সেটা রাতের যে কোন প্রহরেই হোক না কেন
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)
