প্রশ্ন-১ বলা হয় আল্লাহ কি স্ত্রীলোকদের জন্য না মাহরাম যে তারা যদি গোপনতম কক্ষে দরজা বন্ধ করে দিয়ে অন্ধকারে নামাযে দাঁড়ায় তাহলেও তাদের পর্দা করতে হবে ?
উত্তরঃ প্রথমতঃ সকল হুকুম আহকামের দর্শন (রহস্য) আমাদের জন্য স্পষ্ট নয়। দ্বিতীয়তঃ হয়তোবা আল্লাহর উক্ত নির্দেশের পিছনে হিকমত এটা হতে পারে যে, মহান আল্লাহর সম্মুখে স্ত্রীলোকদের জন্য এটাই (সর্বোত্তম অবস্থা)। আর সে অবস্থাতেই আল্লাহর ইবাদতেমশগুল হবে তার চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে।
অথবা বলা যায় এটা হল পর্দার জন্য একটি উত্তম অনুশীলনস্বরূপ। যেস্ত্রীলোক দিনরাতে ৫ বার যেখানে কোন না-মাহরাম ব্যক্তি নেই সেখানে যদি এভাবে পর্দা করতে পারে তাহলে নিঃসন্দেহে না-মাহরাম ব্যাক্তর সম্মুখে সে নিজেকে এর চেয়েও উত্তমভাবে পর্দায় রাখবে।
প্রশ্ন-২ যে সব কাপড়ে সূর্যকিরণ কিম্বা আলোর নীচে চুলের ছায়া প্রকাশমান হয়ে পড়ে সে কাপড়ে নামায করার হুকুম কি? তদ্রুপ ঐ একই কাপড় দ্বারা যেখানে চুলের ছায়া প্রকাশমান হয় না ( যেমন ছায়ায় নামায পড়া) তখন হুকুম কি?
উত্তরঃ যদি কাপড় এতটা পাতলা না হয় যে তার শরীর বা চুল পকাশমান হয়ে পড়ে তাহলে আপত্তি নেই। (ইস্তিফতা)
প্রশ্ন-৩ নামাযের মধ্যে স্ত্রীলোকদের কি এমনভাবে পর্দা করতে হবে যে কোন দিক থেকে তার শরীর দেখা না যায়?
উত্তরঃ সবদিক থেকেই পর্দা থাকতে হবে। তবে সেস্থানগুলো ছাড়া যেগুলো শুধু নীচের অংশ থেকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমনঃ কোন স্ত্রীলোক স্কার্ফ ছাড়াই নামায আদায় করছে এবং ওড়না বা চাদরটিক এমনভাবে তার মাথার উপর রেখে দিয়েছে যাতে তার গলার নিচে দেখা না যায়। (যদিও রুকুর সময় নীচের দিক থেকে হয়তো সে স্থানটি দেখা যেতে পারে) তাহলে কোন আপত্তি নেই। যদি না কেউ নীচ থেকে সেদিকে তাকাচ্ছে কিম্বা সে এমন স্থানে নামাযে দাঁড়ায় যেখানে কেউ সেভাবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে তাহলে ভিন্ন কথা। কিন্তু এহতিয়াতে মুস্তাহাব হল নীচের দিক থেকেও পর্দা রাখা। (উরওয়াতুল উছকা, খঃ ১, পৃঃ ৫৫৩) (তাহরীরুল উসিলা, খঃ ১, পৃঃ ১৩৯)
প্রশ্ন-৪ যদি কোন স্ত্র্রীলোক নামাযের সময় কিম্বা নামাযের পরে বুঝতে পারে যে তার শরীরের যে অংশ ঢেকে রাখার দরকার ছিল তার কিছু অংশ আলগা ছিল তাহলে তার কর্তব্য কি?
উত্তরঃ তার নামাজ সঠিক হবে। আর যদি নামাযের মধ্যে বুঝতে পারে তাহলে নামাযকে অব্যাহত রাখার জন্য উক্ত অঙ্গকে ঢেকে নিতে হবে। (উরওয়াতুল উছকা, খঃ ২, পৃঃ ৫)
প্রশ্ন-৫ যদি কেউ একটা সময়কাল ধরে এমন পর্দা সহকারে নামায আদায় করেছে যা পরবর্তীতে বুঝতে পারে যে যথেষ্ট ছিল না (হুকুম নাজানার কারণে) সেক্ষেত্রে তার কর্তব্য কি?
উত্তরঃ যদি বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা না দেখে যাতে অনুসন্ধান করার প্রয়োজন হয়ে যায় তাহলে সে নামাযের কাযা নেই।
সুত্রঃ আহকামে মুমিনাত বই থেকে সংগ্রহীত (ওলীয়ে আমরে মুসলিমীনে জাহান হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী (মুদ্দা যিল্লুহুল অলী)-এর ফতোয়া সংকলন)
