বন্ধুর অধিকার

by Syed Yesin Mehedi

সেই হচ্ছে প্রকৃত বন্ধু যে অপর বন্ধুর বিপদকালে তার পাশে দাঁড়ায় এবং “সফরকালে বন্ধুর প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়” এমন অনেক প্রবাদ আমাদের সমাজে প্রচলিত রয়েছে ঘনিষ্ঠতা ও আন্তরিকতা মূলত দু’বন্ধুর মাঝে পারস্পরিক আবেগ ও অনুভূতির সমন্বয়ে গড়ে উঠে। এ কারণে যখন বন্ধুত্বের প্রসঙ্গ আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই ত্যাগ ও উৎসর্গের বিষয়ও আলোচিত হয়। তাইতো বলা হয়ে থাকে, “সেই হচ্ছে প্রকৃত বন্ধু যে অপর বন্ধুর বিপদকালে তার পাশে দাঁড়ায়” অথবা “সফরকালে বন্ধুর প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায়।” প্রকৃতপক্ষে এ সমস্ত প্রবাদের মাধ্যমে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয় যে, দুঃসময় ও বিপদকালে বন্ধুর আসল পরিচয় প্রকাশ পায়। ইসলাম মুসলমানদের প্রতি আদেশ দিয়েছে যে, প্রত্যেক মুসলমান যেন অপর মুসলমানের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখে এবং দুঃখ-দুর্দশায় যেন তার পাশে এসে দাঁড়ায়। নিশ্চয়ই একজন মুসলমানের উচিত অপর মুসলমান বন্ধুর জান, মাল ও ইজ্জত রক্ষায় সর্বদা সচেষ্ট থাকা। বস্তুত প্রত্যেক মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে স্বীয় ঈমানদার বন্ধুর সার্বিক সাহায্য ও সহযোগিতায় আত্মনিয়োগ করা। পবিত্র ইসলাম ধর্মে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক, যা মূলত পারস্পরিক বন্ধুত্বের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করে, সেটার উপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করা হয়েছে ।

পক্ষান্তরে, পরহেজগারীতা আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল এবং পৃথিবীতে তাকওয়া অবলম্বন ও সৎকর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে একে অপরকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করে থাকে। তাই স্বাভাবিকভাবেই পরকালেও তাদের বন্ধুত্ব অটুট ও সুদৃঢ় থাকবে। যেহেতু এ পৃথিবীতে তাদের মাঝে গড়ে উঠা পারস্পরিক বন্ধুত্ব সম্পূর্ণ ইতিবাচক ও নিষ্কলুষ, সেহেতু তা কেবল এ পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এরূপ বন্ধুত্ব পরকালীন জীবনেও ধারাবাহিকতা লাভ করবে।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔