আয়াতুল্লাহ বেহজাত (রহঃ) ও বাহাউদ্দিন এর সানিধ্যে একদিন

by Syed Tayeem Hossain

অনুবাদ- মোঃ হোসাইন কাদীর গাজী, ছাত্র, ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র, খুলনা

আয়াতুল্লাহ বেহজাত (রহঃ), আরেফ বিল্লাহ সাইয়্যেদ আলী কাযী তাবাতাবায়ী (রহঃ) এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, আয়াতুল্লাহ কাযী তাবাতাবায়ীর কিছুসংখ্যক ছাত্র তাকে বললেন:- “আমাদেরকে কিছু মূল্যবান জিনিস শিক্ষা দিন।”
আয়াতুল্লাহ তাবাতাবায়ী জবাবে বললেন: “সবচেয়ে বেশি মূল্যবান একটি যিকির হলো-
” اللَّهُمَّ اَغْنِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ وَ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ ”
যার অর্থ হলো: হে আল্লাহ, আমাকে হালালের ওসিলায় হারামের অমুখাপেক্ষী করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দ্বারা অন্যদের অমুখাপেক্ষী করুন।
আয়াতুল্লাহ বেহজাত (রহঃ) বলতেন: “তোমরা যতবার ইচ্ছা এই যিকিরটি পাঠ করো এবং এটি পাঠ করার পূর্বে ও পরে একবার সালাওয়াত তথা দূরুদ প্রেরণ করো।”
যারা অর্থনৈতিক সমস্যা দূর করতে এবং জীবিকা বৃদ্ধি করতে আয়াতুল্লাহ বেহজাত (রহঃ) এর কাছে নির্দেশনা চাইতেন তাদেরকেও তিনি উক্ত নির্দেশনাটি সুপারিশ করতেন।
তথ্যসূত্র- দার মাহযারে বেহজাত, খন্ড-৩, পৃষ্ঠা-২৮৫###

একজন ব্যক্তি আয়াতুল্লাহ বেহজাত (রহঃ) এর কাছে একটি নির্দেশনা চাইলেন।
আয়াতুল্লাহ বেহজাত যিকরে ব্যস্ত ছিলেন, মাথা উচু করলেন আর বললেন:- “গুনাহ থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকো।”
অতঃপর মাথা নিচু করে আবার যিকরে ব্যস্ত হয়ে গেলেন।
কিছুক্ষণ পর আবার মাথা উচু করলেন এবং বললেন:- যদি কখনো গুনাহ করেও থাকো, তবে চেষ্টা করবে সেটা যেন মানুষের হক সম্পর্কিত না হয়।”
মাথা নিচু করে পুনরায় যিকরে ব্যস্ত হয়ে গেলেন।
কিছুক্ষণ পর আবার মাথা উচু করলেন এবং তৃতীয়বারের মতো বললেন:- যদি মানুষের হক সম্পর্কিত গুনাহও করে থাকো তাহলে যথাসম্ভব চেষ্টা করবে দুনিয়াতেই তা মিটিয়ে নেওয়ার, কখনোই আখেরাতের জন্য তা রেখে দিও না, কেননা আখিরাত অত্যন্ত কঠিন।
তথ্যসূত্র- “ফারিয়াদগারে তাওহিদ” গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।###

আয়াতুল্লাহ বাহাউদ্দিনের একজন ছাত্র বর্ণনা করেছেন যে, আমরা একদিন একটি কবরস্থানে প্রবেশ করলাম। যখনই কবরস্থানে যেতাম এটাই হতো যে, তিনি কবরস্থানের শুরুতে থামতেন এবং কবরবাসীর উদ্দেশ্যে সুরা ফাতিহা পাঠ করতেন।
কিন্তু সেদিন কয়েকটি কাজ করতে দেখলাম। তিনি একটি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর বললেন:- “চলো, আমরা এখানে বসে যাই”
সেখানে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর আবার একসাথে হাঁটা শুরু করলাম এবং কবরস্থান থেকে বের হয়ে গেলাম। একটু পর আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: “উক্ত কবরের পাশে বসে থাকার কোনো বিশেষ কারণ আছে কি?”
তিনি জবাবে বললেন: “উক্ত কবরবাসী কঠিন আযাবের মধ্যে ছিলো। ভাবলাম হয়তো তার আযাব কিছুটা কমবে, যদিও সেটি অকার্যকর (অসম্ভব) ছিল না।
বিঃদ্রঃ একজন মনিষী বলতেন যে, “যখনই কোনো কবরের নিকটবর্তী হবে, ১১বার সুরা ক্বদর পড়বে এবং আল্লাহর নিকট মুহাম্মাদ ও আলে মুহাম্মাদের ওসিলায় কবরবাসীর জন্য রহমত কামনা করবে।
ইনশাআল্লাহ এটি কবরবাসীকে আযাব থেকে মুক্তি দিতে কার্যকর হবে।###

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔