ঈসা (আঃ )- এর প্রত্যাশা

by Syed Tayeem Hossain

হযরত ঈসা (আঃ) তার শিষ্য-সাথী তথা হাওয়ারীদেরকে বললেন, আমার একটা প্রত্যাশা আছে। যদি তোমরা আমার এ আশা পূর্ণ করার প্রতিশ্রতি দাও তাহলে আমি তোমাদেরকে সে আশার কথা বলবো। জবাবে হাওয়ারীরা বললো, আপনি হুকুম করুন আমরা সবাই আপনার সে নির্দেশ পালনের জন্য প্রস্তুত।
ঈসা (আঃ) নিজের স্থান থেকে উঠে গিয়ে হাওয়ারীদের প্রত্যেকের পা ধুয়ে দিতে লাগলেন। এতে হাওয়ারীদের চেহারায় অস্থিরতা ও অশান্তির ছাপ ফুটে উঠলো। কিন্তু যেহেতু ঈসা (আঃ)-এর আশা- আকাংক্ষা পূর্ণ করার অঙ্গীকার করেছিল, তাই নীরব থাকা ব্যতীত আর কোন পথ ছিল না। যা হোক, ঈসা (আঃ) তাদের পা ধুতে থাকলেন। তিনি যখন এ কাজ থেকে অবসর হলেন তখন তারা বললো, আপনি আমাদের শিক্ষাগুরু, উচিত ছিল তো আমরাই আপনার পা ধুয়ে দেবো। কিন্তু আপনি এ কাজ করে আমাদেরকে লজ্জিত করলেন।
হযরত ঈসা (আঃ) বললেন, আমি এ কাজ লোকদেরকে এ শিক্ষা দেবার জন্য করেছি যে, সবচেয়ে অধিক যোগ্য ও বিজ্ঞ সে ব্যক্তি যে, আল্লাহর সৃষ্টির সেবা করার দায়িত্ব পালন করে। আমি এ কাজটি হীনতা-নিচতা ও হেয়পনার নমুনা হিসাবে পেশ করার জন্য আঞ্জাম দিয়েছি যাতে করে তোমরা অধমতা ও হেয়তার শিক্ষা লাভ করতে পারো। আমার পরে যখন তোমাদের উপর সাধারণ মানুষকে শিক্ষা দেয়া ও সত্য দ্বীনের দাওয়াত পেশ করার দায়িত্ব আসবে তখন তোমরাও হীন ও নিচ মনোভাব নিয়ে সৃষ্টি সেবার পথ অবলম্বন করতে পারো। জ্ঞান-বুদ্ধি এরূপ অধমতা ও হেয়তার ক্ষেত্রেই সুশোভিত হয়ে ওঠে। ঠিক বিপরীতে অহংকার ও দম্ভতার পরিবেশে জ্ঞান-বুদ্ধির বিকাশ ঘটা একেবারেই অসম্ভব। এর উদাহরণ মনে করো এমন যে, ঘাস নরম মাটিতে উৎপাদিত হয়ে থাকে, শক্ত জমির পাহাড়ে ঘাস জন্মানো অসম্ভব। (সূত্র: ওয়াসায়েল দ্বিতীয় খ-, প. ৪৫৭।)###

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔