২। শেষে হায়েয নির্ণয়ের মাপকাঠি; (যদি ধরে নেয়া হয় যে, দশ দিনের মধ্যে রক্ত বন্ধ হয়ে গেছে)
যদি রক্ত ১০ দিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় তাহলে সম্পূর্ণটা হায়েয হবে। আর হুকুমের ক্ষেত্রে হায়েযের ছয় প্রকারের মধ্যে কোন পার্থক্য হবে না। তবে যে সকল মহিলা নিদ্দিষ্ট মাসিকের অধিকারীনি এবং রক্তশ্রার্ব যদি মাসিকের দিনসমূহ অতিক্রম করে যায় তাহলে তাদের সম্পর্কে ইমাম খোমেনী (রহ.) বলেন, এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে উচিত হল একদিনের ইবাদতকে পরিত্যাগ করা। আর একদিন পর দশ দিন অবধি এহতিয়াতে মুস্তাহাব হল মুস্তাহাযা ব্যক্তির করণীয় এবং হায়েয ব্যক্তির নিষেধসমূহের মধ্যে সমন্বয় করে চলা। যদি দশ দিন পর্যন্ত রক্ত¯্রাব অব্যাহত থাকে তাহলে সম্পূর্ণটা হায়েয হবে। আর যদি দশ দিন ছাড়িয়ে যায় তাহলে অন্যান্য মাসের দিনসমূহের অতিরিক্ত যে দিনগুলো সেটা ইস্তিহাযা হবে। আর ঐ যে একটি দিন এহতিয়াতে ওয়াজিবের ভিত্তিতে ইবাদতকে বর্জন করেছিল সেদিনের ইবাদতকে কাযা করবে। (উরওয়াতুল উছকা, হায়েয অধ্যায়, পৃঃ ৩২৪, মাঃ ১৭, ২০, তাহরীরুল উসীলা, খঃ ১, পৃঃ ৪৯, মাঃ ১৬, পৃঃ ৫০, মাঃ ১৮)
স্মর্তব্য
(ক) প্রশ্ন:জনৈকা মহিলার সচরাচর মাসিকের মেয়াদ ৫ দিন ছিল এবং তারপর পাক হয়ে যেত। রমজান মাসে সবসময়ের মাসিকের মেয়াদ অনুযায়ী পাঁচ দিন পরে সে গোসল করে নিল এবং ষষ্ঠ দিনে পাক অবস্থায় রোযা রাখল। কিন্তু সপ্তম দিনে সে রক্তের দাস দেখতে পেল। এমতাবস্থায় তার (৬-৭) এই দুই দিনের বিশেষ করে ষষ্ঠ দিনের নামায ও রোযার হুকুম কি?
উত্তর : এক্ষেত্রে উভয় দিনই হায়েযের হুকুমে পড়বে। (ইস্তিফতা)
(খ) উপরোক্ত ঘটনার ক্ষেত্রে যখন সব সময়ের মাসিকের মেয়াদের পরে এবং পাক হওয়ার পরে এক/দু’দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এবং দশ দিন পূর্ব হওয়ার পূর্বে পুনরায় রক্তের দাগ দেখতে পায় সেক্ষেত্রে পাক হওয়ার পর যে গোসল করেছিল তাকে রক্তের দাগ দেখার পরেও পুনরায় গোসল করতে হবে। আর মাঝে ঐ যে এক বা দু’দিন পাক ছিল সেটাও হায়েযের অন্তর্ভূক্ত হবে। আর যদি কোন রোযা পালন করে থাকে তাহলে অন্যান্য দিনের অতিরিক্ত হিসাবে কাযা করতে হবে।
(গ) (পূর্বের ঘটনায়) দ্বিতীয় গোসলটিকে রক্তের দাগ দেখার পর করতে হবে। এটা ঠিক নয় যে, সে দশ দিন অবধি ধৈর্য্যধারণ করবে অতঃপর গোসল করবে।
(ঘ) উপরোক্ত বক্তব্যসমূহ থেকে বোঝা যায় যে, কোন মহিলা মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার পর ও দশ দিনের পূর্বে যে কোন প্রকারের রক্তের দাগ দেখুক না কেন হায়েযের হুকুমে পড়বে।
(ঙ) যে মহিলা নিদ্দিষ্টরূপে আদাদীয়া মাসিকের অধিকারিনী ছিল তার মাসিকের উক্ত মেয়াদ থেকে একদিন অতিক্রান্ত হলে নিশ্চিত সেটা হায়েযের হুকুমে পড়বে এবং ইবাদত করা থেকে বিরত থাকবে। আর দশদিন পর্যন্ত বাকী দিনগুলো ইস্তিহাযার রক্ত বলে গণ্য হবে। তবে এহতিয়াতে মুস্তাহাবের ভিত্তিতে সে হায়েয ব্যক্তির উপরে যেসব কাজ হারাম সেগুলো করা থেকে বিরত থাকবে কেবল নামায ও রোযা ব্যতিত। (তাহরীরুল উসীলা, খঃ ১, পৃঃ ৫০, মাঃ ১৮)
(চ) স্পষ্ট হওয়ার জন্য একদিনের পর থেকে হায়েযের গোসল সম্পন্ন করবে এবং তারপর মুস্তাহাযা ব্যক্তির করণীয়সমূহ পালন করবে।
সুত্রঃ আহকামে মুমিনাত বই থেকে সংগ্রহীত
