তাকছীর সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর বা ফতোয়া
প্রশ্ন-৭১৫ : যে ব্যক্তির তাকছীর বাতিলের নির্দেশভুক্ত এবং অতঃপর সে ইহরামের কারণে হারাম হওয়া কাজসমূহকে সম্পাদন করেছে এবং মাসআলা সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল, তার কি কাফফারা রয়েছে?
উত্তর: অজ্ঞ হলে কাফফারা নেই, শুধুমাত্র শিকারের ক্ষেত্রে ছাড়া। যার বিস্তারিত বিবরণ (মাসআলা) উল্লেখিত রয়েছে।
প্রশ্ন-৭১৬: যে ব্যক্তি তামাকু ওমরাহ’য় সাঈর পরে তাকছীর করে। অতঃপর সন্দেহে নিপতিত হয় যে, এই তাকছীর সঠিক হয়েছে কি-না, এতে কি কোনো সমস্যা। রয়েছে?
উত্তর : যদি আমল সম্পাদন করা অবস্থায় মাসআলার প্রতি জ্ঞাত ও মনোযোগী। থাকে, তাহলে সমস্যা নেই।'( ১ যদি আমল সম্পাদন করার সময় মনোযোগী ছিল বলে সম্ভাবনা দেয়, তাহলে ভ্রূক্ষেপ করবে না।)
প্রশ্ন-৭১৭: হজ্ব কাফেলার একজন সেবক মীকাত থেকে মুফরাদা ওমরাহর উদ্দেশ্যে ইহ্রাম বাঁধে এবং মক্কায় আসে। অতঃপর তাওয়াফ, নামায এবং তারপর ঐ একই নিয়তে সাফা ও মারওয়ার মধ্যেকার সাঈও পালন করে। কিন্তু তাকছীরের। বেলায় তার ধারণা ছিল চুল উপড়ে ফেলাই যথেষ্ট। কাজেই তাকছীর হিসেবে সেখ কয়েকটি চুল উপড়ে ফেললো এবং তার হিসাবে ইহরাম থেকে বের হয়ে এলো। অতঃপর তার কর্তব্য মোতাবেক তামাণ্ডু ওমরাহ’র জন্য মীকাতে গেল ও ইহরাম। বাঁধলো এবং মক্কায় এসে সমুদয় আমল অর্থাৎ তাওয়াফ থেকে তাকছীর পর্যন্ত। সবগুলোই পালন করলো। তার এই আমলসমূহের ব্যাপারে নির্দেশ কী এবং পরবর্তীতে কর্তব্য কী?
উত্তর: তাকছীরের ক্ষেত্রে চুল উপড়ে ফেলা যথেষ্ট নয়। আর তার তামান্ডু ওমরাহ্ও সঠিক নয়। যদি না তার জন্য ইহরামের পূর্বে মুফরাদা ওমরাহ’র ইহরাম থেকে সঠিক তাকছীর সহকারে বের হয়ে এসে থাকে।
প্রশ্ন-৭১৮: যদি কেউ মুফরাদা ওমরাহ’র তাকছীর ভুলে যায় তাহলে সে কি যে কোনো স্থানে তাকছীর করতে পারবে? কারণ সে ইরানে ফিরে এসেছে। আর এক্ষেত্রে তাওয়াফে নিসা কি পুনরায় পালন করতে হবে?
উত্তর: তাকছীর যে কোনো স্থানে সম্পাদন করতে পারবে। কিন্তু তাওয়াফে নিসা পুনঃ আদায় করতে হবে। আর সে যদি নিজে না যেতে পারে, তাহলে প্রতিনিধি নিযুক্ত করবে।
প্রশ্ন-৭১৯ : যদি কোনো সুন্নী শিয়াকে তাকছীর করে দেয় তাহলে তার নির্দেশ
উত্তর: অসুবিধা নেই।
প্রশ্ন-৭২০: এক ব্যক্তি হজ্বের মধ্যে তামাত্তু ওমরাহ’র তাকছীর হিসেবে শরীর তার হজ্বে থাকে, তাহলে তার করণীয় কী? থেকে একটি চুল উপড়ে ফেলেছে এবং এখন সে বুঝতে পেরেছে। তাহলে কি সমস্যা রয়েছে? আর যদি নির্দেশ লঙ্ঘন করে
উত্তরঃ যদি হন। এদের জন্য আয়াবো, তাহলে উপরোক্ত আমলের দ্বারা আপাতত ইহরাম থেকে বের হয়ে এসেছে পা।আর যদি ওয়াজির হজ্ব হয়ে থাকে,( ‘তাকছীরের স্থলে চুল উপড়ে ফেলা যথেষ্ট নয়। যদি জ্ঞাতসারে ও ইচ্ছাকৃতভাবে করে থাকে, তাহলে কাফফারা ধার্য হবে। কিন্তু যদি মাসআলা না জেনে তাকছীর পরিত্যাগ করে থাকে, তাহলে তার ওমরাহ বাতিল। আর তার হজ্ব, ইফরাদা হিসেবে সম্পন্ন করেছে। আর হজ্ব যদি তার ওপর ওয়াজিব থাকে, তাহলে সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো মুফরাদা ওমরাহকে হজ্বের আমলসমূহের পরে সম্পাদন করবে। আর পরবর্তী বছরে তামাত্তু ওমরাহ্ এবং হজ্ব পালন করবে।) তাহলে সতর্কতা হলো একটি মুফরাদা ওমরাহ পালন করা। অতঃপর তামাতু ওমরাহ ও হজ্ব পালন করবে।
প্রশ্ন-৭২১ : এক ব্যক্তি তাওয়াফ ও তাওয়াফের নামাযের পরে তাহীর সম্পন্ন করলো। অতঃপর সাঈ পালন করলো এবং পুনরায় তাহীর করলো, তার কর্তব্য কি?
উত্তরঃ যদি অজ্ঞতা ও ভুলবশত করে থাকে, তাহলে তার কোনো কর্তব্য নেই।
প্রশ্ন-৭২২ : যারা হজ্বের আমলসমূহ দুই উকুফের (অর্থাৎ আরাফাত ও মাশআরে অবস্থান করার) আগেই সম্পন্ন করে, তারা যদি সাঈর পর তাহীর করে, তাহলে কি ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার কারণ হবে, নাকি কাফফারার কারণ হবে?
উত্তর : ইহরাম থেকে মুক্ত হবে না। আর যদি অজ্ঞতাবশত কিম্বা ভুলে করে থাকে, তাহলে কাফফারা নেই।
প্রশ্ন-৭২৩ : যদি কেউ তাছীরের স্থলে মাথা ন্যাড়া করে, তাহলে কি যথেষ্ট হবে?
উত্তর: তামাত্তু ওমরাহ’য় যথেষ্ট হবে না।'( যথেষ্ট হবে না। আর যদি এ কাজটি জ্ঞাতসারে ও ইচ্ছাকৃতভাবে করে থাকে, তাহলে হারাম কাজ করেছে এবং একটি ভেড়া কুরবানি প্রদান করতে হবে।)
প্রশ্ন-৭২৪ : যে ব্যক্তি ওমরাহ’র আমলসমূহ পালন করার পর বাসায় তাছীর করে, তাহলে তার করণীয় কী?
উত্তর: বাধা নেই।
প্রশ্ন-৭২৫: আপনি তাকছীরের দ্বিতীয় মাসআলায় বলেছেন, ‘যদি কেউ গের দেখানোর উদ্দেশ্যে তাকছীর পালন করে, তাহলে তার ওমরাহ বাতিল। এই ওমরাহ বাতিল হওয়া বলতে কী বুঝানো হয়েছে? আর তার কর্তব্য কী?
উত্তর: এর অর্থ হলো তাকছীরের মধ্যে ভ-ামি করা এবং তাহার না করেই হজ্বের জন্য ইহরাম বাঁধা ও হজ্ব পালন করা। সেক্ষেত্রে তার জন্য নির্দেশ হবে সেই ব্যক্তির ন্যায়, যে তাকছীর ছাড়াই হজ্বের আমলে প্রবেশ করেছে। তবে এ সকল অবস্থায় তামাত্তু হজ্ব পরবর্তী বছরে পালন করতে হবে।
প্রশ্ন-৭২৬ঃ যদি কেউ অজ্ঞতাবশত তাকছীর বর্জন করে, তাহলে তার ব্যাপারে নির্দেশ কী?
উত্তর: এই মাসআলায় অজ্ঞের নির্দেশ হবে ইচ্ছাকৃতের ন্যায়।
প্রশ্ন-৭২৭ ঃ যদি মুফরাদা ওমরাহ’য় কেউ তাকছীরকে ইচ্ছাকৃতভাবে কিন অজ্ঞতাবশত ও ভুলক্রমে বর্জন করে এবং তাওয়াফে নিসা সম্পন্ন করে, তাহলে কর নির্দেশ কী? উত্তর : তাকে তাছীর করতে হবে এবং তাওয়াফে নিসা পুনঃ আদায় করছে। আর অধিকতর সতর্কতা হলো ইচ্ছাকৃত, ভুলবশত, জাতসারে এবং অজাতদায়ে হওয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
৭২৮. তামাকু ওমরাহ্ পালনের পরে এবং তামাণ্ডু হজ্ব পালনের আগে মুফরান। ওমরাহ পালন করা যাবে না। আর যদি পালন করে, তাহলে মুফরাদা ওমরাহ সঠিক হওয়া সমস্যার সম্মুখীন হবে। তবে তামাণ্ডু ওমরাহ ও হজ্বের জন্য সমস্যা সৃষ্টি হয় না।
৭২৯. হজ্বের কাফেলাসমূহের সেবকরা যদি মুফরাদা ওমরাহ্ পালন করে থাকে তারা যতবারই মক্কা থেকে বের হবে ও মদীনায় যাবে এবং প্রত্যাবর্তন করবে, ইহয়া বাঁধার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি তামাণ্ডু ওমরাহ পালন করে থাকে তাহলে সতর্কত ভিত্তিতে মক্কা থেকে বের হওয়া উচিত নয়, কেবল জরুরি ক্ষেত্র ছাড়া, যদি হলে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় থাকে। ( যে ব্যক্তি নিশ্চিত থাকে যে, মক্কা থেকে বের হওয়ার কারণে তার হজ্ব হাতছাড়া হয়ে যাবে না, তয় জন্য তামাতু ওমরাহ পালনের পরে এবং হজ্বের ইহরাম বাঁধার পূর্বে মক্কা থেকে বাইরে যাওয়া জায়েজ। যদিও সতর্কতামূলক মুস্তাহাব হলো কেবল জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রেই বাইরে যাবে )
প্রশ্ন-৭৩০ ও হজ্ব কাফেলার সেবকবৃন্দ যাদের তামার ওমরাহ পালনের পরে তাঁবুপমূহকে ও অন্যান্য কাফেলাকে দেখার জন্য আরাফাতে ও মিনায় যেতে হয় এবং ফিরে আসতে হয়, তাদের কর্তব্য কি?
উত্তর ও সতর্কতামূলক ওয়াজিব হলো তারা মক্কা থেকে বের হতে পারবে না। জেলাপরি জেরে ছাড়া হারাম তাদের জন্য কায়সায়। ইহরাম বাঁধতে হবে এবং বাইরে খেতে আরাফাত ও বিনাইয়র যেতে তাদের জন্য জরুরি হয়ে থাকে, তাহলে ইহরাম ছাড়াই যেতে পারবে।
প্রশ্ন-৭৩১: তামার ওমরাহ এবং তামাকু হজ্বের মধ্যে মেশিন দিয়ে মাথার চুল ছটাই করা কি জায়েজ?
উত্তর : মেশিন ব্যবহার করতে আপত্তি নেই। তবে মাথা ন্যাড়া করা যাবে না। আর অধিকতর সতর্কতা হলো মেশিন দ্বারা এমনভাবে ছাঁটা থেকে বিরত থাকা যা ন্যাড়া করার মতো হয়।
প্রশ্ন-৭৩২ : যেমনভাবে তামাকু ওমরাহ’র পরে এবং হজ্বের ইহরামের পূর্বে মাখা ন্যাড়া করা হারাম, দাঁড়ি শেভ করারও কি এই একই নির্দেশ?
উত্তর : দাঁড়ি শেভ করা সংক্রান্ত নির্ধারিত সাধারণ নির্দেশ ছাড়া এই বিশেষ কোন নির্দেশ নেই।
প্রশ্ন-৭৩৩ : হেরা গুহা কি মক্কার সীমানার অন্তর্ভুক্ত, যে কারণে উকুফের (আরাফাত ও মাশআরে অবস্থানের) পূর্বে সেখানে যাওয়া যেতে পারে এবং এটাকে মক্কা থেকে বের হয়ে যাওয়া বলা হবে না?
উত্তর: মহল্লার বাসিন্দাদের কাছে অনুসন্ধান করতে হবে।
প্রশ্ন-৭৩৪: যে ব্যক্তি হজ্ব সংস্থার কর্মচারী এবং নিরূপায় হয়ে তামাকু ওমরাহ’র পরে ও হজ্বের পূর্বে মক্কা থেকে বের হতে হয় এবং আরাফাতে যেতে হয়, যেহেতু তার হজ্ব হলো প্রতিনিধিত্বমূলক, এতে কি তা হজ্বের কোন ক্ষতি হবে?
উত্তর: হজ্বের এবং প্রতিনিধিত্বের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে সম্ভব হলে হজ্বের ইহরাম বাঁধতে হবে এবং মক্কা থেকে বের হবে (অধিকতর সতর্কতার ভিত্তিতে)।
প্রশ্ন-৭৩৫: কিছু কিছু হাজীর বাসা মক্কার বাইরে। তাদের তামাকু ওমরাহ’র পরে এবং হজ্বের ইহরামের পূর্বে মক্কা থেকে বের হওয়ার ব্যাপারে নির্দেশ কী? উত্তর : তামাত্তু ওমরাহ’র পর মক্কা থেকে বের হওয়া জায়েজ নয় (অধিকতর সতর্কতার ভিত্তিতে)। তবে জরুরি ক্ষেত্র ছাড়া। সেক্ষেত্রেও হজ্বের ইহরাম বাঁধতে হবে এবং (তারপর) বের হবে।
প্রশ্ন-৭৩৬ : সম্প্রতি মক্কার চারপাশে জাবালুন্নর এবং জাবালে ছওর পাছ দুটোর পাদদেশ দিয়ে রিং রোড অতিক্রম করেছে, যে দু’টি পাহাড়ে হেরা গুহা এ ছওর গুহা অবস্থিত। ওমরাহ ও হজের মাঝে এ দু’টি পবিত্র স্থান যিয়ারত কয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নির্দেশ কী?
উত্তর : এ মাসআলাটির সামগ্রিক নির্দেশ সুস্পষ্ট এবং পূর্ববর্তী মাসআলায়ও তা বর্ণিত হয়েছে। আর বিষয়বস্তু নির্ণয় করার দায়িত্ব স্বয়ং মুকাল্লাফ ব্যক্তির ওপরই ন্যাস্ত।
প্রশ্ন-৭৩৭ : যে ব্যক্তি তামাকু ওমরাহ পালন করেছে, তার জন্য অনাবশ্যার কাজের উদ্দেশ্যে মক্কা থেকে বের হওয়া কি জায়েজ? আর জরুরি ক্ষেত্রে তথ আবশ্যকতার মাপকাঠি কী?
উত্তর: সতর্কতামূলক ওয়াজিবের ভিত্তিতে তা জায়েজ নয়। আর জরুরি ক্ষেত্রে। তথা আবশ্যকতা হলো সাধারণ বিচারের ওপর নির্ভরশীল ।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)
