তামাত্তু হজ্বকে ইফরাদ হজ্বে পরিবর্তন করা উক্ত পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর বা ফতোয়া :
প্রশ্ন-৭৪৬ঃ যে মহিলা তারিখ ও সময়সীমা উভয় দিক দিয়ে নিয়মিত মাসিকের অধিকারিনী ছিল এবং উদাহরণস্বরূপ মাসের সপ্তম দিনে সে পবিত্র হতো, সে ঐ সপ্তম দিনেই পবিত্র হলো এবং গোসল করলো এবং তার ওমরাহ’র আমলসমূহও পালন করলো। পরের দিন রক্তের দাগ দেখতে পেল। কাজেই পুনরায় গোসল করলো এবং দশ তারিখ পর্যন্ত আমলসমূহ পালন করলো। এগারতম দিনেও রক্তের দাগ দেখতে পেল। এমতাবস্থায় তার হজ্ব কি ইফরাদ নাকি তামাত্তু?
উত্তর: উপরোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী তার কর্তব্য হলো তামাতু।
প্রশ্ন-৭৪৭ঃ এক মহিলা অষ্টম দিনে রক্ত দেখতে পেয়ে, ভাবলো মাসিক হয়েছে। এ কারণে তার ইহরামকে ইফরাদ হজ্বে পরিবর্তন করলো। এরপর যখন আরাফাতে গেল তখন বুঝতে পারলো যে, তার ইস্তিহাযা হয়েছে। তার কর্তব্য কী?
উত্তরঃ যদি ওমরাহ’র সময় সংকীর্ণ হয়ে থাকে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাওয়াফে বিলম্ব না করে থাকে, তাহলে ইফরাদ হজ্ব সম্পন্ন করবে। আর যদি ওয়াজিব হজ্ব হয়, তাহলে তারপরের মুফরাদা ওমরাহ পালন করবে।
প্রশ্ন-৭৪৮ : আমি হজ্ব দলের পরিচালক। আমি হজ্বের যেসব আমল পালন করি সেগুলো মুস্তাহাব। এমতাবস্থায় কি তামাতু হজ্বের স্থলে ইফরাদ হজ্বের নিয়্যত করা যাবে? তামাণ্ডু ওমরাহ’র স্থলে মুফরাদা ওমরাহও কি পালন করা যাবে? এভাবে অন্যান্য সেবকরাও ওয়াজিব হজ্বের হাজী নয়। তারাও কি এরকম করতে পারবে?
উত্তর: তারা মুফরাদা ওমরাহ পালন করতে এবং হজ্বের জন্য ইহরাম নাও বাঁধতে পারে। আবার ইফরাদ হজ্বও পালন করতে পারবে। কিন্তু ইফরাদ হজ্বের মীকাত প্রসিদ্ধ মীকাতসমূহ নয়।
প্রশ্ন-৭৪৯: এক ব্যক্তি তামাকু ওমরাহ’র ইহরাম পরে মক্কায় প্রবেশ করেছে এবং ওমরাহ’র আমলসমূহ পালনের পরে ইফরাদ হজ্বের জন্য ইহরাম বেঁধেছে। তার হজ্ব কি সঠিক?
উত্তরঃ যদি মক্কা থেকে বাইরে চলে যায় এবং মীকাত থেকে ইফরাদ হজ্বের জন্য ইহরাম বেঁধে থাকে তাহলে হজ্ব সঠিক হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তবে তামাকু সম্পন্ন হবে না। তবে, যদি সে মক্কায় ইহরাম বেঁধে থাকে এবং তা যদি তার প্রয়োগিক ক্ষেত্রের ভুল হয়ে থাকে তাহলে তার হজ্ব সঠিক এবং তা তামাতু হজ্বই হবে। অন্যথায় তার হজ্ব সঠিক নয়।
প্রশ্ন-৭৫০ঃ এক ব্যক্তি হেরেমের মধ্যে ইফরাদ হজ্বের জন্য ইহরাম বাঁধলো এবং কিছু কিছু আমলকে পালনও করলো। তার কর্তব্য কী?
উত্তর : যদি অজ্ঞতাবশত হয় সেক্ষেত্রে যদি মীকাতে যাওয়া সম্ভব এবং সেখান থেকে ইহরাম বাঁধা ও উকুফে (অবস্থানস্থলে) পৌঁছা সম্ভব না হয় তাহলে যে স্থানে আছে সেখানেই মুহরিম হবে এবং যেসব আমল ইহরাম সহকারে করা সম্ভব সেগুলো করবে। আর যদি সকল আমলকে উক্ত ইহরাম দ্বারা সম্পন্ন করে থাকে এবং পরবর্তীতে বুঝতে পারে তাহলে তার হজ্ব সঠিক।
(সূত্র :হজ্ব নির্দেশিকা, সংকলনেঃ মোহাম্মদ হুসেইন ফাল্লাহযাদেহ)
