মসজিদের গুরুত্ব

by Syed Yesin Mehedi

রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের পর সর্বপ্রথম যে উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তা ছিল মসজিদ নির্মাণ। কেননা, এক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল পবিত্র মসজিদকে ঘিরে সমস্ত মুসলমানদেরকে একই কেন্দ্রবিন্দুতে সমবেত করা, যেখানে থাকবে না কোন বৈষম্য ও ভেদাভেদ। আরবের জাহেলী প্রথাসমূহের অবসান ঘটবে এবং সবাই একই কাতারে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করবে। সেখানে থাকবে না কোন ধনী-গরীব, বর্ণ বৈষম্য কিংবা গোত্রজ পরিচয়। মসজিদে সবার একই পরিচয়, তা হচ্ছে তারা সবাই আল্লাহর বান্দা। সবাই একই আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল হয় এবং এক ও অভিন্ন নিয়মে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সেজদাবনত হয়। যেমনভাবে সূরা ফাতিহাতে বর্ণিত হয়েছে, ا”(হে আল্লাহ!) আমরা তোমারই উপাসনা করি এবং তোমার থেকেই সাহায্য প্রার্থনা করি।” অর্থাৎ, মসিজদে গমণকারী প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান একমাত্র মহান আল্লাহকে ইবাদত ও উপাসনার উপযুক্ত মনে করে । সূৱা ফাতিহা : ৫।

এবং শুধুমাত্র তার নিকটই সাহায্য কামনা করে। তারা আদৌ আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া অন্য কারও আনুগত্য স্বীকার করে না। আমাদের সমাজে একশ্রেণীর মানুষ আছে যারা বাহ্যিকভাবে আল্লাহর উপাসনা করলেও গোপনে অনেক প্রতাপশালী ও পরাশক্তিকে নিজেদের প্রভু মনে করে। কিন্তু প্রকৃত ঈমানদাররা কখনও একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে প্রভু মনে করতে পারে না। পবিত্র কুরআনের ভাষায়, “মানুষের মধ্যে কতিপয় লোক আছে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যদের তাঁর সদৃশ (সমকক্ষ) গ্রহণ করে থাকে (এবং) আল্লাহর প্রতি যেমন প্রীতি রাখা প্রয়োজন তেমন প্রীতি তাদের সাথে রাখে। তবে যারা ঈমানদার তারা আল্লাহর প্রতি তীব্র ভালবাসা পোষণ করে। সূরা বাকারা : ১৬৫ ”

মু’মিন ব্যক্তি কখনও আল্লাহর ন্যায় অন্য কাউকে ভক্তি ও ভালবাসতে পারে না। কেননা, এ সৃষ্টিজগতের সবকিছুই আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের নিশানা মাত্র। সবকিছুরই উৎসমূল ও দাতা হলেন তিনি। আর আমাদের অস্তিত্বও তার প্রতি মুখাপেক্ষী।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔