মানব সৃষ্টির উত্তম গঠন
সুতরাং, এ সূরায় আমরা যে শিক্ষার কথা উল্লেখ করেছি তার মধ্যে একটি হলো, আল্লাহ আসমান ও জমিনকে সত্যের ভিত্তিতে সৃষ্টি করেছেন| অতঃপর বর্ণিত হচ্ছে— وَصَوَّرَكُمْ فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ ‘এবং (তিনি) তোমাদের আকৃতিও অতি সুন্দর করেছেন|’ অর্থাৎ, সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদেরকে গঠন করেছেন, আমাদেরকে একটি রূপ দিয়েছেন| এখানে একটি রূপ এবং একটি চিত্র দেওয়ার অর্থ এটা নয় যা আমরা সাধারণত ফারসি ভাষাতে চিত্র বলতে বুঝে থাকি, এর অর্থ একজন মানুষকে আঁকা নয়; বরং রূপ দেওয়ার অর্থ হলো মানুষকে এক ধারাবাহিকতায় বিশেষ গঠন প্রদান করা; আয়াতের ভাষায়, وَ صَوَّرَكُمْ অর্থাৎ আল্লাহ তোমাকে এ মানবিক গঠন দিয়েছেন| যে মহান শক্তি এই সৃষ্টি, এই সৃষ্টিজগৎ, এই আইন দিয়ে, এই অনন্য এবং অদ্ভুত সংমিশ্রণে সৃষ্টি করেছে, সেই একই শক্তি এই সংমিশ্রণে মানুষকে সৃষ্টি করেছে; সেই শক্তিই হলেন আল্লাহ তায়ালা যিনি এই শারীরিক সংমিশ্রণ, এই মানসিক সংমিশ্রণ, এই বৌদ্ধিক সংমিশ্রণ, এই আধ্যাত্মিক এবং আবেগের সংমিশ্রণ দিয়ে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন| সুতরাং যেহেতু আপনার সৃষ্টি সেই একই মহান শক্তি কর্তৃক সম্পন্ন হয়েছে, যিনি এ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এ সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা, তিনি আপনাকে এ বিশাল সৃষ্টিজগতের অন্যতম অংশ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন, তাই আপনার চালচলনও অবশ্যই এ বিশ্বের কার্যক্রমের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে| তারপর উল্লেখ করা হয়েছে, فَأَحْسَنَ صُوَرَكُمْ ‘তাই তিনি তোমাদের আকৃতি বা গঠনকে উত্তম করেছেন|’ আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে উত্তম গঠন দান করেছেন, তিনি আমাদের আকৃতিকে সুন্দর করেছেন| চেহারার সৌন্দর্য বলতে এখানে আমাদের পরিভাষাতে ব্যবহৃত মুখমণ্ডলের সৌন্দর্যকে বুঝানো হয়নি; বরং সমস্ত মানুষ, এমনকি বাহ্যিকভাবে যাদের মুখমণ্ডল সুন্দর নয়, তাদের গঠন এবং আল্লাহ তাদেরকে যে চেহারা দান করেছেন তা যেমন সৌন্দর্যমণ্ডিত তেমন উত্তম| অর্থাৎ এ সৃষ্টি একটি উত্তম ও সুন্দর সৃষ্টি এবং একইভাবে নিখুঁত ও পরিপূর্ণ|
39
