হাশরের ময়দানে মানুষের বিভিন্নরূপ (বিস্ময়কর এবং শিক্ষণীয়)

by Syed Tayeem Hossain

মূলঃ আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আব্দুল হুসাইন দাস্তেগায়ব শহীদ (রহঃ)

তাফসীরে মাজমাউল বায়ান-এ হযরত রাসুল (সাঃ) হতে বর্ণিত যে, যখন মা’আজ (রাঃ) সুরা নাবা-র ১৮ নং আয়াত “সেই দিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং তোমরা দলে দলে সমাগত হবে” এর অর্থ সম্পর্কে জানতে চাইলেন, রাসুল (সাঃ) এরশাদ করলেন, হে মাআজ! তুমি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানতে চেয়েছ। রাসুল (সাঃ) এর পবিত্র চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো। তিনি বললেন, কেয়ামতের দিন আমার উম্মতে দশটি দল হবে। আল্লাহ এই দলগুলিকে বাধ্যতামূলকভাবে সকল মুসলমান থেকে পৃথক করে দিবেন এবং তাদের মুখাকৃতি পরিবর্তন করবেন। কতিপয় ব্যক্তি বানরের আকৃতি এবং কিছু লোক শুকরের রূপ ধারণ করবে। একদলের হাত কাটা অবস্থায় থাকবে। একদল অন্ধ, একদল বোবা ও বধির হবে। একদল দেখা যাবে তাদের নিজ নিজ জিহ্বা চর্বন করছে, তাদের মুখ থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ নির্গত হতে থাকবে এবং হাশরবাসী এই দুর্গন্ধে বিচলিত হয়ে পড়বে। অপর একদল লোক উপুড় হয়ে মাথায় ভর করে এগিয়ে আসবে এবং এই অবস্থায় তাদের শাস্তি দেয়া হবে। কিছু লোক আগুনের উত্তপ্ত দন্ডে ঝুলন্ত ও জড়ানো থাকবে এবং একদল লোকের শরীরের দুর্গন্ধ গলিত লাশ অপেক্ষাও কটু হবে এবং এদের শরীর কাতরানের (এক ধরনের পচন নিবারক) আটোসাটো পোষাকে আবৃত থাকবে।

জিজ্ঞাসা করা হল এ ব্যক্তিরা কারা? রাসুল (সাঃ) জবাব দিলেন, যে ব্যক্তি বানরের মুখাকৃতি নিয়ে পুনরুথিত হবে তারা পরনিন্দাকারী এবং জনগণের মধ্যে বিভেদ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী এবং একজনের কথা অন্যজনকে বলতে অভ্যস্ত। যে ব্যক্তি শুকরের চেহারায় আবির্ভূত হব তারা নিষিদ্ধ (হারাম) জিনিষ ভক্ষণকারী। যেমন, ব্যবসা বাণিজ্যে অসাধুতা ও ক্রেতাকে প্রাপ্যের চাইতে কম দিয়েছে, লেনদেনে বিশ্বাসভঙ্গ করেছে, ভাল পণ্যের সাথে খারাপ পণ্য মিশিয়ে বিক্রয় এবং জনগণের মাল সম্পদ আত্মসাৎ করেছে। যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মাথায় ভর দেয়া অবস্থায় থাকবে তারা সুদখোর। যে ব্যক্তি নিজের জিহ্বা চিবাতে থাকবে ও মুখ দিয়ে দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ নির্গত হতে থাকবে তারা এমন আলেম যাদের কোন আমল নেই অর্থাৎ, কথা ও কাজে বিপরীতধর্মী। উপদেশ বিতরণে এরা এগিয়ে থাকলেও আমলের ক্ষেত্রে পশ্চাৎপদ। তার কথায় অন্যেরা উপকৃত হলেও সে নিজে আমলহীন হবে এবং এ কারণেই সে নিজের জিহ্বা চিবাতে থাকবে এবং দুর্দশায় জর্জরিত হবে। যে ব্যক্তির হাত-পা কাটা অবস্থায় হবে সে ঐ ব্যক্তি যারা তাদের প্রতিবেশীর জন্য দুঃখ কষ্টের কারণ হয়েছে। যে দল অন্ধ, এরা অত্যাচারী শাসকদের অন্তর্ভূক্ত যারা ন্যায়ের বিপরীতে নির্দেশ দিয়েছে। বোবা ও বধিরের দল তারা যারা আত্মপ্রশংসায় ব্যস্ত ছিল এবং স্বার্থপর। যারা আগুনের দন্ডে ঝুলন্ত এবং বাঁধা অবস্থায় থাকবে, তারা দুনিয়াতে থাকাকালীন নিজেদেরকে পরচর্চায় নিয়োজিত রেখেছিল এবং ব্যক্তি ও জনগণের দুঃখ কষ্টের কারণ হয়েছিল। গলিত মৃতদেহের চাইতে অধিক দুর্গন্ধ যুক্ত ব্যক্তিরা পার্থিব জগতে ইন্দ্রিয়প্রীতির প্রতি আকৃষ্ট ছিল এবং নিজের ধনসম্পদ থেকে ওয়াজিব হক আদায় করেনি। এবং যাদেরকে আগুনের পোষাক পরিধান করানো হবে তারা ছিল দাম্ভিক ও অহংকারী। অন্য একটি হাদীসে হযরত রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তিদের চোখে আগুনের শলা প্রবিষ্ট করানো হবে তারা ঐ ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্ত যারা নিজের চোখকে হারাম কর্ম দ্বারা পরিপূর্ণ করেছে।###

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔