আমাদের সমসাময়িককালে (ইরানী, বাংলাদেশী, ভারতীয়, পাকিস্তানীদের) গড় আয়ু ৭০ বছরের কিছু উর্ধ্বে (৭৫ বা ৭৬ বছর) হওয়ার কারণে আমরা বিস্মিত হই অথচ আমাদের আলেমরা সৌভাগ্যবশত: এ ক্ষেত্রে (দীর্ঘজীবি হওয়ার ক্ষেত্রে) রেকর্ড সৃষ্টিকারী।
আমাদের আলেম এবং মারজা-ই তাকলীদদের (মারজা-ই তাকলীদ হচ্ছেন ঐসব ফকীহ মুজতাহিদ আলেম যাদের ফতোয়া আম জনসাধারণ অনুসরণ করে) গড় বয়স ৯০ বছরের উর্ধ্বে হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক। বর্তমানকালের কয়েকজন মারজা-ই তাকলীদ আলেমের বয়স নীচে উল্লেখ করা হলো:
আয়াতুল্লাহ আল উযমা লুৎফুল্লাহ সাফী গোলপায়গানীর বয়স বর্তমানে: ১০২ বছর,
আয়াতুল্লাহ আল উযমা ওয়াহীদ খোরাসানীর বয়স বর্তমানে: ১০০ বছর,
আয়াতুল্লাহ আল উযমা নূরী হামাদানীর বয়স বর্তমানে: ৯৫ বছর,
আয়াতুল্লাহ আল উযমা নাসের মাকারেম শীরাযীর বয়স বর্তমানে: ৯৪ বছর,
আয়াতুল্লাহ জান্নাতীর বয়স বর্তমানে: ৯৪ বছর,
আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়েদ মূসা শুবাইরী-ই যানজানীর বয়স বর্তমানে: ৯৩ বছর,
এসব মারজা-ই তাকলীদ আলেম বর্তমানে জীবিত আছেন (মহান আল্লাহ তাঁদেরকে আরো দীর্ঘায়ু দান করুন)।
আমাদের আলেম ও মারজা-ই তাকলীদদের সুস্থ, সবল ও দীর্ঘজীবি হওয়ার মূল কারণ ও রহস্য কী?
তাঁদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এবং দীর্ঘজীবি হওয়ার মূল রহস্য ও মূখ্য কারণ হচ্ছে তাদের সঠিক ইসলামী জীবন-যাপন। এসব আলেম ও মারজা-ই তাকলীদ দেহ-মন-আত্মার সুস্থতা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও খাদ্য-পুষ্টি সংক্রান্ত পবিত্র কুরআন এবং মহানবী (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলুল বাইতের (আ.) বিধি-নিষেধ ও নিয়মনীতি (মনো দৈহিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সংক্রান্ত ইসলামের নীতিমালা) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলেন। পার্থিব-দুনিয়াবী জীবনের প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ইসলামী ও স্বচ্ছ এবং সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর উপর তাঁদের তাওয়াক্কুল ও ভরসা করার কারণে তাঁরা সবসময় দু:খ-বিষাদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকেন। তাঁরা সব সময় ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা করেন, পড়েন (অধ্যয়ন ও গবেষণা করেন) ও পড়ান এবং অন্যদেরকে পড়াশোনা ও গবেষণায় গাইড করেন, দিক নির্দেশনা দেন। মৃত্যু পর্যন্ত তাঁরা জ্ঞান চর্চা, পঠন, পাঠন, গবেষণা, অধ্যয়ন ও অধ্যাপনা অব্যাহত রাখেন। তাঁরা হচ্ছেন “দোলনা (মাহ্দ্) থেকে গোর (কবর) পর্যন্ত তোমরা বিদ্যান্বেষণ করো (উতলুবূল ইলমা মিনাল মাহদি ইলাল্ লাহাদ্)” -মহানবীর (সা.) প্রসিদ্ধ এ হাদীসটির বাস্তব নমুনা (মিসদাক)।
এসব মারজা-ই তাকলীদ আলেম ঐতিহ্যবাহী ইসলামী সংস্কৃতি, জীবন ধারা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, খাদ্য-পথ্য, পুষ্টি ও ওষুধ নীতি ও জীবনব্যবস্থার জীবন্ত প্রতিমূর্তি ও বাস্তব উদাহরণ।
আজ পাশ্চাত্য আমাদেরকে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভুলিয়ে দিয়ে আমাদের উপর বস্তাপচা বস্তুবাদী কুফরী কুসংস্কৃতি, অসভ্যতা, অশালীন অশোভন জীবন যাত্রা, বিশ্রী অনৈতিক চালচলন ও বাজে খাদ্য পুষ্টি ও অসফল স্বাস্থ্য নীতি ও রোগ বর্দ্ধক ব্যর্থ চিকিৎসা পদ্ধতি চাপিয়ে দিয়েছে যার অর্গল থেকে মুক্তি পেতে হলে এ সব স্বনামধন্য জীবিত ইসলামী আলেম, মারজা-ই তাকলীদ ও পন্ডিতের জীবন ও জীবনী আমাদের বরেণ্য আদর্শ হওয়া উচিত।
মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে তাঁদের অনুসরণ করার তৌফিক দিন।
লেখকঃ মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান###
