১৯শে রমজানের ফজর। কুফার মসজিদে ইমাম আলী (আ.) যখন সিজদাবনত অবস্থায় ছিলেন, তখন ঘাতক ইবনে মুলজিম অত্যন্ত নৃশংসভাবে তাঁর মাথায় বিষাক্ত তলোয়ার দিয়ে আঘাত করে। এই আঘাতে ইমামের কপাল ফেটে যায় এবং বিষ রক্তে মিশে যায়।
সাধারণ মানুষ বিপদে পড়লে বা মৃত্যু নিশ্চিত দেখলে বিচলিত হয়ে পড়ে। কিন্তু ইমাম আলী (আ.) ছিলেন অন্য ধাতুতে গড়া। তলোয়ারের সেই মরণঘাতী আঘাত পাওয়ার সাথে সাথেই তাঁর পবিত্র মুখ থেকে নির্গত হয়েছিল সেই কালজয়ী ঘোষণা:
“ফুইযতু বিরাব্বিল কাবা” (কাবার রবের কসম, আমি সফল হয়েছি।)
এই একটি বাক্যই প্রমাণ করে যে, আলীর (আ.) কাছে জীবন ছিল কেবলই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মাধ্যম। শাহাদাত ছিল তাঁর কাছে পরম কাঙ্ক্ষিত একটি পুরস্কার। তিনি মৃত্যুকে ভয় পেতেন না, বরং একে মহান রবের সাথে সাক্ষাতের এক আনন্দময় সেতু হিসেবে দেখতেন। তাঁর এই সফলতার ঘোষণা কিয়ামত পর্যন্ত আসা প্রতিটি মুমিনের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন, “আমি জ্ঞানের শহর আর আলী তার দরজা।” ১৯শে রমজানের সেই আঘাত জ্ঞানের সেই বিশাল ভাণ্ডারের ওপর ছিল। আহত অবস্থায় যখন তাঁকে বাড়ি নেওয়া হচ্ছিল, তখনো তিনি উপস্থিতদের দ্বীনি নসিহত দিচ্ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখাতে। তাঁর রক্তে ভেজা দাড়ি আর কপাল দেখে কুফার মানুষ যখন কান্নায় ভেঙে পড়ছিল, তখন তিনি তাদের ধৈর্য ধারণ করতে বলেন। ১৯শে রমজানের সেই সকালটি ছিল মূলত পৃথিবীর বুক থেকে এক জীবন্ত কুরআন এবং অসীম জ্ঞানের আধার হারিয়ে যাওয়ার সূচনা।
