সূরা সাফফের তাফসীর

by Syed Yesin Mehedi

জালিমরা আল্লাহর হেদায়েত থেকে বঞ্চিত
আলোচ্য আয়াতের শেষাংশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এবং আল্লাহ কখনও জালিম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।’ অনুরূপ আয়াত সূরা জুমআ’তেও বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং যে কেউ জুলুম করবে সে আল্লাহর হেদায়েত থেকে বঞ্চিত হবে। বস্তুত জুলুম বা অবিচার মানুষকে খোদা প্রদত্ত হেদায়েত বা দিক নির্দেশনা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। এ কারণেই তো আমরা প্রত্যক্ষ করি যে, যতই চেষ্টা করা হয় জালিম সম্প্রদায়কে সুপথে আনা সম্ভব হয় না। যতই তাদেরকে উপদেশ ও নসিহত করা হয়, তাদের মধ্যে কোন ইতিবাচক পরিবর্তন আসে না। যতই তাদের সম্মুখে অকাট্য যুক্তি-প্রমাণ ও নিদর্শনাদি তুলে ধরা হোক না কেন সেগুলো তাদের নিষ্ঠুর ও পাষাণ হৃদয়ের উপর প্রভাব ফেলতে পারে না। এর মূখ্য কারণ হচ্ছে, জুলুম মানুষের অন্তরে কলুষতা ও নিষ্ঠুরতা আনয়ন করে। জুলুম বা অবিচার সবচেয়ে নিকৃষ্টতম গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এ জন্যই তো জালিম সম্প্রদায় এ সব বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করছে, পৃথিবীর অবহেলিত ও মজলুম মানুষের উপর অবিচার ও নিগ্রহের অবস্থা দেখছে যেগুলো তাদের পক্ষ থেকেই ঐ সব মানুষের উপর আরোপিত হচ্ছে; কিন্তু তদুপরি তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে কোন পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে না। সাধারণত জালিম সম্প্রদায় যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে (শাস্তিস্বরূপ) কোন ব্যবস্থা গৃহীত না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের জুলুম ও অবিচার অব্যাহত রাখে। এছাড়া (ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে,) জালিমরা সাধরণত তাদের কুফরী মানসিকতা ও আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস নিয়ে এ দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। যদিও তাদের কেউ কেউ বাহ্যিকভাবে ঈমানের দাবিদারও হয়ে থাকে; কিন্তু তাদের অনবরত অবিচার ও আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসের কারণেই তাদের জীবনের অবসান ঘটে। অর্থাৎ পরিণতিতে তারা আল্লাহর ক্রোধের শিকার হয় এবং ঈমানহীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔