সূরা সাফফের তাফসীর

by Syed Yesin Mehedi

হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূল ও তোমাদের মধ্যে যারা নির্দেশের অধিকর্তা (উলিল আমর), তাদের আনুগত্য কর| সূরা নিসা : ৫৯” অর্থাৎ রাসূলের (সা.) জীবদ্দশাতে যারা দাবি করবে যে, আমরা রাসূলের আনুগত্য করি; তাদের দাবির সত্যতা সহজেই যাচাই করা সম্ভব| কিন্তু রাসূলের (সা.) ওফাতের পর এ আনুগত্যের ধারাবাহিকতা কিভাবে বাস্তবায়িত হবে? এমনটি কি সম্ভব যে, রাসূলুল্লাহর (সা.) স্থলাভিষিক্তের আনুগত্য ব্যতীত কেউ বলতে পারবে আমি রাসূলের (সা.) আনুগত্য করি? না, তা মোটেও বাস্তব সম্মত নয়| কেননা আয়াতে আদেশ করা হয়েছে,‘ ও তোমাদের মধ্য থেকে যারা নির্দেশের অধিকর্তা (উলিল আমর), তাদের আনুগত্য কর|’ অর্থাৎ রাসূলুল্লাহর (সা.) আনুগত্যের পর উলিল আমরের আনুগত্য মেনে চলার নির্দেশ জারি করা হয়েছে| কিন্তু উলিল আমর কারা ও তাদের পরিচয় কি, তা একটি ভিন্ন প্রসঙ্গ ও এখানকার আলোচ্য বিষয় নয়| যাইহোক, উলিল আমরের আনুগত্য করা আবশ্যক| বর্তমান সময়েও তাদের আনুগত্য জরুরী এবং অতীতেও এ বিধান বহাল ছিল| অনুরূপভাবে ভবিষ্যতেও এ বিধান কার্যকর থাকবে যে, আল্লাহর আনুগত্য মূলত খোদাপ্রদত্ত এ বিধানের ধারানুসারেই বাস্তবায়িত হতে হবে এবং এর কোন ব্যতিক্রম আইনসিদ্ধ নয়| অন্যথায় যে কেউ দাবি তুলতে পারে যে, আমি আল্লাহকে মান্য করি, ইসলামের আনুগত্য করি এবং ইসলামের সমর্থক| কিন্তু বাস্তবে যদি ইসলামের বিধানাবলি যথাযথভাবে মেনে না চলে এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলির প্রতি পূর্ণ আকিদা পোষণ না করে; তবে সেক্ষেত্রে আল্লাহর আনুগত্য হিসেবে বিবেচিত হবে না| সুতরাং আল্লাহর সাহায্যের অর্থ হচ্ছে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি সাহায্য করা| কাজেই যারা আল্লাহর দ্বীনকে সাহায্য করবে তারা বাস্তবে আল্লাহকে সাহায্য করবে| আর তাই তো মু’মিনদের সম্বোধন করে বলা হয়েছে যে, হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর দ্বীনের প্রতি সাহায্য কর|

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔