হযরত ইমাম আলী রেজা (আ.)’র জন্মদিবস উপলক্ষে খুলনায় কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ীতে আনন্দ অনুষ্ঠান

by Syed Yesin Mehedi

২৮ এপ্রিল ২০২৬ (মঙ্গলবার), রাত ৮ ঘটিকায় আনন্দ অনুষ্ঠান সূচনা হয় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত, গজল, হামদ ও নাত-এ-রাসুল -এর মাধ্যমে|
বক্তব্যের মধ্যে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাম্মাদ আব্দুল লতিফ বলেন, শেখ সাদুক (রহ.) হযরত ইমাম রেজা (আ.) সম্পর্কে এক বইয়ে লিখেছেন, অসাধারণ নানা গুণ ও যোগ্যতার জন্য আলী ইবনে মুসা রেজা (আ.) রেজা বা সন্তুষ্ট, সাদিক বা সত্যবাদী, ফাজেল বা গুণধর, মু’মিনদের চোখের প্রশান্তি বা আলো ও কাফির বা অবিশ^াসীদের ক্ষোভের উৎস প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন| তবে আলী ইবনে মুসা রেজা (আ.)’র একটি বড় উপাধি হল ‘আলেমে আ’লে মুহাম্মাদ’ বা মুহাম্মাদ (সা.)’র আহলে বাইতের আলেম| ইমাম রেজা (আ.)’র পিতা ইমাম মুসা কাজিম (আ.) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, আমার বাবা ইমাম জাফর সাদিক (আ.) আমাকে বার বার বলতেন যে, আলে মুহাম্মাদের আলেম বা জ্ঞানী হবে তোমার বংশধর| আহা! আমি যদি তাঁকে দেখতে পেতাম| তাঁর নামও হবে আমিরুল মু’মিনিন (আ.)’র নাম তথা আলী| তারপর
ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের গবেষণা বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলাম ড. আব্দুল কাইউম বলেন, মামুনের নির্দেশের কারণে ইমাম রেজা (আ.)কে পরিকল্পিতভাবে নিদৃষ্ট পথ দ্বারা মদিনা থেকে মার্ভে নিয়ে আসা হয়| ইমাম রেজা (আ.)কে মদিনা থেকে বাসরা, বাসরা থেকে সুকুল আহওয়ায এর পথ দ্বারা ইরানের বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে দিয়ে খোরাসান এবং তারপরে মার্ভে প্রবেশ করানো হয়| মদিনা থেকে মার্ভে আসার জন্য অন্য রাস্তাও সে যুগে ছিল যেমন: মদিনা থেকে কুফা, কুফা থেকে বাগদাদ, বাগদাদ থেকে রেই, রেই থেকে কুম, কুম থেকে খোরাসান এবং খোরাসান থেকে মার্ভ| দ্বিতীয় উল্লেখিত রাস্তা থেকে এজন্য ইমাম রেজা (আ.)কে আনা হয়নি কেননা কুফা এবং কুম হচ্ছে আহলে বাইত (আ.) অনুসারিদের ঘাটি এবং বাগদাদ হচ্ছে আব্বাসিয়দের ঘাটি যারা ছিল ইমাম আলী (আ.)-এর বংশধরদের চরম শত্রু| এমন যেন না হয় যে, তারা হযরত আলী (আ.)-এর সন্তানদের সাথে শত্রুতা থাকার কারণে ইমাম রেজা (আ.)কে হত্যা করে দেয়| আর এ কারণে মামুন প্রথম পথটিকে সবচেয়ে বেশি নিরাপদ বলে মনে করে এবং উক্ত পথ দিয়ে ইমাম রেজা (আ.)কে মার্ভে নিয়ে আসে|
খুলনা তালেমুল মিল্লাত মাদ্রাসার সম্মানিত অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সাউদ বক্তব্যে ইমাম রেজা (আ.)-এর ফজিলত এবং আল্লাহর রাসুল (সা.) এর আখলাক ও বংশসূত্রতার সাথে তার সম্পৃক্ততার বিষয়সমূহ উল্লেখ করেন| ইমাম রেজা (আ.)-এর শাহাদাত ও জীবনি যুগে যুগে ইসলামের প্রচার ও রক্ষায় মুসলমানদেরকে শহীদি নিয়তে উজ্জীবিত করেছে| পাশাপাশি তিনি হযরত মাসুমা কুম (সা.আ.)এর ফজিলত ও তার অবদানসমূহ তুলে ধরেন| ২০২৪ সালে ইরান সফরকালে তিনি মাশহাদ ও কুমে থাকা ইমাম রেজা (আ.) ও ফাতেমা মাসুমা (সা.আ.) এর পবিত্র মাজারের জিয়ারাতের বিশুদ্ধ অভিজ্ঞতাসমূহ তুলে ধরেন| আলোচনায় ইরানি ইসলামী বিপ্লবের সমর্থনে নিজের গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন| আমেরিকা ও ইজরায়েলের আগ্রাসনের নিন্দা ও ধ্বংস জানিয়ে ইমাম রেজা (আ.)এর আদর্শ হতে আদর্শিত হয়ে ইসলামের খেদমতে নিবেদিত হওয়ার আহ্বান ও দোয়া করেন তিনি|
খুলনা ওলামায়ে কেরামের সম্মানিত সভাপতি মাওলানা ইব্রাহীম ফায়জুল্লাহ সাহেব বক্তব্যের শুরুতে নবীজির (সা.) যুগের মুসলিম উম্মাহের ঐক্যের উদাহরণ দিয়ে বর্তমানে বিশ্ব মুসলিম ঐক্যের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন| ইসলামের তৎকালীন ইতিহাস তুলে ধরে তিনি মুসলিম ঐক্যের গুরুত্বের পাশাপাশি বর্তমানে শিয়া মুসলমানদের দেওয়া কাফের অপবাদের তীব্র নিন্দা জানান| বক্তব্যে তিনি ইমাম রেজা (আ.) ও হযরত ফাতেমা মাসুমা (সা.আ.) এর পবিত্র জন্মদিবস উপলক্ষে সকলকে মোবারকবাদ জানায়ে এই দুটি মাজার জিয়ারাতের পবিত্র অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন| ইমামের (আ.) প্রতি মুসলমানদের ভালোবাসা ও ভক্তির ঘটনা তুলে ধরেন| ইমামের (আ.) ভালোবাসা ও আদর্শ মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা করেন| পরিশেষে সকলকে আহলে বায়েতের সাথে সম্পৃক্ত থেকে দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য সমাপ্ত করেন|
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি পর্যায়ে ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্রের সম্মানিত  অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী বক্তব্য রাখেন| তিনি বলেন, আজ বর্তমানে শিক্ষা ব্যবস্থা দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে| একটি হচ্ছে মাদ্রাসাকেন্দ্রিক এবং অপরটি হচ্ছে বিশ^বিদ্যালয়কেন্দ্রিক| মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে শুধুমাত্র মাসআলা মাসায়েল ও ধর্মীয় নিয়মকানুন শিখিয়ে থাকে| কিন্তু বিশ^বিদ্যালয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয় ছাত্রদেরকে শিখিয়ে থাকে| এটা হওয়ার কথা ছিল না| যদি আমরা ইমাম আলী রেজা (আ.) অর্থাৎ আহলে বায়তের জ্ঞান অনুসরণ করতে পারতাম| ইরানে আল-মোস্তফা বিশ^বিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয় ছাত্ররা জ্ঞান অর্জন করে থাকে| ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর ইমাম খোমেনী (রহ.) পাশ্চাত্যের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনরা আপনাদের দার্শনিক নিয়ে আসেন এবং আমরা আমাদের দার্শনিক নিয়ে আসি বিশ্ব দেখুন কাদের পর্যায় উচ্চস্তরের আপনাদের নাকি আমাদের দার্শনিকরা| মুবাহেলার পর খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের কর বা ট্যাক্স দিতো কিন্তু এখন বিশ্বে মুসলমানরা খ্রিষ্টানদেরকে কর বা ট্যাক্স দিয়ে থাকে কারণ আমরা আহলে বায়েতের আদর্শ থেকে সরে এসেছি|
হযরত ইমাম আলী রেজা (আ.)-এর জন্মদিনে খুলনা কাসরে হোসাইনী ইমামবাড়ীতে আনন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুমিন ও মুমিনাতের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ| মাহফিল শেষে দোয়া-এ- ইমামে জামান (আ.) এবং তাবারুক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে|

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔