ফাতেমা যাহরা (সা.আ.) মহিমান্বিত জীবনের শেষ মূহুর্ত অবধি তাঁর ন্যায়সঙ্গত অধিকার আদায়ের পক্ষে ছিলেন অত্যন্ত সোচ্চার ও আপোষহীন। আর তাইতো তিনি আমিরুল মু’মিনিন আলীকে (আ.) ওসিয়াত করেছিলেন তাঁকে রাতের আঁধারে দাফন করতে, যাতে তাঁর জানাযাতে অধিকার হরণকারী জালিমরা শরিক হতে না পারে। (বিহারুল আনওয়ার, ৪৩তম খণ্ড, পৃ. ৪৩)
প্রকৃতপক্ষে তিনি এমন ওসিয়াতের মাধ্যমে অত্যাচারিদের মুখোশ উম্মোচনের লক্ষ্যে অত্যন্ত হিকমতপূর্ণ ও যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কেননা এর কারণে মুসলমানদের মনে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে যে, কেন নবীকন্যাকে রাতের আঁধারে দাফন করা হল? কেন তিনি এমন ওসিয়াত করেছিলেন?
এভাবে মুসলমানরা এ ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনের জন্য উদগ্রীব হবে। কেননা ইসলামের ইতিহাসে এমন ঘটনার কোন নজীর ছিল না। সবাই অপেক্ষায় ছিল যে, নবী দুহিতার দাফন অনুষ্ঠানে শরীক হবে। কিন্তু তাঁকে রাতের আঁধারে লোক চক্ষুর অন্তরালে দাফন করা হয়। যখন তারা এর কারণ জিজ্ঞাসা করবে; তখন জবাব দেওয়া হবে যে, তিনি নিজেই ওফাতের পূর্বে এমন ওসিয়াত করে গেছেন। ফাতেমা যাহরা (আ.) চেয়েছিলেন এমন প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা মুসলমানদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক, যাতে তাদের ঘুমন্ত বিবেকে নাড়া লাগে এবং এভাবে তারা যেন পর্দার আড়ালে নবীর আহলে বাইতের (আ.) বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও জুলুম সম্পর্কে কিছুটা হলেও অবহিত হতে পারে।
