প্রকৃতপক্ষে আমরা যা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করি- সেটাই উত্তম সঞ্চয়।
ইমাম হাসান মুজতাবা (আ.) বলেছেন,
اَلبُخلُ أن یَرَی الرَّجُلُ ما أنفَقَهُ تَلَفاً و ما أمسَکَهُ شَرَفاً
(প্রকৃতপক্ষে) কৃপণতা হলো এমন যে, মানুষ যা (আল্লাহর রাস্তায়) ব্যয় করে করে- তাকে ক্ষতি মনে করে এবং যা জমা করে- তাকে সম্মান মনে করে।
[বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড- ৭১, পৃষ্ঠা- ৪১৭]
প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা:
১. কৃপণতার মনস্তত্ত্ব:
– হাদিসটি কৃপণতার একটি মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে।
– কৃপণ ব্যক্তি দান করাকে ‘ক্ষতি’ হিসেবে দেখে, অথচ ইসলামে দানকে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করা হয়।
২. সম্পদের ভুল মূল্যায়ন:
– যে ব্যক্তি সম্পদ জমা করাকে ‘সম্মান’ মনে করে, সে আসলে সম্পদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ভুলে যায়।
– কুরআনে বলা হয়েছে: “তোমরা যা কিছু ব্যয় করো আল্লাহ তার (উত্তম) বিনিময় দেবেন” (সূরা সাবা, ৩৯)।
৩. সামাজিক প্রভাব:
– কৃপণতা ব্যক্তিকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে।
– রাসূল (সা.) বলেছেন, “কৃপণ ব্যক্তি আল্লাহ থেকে দূরে, জান্নাত থেকে দূরে এবং মানুষ থেকে দূরে!” (আল-হাদীস)।
৪. আধ্যাত্মিক ক্ষতি:
– এই মানসিকতা ঈমানকে দুর্বল করে, কেননা এটি আল্লাহর রিজিকের উপর অবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।
শিক্ষা:
– সম্পদ আল্লাহর আমানত, তা সঠিক খাতে ব্যয় করা ঈমানের দাবি।
– দানকে ক্ষতি না ভেবে আখিরাতের সঞ্চয় হিসেবে দেখা উচিত।
