ইরানের ইসলামী বিপ্লব মুসলিম উম্মাহ’র জনমানসে চেতনার উন্মেষ ঘটিয়েছে

by Rashed Hossain

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ৪১তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে অদ্য ৭ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিকেল ৪টায় ১২, আলতাপোল লেনস্থ আঞ্জুমান-এ-পাঞ্জাতানীর আল কাউসার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান প্রকৌশল ও প্রযুক্তি স্কুলের সাবেক ডীন, গ্রামীণ ও নগর পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মোঃ রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আলমগীর কবির, কমান্ডার, খুলনা মহানগর ইউনিট, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও অধ্যাপক ড. শাহজালাল, পরিচালক, মর্ডাণ ল্যাংগুয়েজ সেন্টার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আইনজীবি ও সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা এ্যাড. মোঃ জাকির হোসেন।
প্রধান আলোচক ইসলামি বিপ্লব ও বিপ্লবের মহান স্থপতি হযরত ইমাম খোমেনী (র.) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা রাখেন। তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের মূল চেতনা ছিলো বেলায়েতে ফকীহ’র ধারণা যা ইমাম খোমেনী (র.) তৎকালীন আলেম সমাজ ও জনগণকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
বিশেষ অতিথি অধ্যাপক শাহজালাল তার সংক্ষিপ্ত বক্তবে উল্লেখ করেন যে, নেতৃত্ব এমন একটি বিষয় যা ছিনিয়ে নেওয়া যায়না। এটা সংক্রীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। ইমাম খোমেনী (র.) এমনি এক যোগ্যতা সম্পন্ন আলেম ছিলেন যার সমকালীন অনেক প্রখ্যাত আলেম থাকা সত্ত্বেও তিনি সমহিমায় নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বিপ্লব প্রতিষ্ঠিত করেন।
অন্যতম বিশেষ অতিথি অধ্যাপক আলমগীর কবির ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সাথে ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি তুলনামূলক আলোচনা করে বলেন যে, ইমাম খোমেনী (র.) অন্যায় জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ইরানে ইসলামি বিপ্লব প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। উৎখাত করতে সক্ষম হয়েছিলেন আড়াই হাজার বছরের অত্যাচারী রাজতন্ত্রের শাসন। তেমনি বাংলাদেশেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর নেতৃত্বে অত্যাচারী পাকিস্তানী শাসকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এদেশকে স্বাধীন করেছিলেন। বর্তমান বিশ্বে ইমাম খোমেনী (র.) এর মত বিরল নেতৃত্বের অধিকারী ব্যক্তির খুবই প্রয়োজন।
প্রধান অতিথি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ইরানের ইসলামী বিপ্লব সংঘটিত না হলে বিশ্বের মুসলমানদের মুসলমানিত্ব সংকটে পড়তো। তিনি বলেন কথিত বিশ্ব মোড়ল আমেরিকা আজ মুসলিম বিশ্বে অনৈক্য সৃষ্টি করে ফায়দা লুঠতে চায়। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য মুসলমান রাষ্ট্রের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতি যুদ্ধ বাধিয়ে অস্ত্র ব্যবসা চাঙ্গা রাখা। এব্যাপারে আমাদেরকে অনৈক্য সৃষ্টিকারী যেকোন অপচেষ্টা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
সভাপতি তার সংক্ষিপ্ত ভাষণে ইসলামী বিপ্লবের সাফল্য সম্পর্কে বলেন যে, শিয়া মাযহাবে পবিত্র কোরআন প্রদত্ত খুমসের বিধান হযরত ইমাম খোমেনী (র.) এর হাতকে শক্তিশালী করেছিলো তাইতো তিনি শাহকে বলেছিলেন তোমার যত সম্পদ আছে আমি আল্লাহর রহমতে তা কিনে নিতে সক্ষম।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সাফল্যের আরও একটি প্রধান কারণ হল এ বিপ্লবের খোদায়ী বা ঐশী প্রকৃতি। এ বিপ্লবের মহান রূপকার মরহুম ইমাম খোমেনি তাই খালি হাতেই গোটা পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সরকারের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র হিসেবে বিবেচিত শাহ সরকারকে উৎখাত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।###

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔