মানব সৃষ্টির ইতিহাস যেমন পূরাতন, তেমনি পুরাতন মানুষের সমাজ। মানুষ সমাজবদ্ধ জীব একথা নিয়ে কোন বিতর্ক নেই। ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গী সমাজ গঠন সম্পর্কে কোন অনুমান নির্ভর মতবাদ প্রচার করে না। ইসলাম কৃষ্টি ও শিক্ষা বিশেষভাবে ঐশীগ্রন্থ কেন্দ্রিক এবং সেই হিসাবে ইসলামী সমাজ গঠন সম্পর্কে আমাদের ধারণা ঐশী কিতাবে বর্ণিত ঘটনা প্রবাহের দ্বারা প্রভাবান্বিত এতে কোন সন্দেহ নেই।
পৃথিবীতে সর্ব প্রথম মানব ও মানবী ছিলেন বর্ণিত ধারণা মতে হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ)। তাঁদের বংশ বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় এক পর্যায়ে সমাজ গঠিত হয়। সেই সমাজই ছিল ইসলামী সমাজ। সেই সমাজে সুখ-শান্তি, নিরাপত্তা ও জীবন ধারণের সব ব্যবস্থাই ছিল সুশৃংখল; কিন্তু মানুষের প্রকাশ্য দুশমন ইবলিস শয়তান মানুষের সেই সমাজ ব্যবস্থাকে কায়েম থাকতে দেইনি। সমাজে অশান্তি ছড়ায় এবং খুনখারাবী সৃষ্টি করে। আর শয়তানের এ প্ররোচনায় কাবিলই প্রথম হাবিলকে হত্যা করে তা’ শুরু করে। তারপর সেই সমাজে ভাংগন ধরে। সন্ত্রাস বিস্তার লাভ করে এবং পরিণামে মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বিপর্যস্ত ও বিকৃত এই সমাজ সংস্কারের জন্য আল্লাহ তায়ালা হজরত ইব্রাহিম (আঃ) কে প্রেরণ করেন। আল্লাহ্ তাকে ইসলামী সমাজ নির্মাণের জন্য ইসলামী প্রচারকার্য স স্মপ্রসারণের জন্য বিশ্ব-জনীন নবী হিসাবে দায়ীত্ব অর্পণ করেন। তিনি ইসলামী সমাজ পুনঃনির্মাণে শয়তানের প্রতিভূ স্বৈরাচারী মহাপরাক্রমশালী শাসক নমরুদের মোকাবেলা করেন এবং তার ধ্বংস সাধনের পর তিনি তাঁর নিজের জন্মভূমি বর্তমান ইরাক থেকে মিশর পর্যন্ত এক পর্যায়ে সফর করেছিলেন। মিশরের তৎকালিন শাসক হজরত ইব্রাহীমের (আঃ) আধ্যাত্মিক শক্তির পরিচয় পেয়ে তাকে তারই বংশের এক রাজকন্যাকে উপটৌকন হিসাবে দান করেন। এই রাজকন্যার নাম হজরত হাজেরা (আঃ)। হজরত ইব্রাহিম মিশর থেকে আরব দেশ সফর করার এক পর্যায়ে বর্তমান সৌদি আরবের মক্কা শহরে পবিত্র কাবা শরীফের পার্শ্ববর্তী যেখানে জমজম কূপটি অবস্থিত সেই স্থানে হজরত হাজেরাকে (আঃ) একা রেখে তিনি সিরিয়া, ফিলিস্তিন প্রভৃতি এলাকায় সফরে বেরিয়ে পড়েন। সেই জনমানবহীন মরু প্রান্তরে হজরত হাজেরা (আঃ) একাকী তার শিশু সন্তান হজরত ইসমাইল (আঃ)কে নিয়ে অবস্থান করছিলেন। কালক্রমে সেই নির্জন মরু এলাকায় হজরত হাজেরার প্রচেষ্টায় সেখানে জনবসতি গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হজরত ইসমাইল (আঃ) কাবাগৃহ নির্মাণ করেন। এই কাবাকে কেন্দ্র করে এক সময় একটি শহর গড়ে উঠেছিল এবং সেখানেই ইসলামী সমাজ গড়ে তুলেছিলেন। সেই সমাজ নির্মাণের পিছনে যাঁর ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অবদান গভীরভাবে উপলব্ধির দাবী রাখে তিনি ছিলেন এক মহিয়সী মহিলা হজরত হাজেরা (আঃ), হজরত ইসমাইলের মাতা। সে এক কারুণ অথচ আনন্দদায়ক কাহিনী। কালের স্রোতে আবার সেই কাবা কেন্দ্রিক ইসলামী সমাজ শয়তানের আগ্রাসনে ধ্বংস হয়ে যায়। সেখানে গড়ে উঠে পৌত্তলিক সমাজ।
ভিন্ন দিকে, যে মিশর থেকে হজরত ইব্রাহিম(আঃ) হজরত হাজেরাকে নিয়ে এসে আরব ভূখন্ডে ইসলামই সমাজ নির্মাণ করেছিলেন সেই মিশরেই কালের প্রবাহে আবির্ভাব ঘটে খোদাদ্রোহী নমরুদের উত্তরসূরী অর এক খোদাদ্রোহী পরাক্রমশালী স্বৈরশাসক ফিরাউন। সে যখন সীমা লংঘন করে বনী ইসরাইল স মব সম্প্রদায়ের লোকদের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলল, তখন আল্লাহ সেখানে অত্যাচারী জালিম ফেরাউনকে হটিয়ে সেখান ইসলামী সমাজ নির্মাণের জন্য হজরত মুসা (আঃ) ও হারুনকে (আঃ) প্রেরণ করেন। ফিরাউন বনী ইস্রাইল সম্প্রদায়ের লোকদের সমস্ত শিশুপুত্রদের হত্যা করে ফেলতো আর কন্যা সন্তানদের জীবিত রাখত। সেই অবস্থায় হজরত মুসাকে (আঃ) উদ্ধার করে লালন পালন করেন এক মহিয়ষী মহিলা। তাঁর নাম ছিল হজরত আসিয়া (রাঃ) তিনি ছিলেন ফিরাউনের স্ত্রী। ফেরাউনের স্ত্রী হলেও তিনি ছিলেন পূণ্যশীলা একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী হজরত মুসা (আঃ)কে পালনকারীনি এবং ইসলামী সমাজ নির্মাণের এক মহান সহায়ক শক্তি। তাঁর অবদান ও ত্যাগ তিতিক্ষার ইতিহাসও যেমন করুণ তেমনি প্রেরণাদায়ক। হজরত মুসা (আঃ) মিশরে ফিরাউনের সাথে মোকাবেলা করে তাঁকে বাসে করে বনী ইসরাইল স¤প্রদায়কে উদ্ধার করে ফিলিস্তিনে নিয়ে যান। এইখানেই গড়ে উঠেছিল ইসলামী সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্র। কিন্তু আবারো শয়তানের প্ররোচনায় বনী ইসরাইল স¤প্রদায় পথভ্রষ্ঠ হয়ে ধবংস হয়ে পৃথিবীতে অভিশপ্ত এক জাতি হিসাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিংশ শতাব্দির মধ্য ভাগে সেই বনী ইসলাইলের কতিপয় লোক অভিশপ্ত জাতি হিসাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য কূট-কৌশল বিস্তার করে ইউরোপ ও আমেরিকার রাজশক্তির সাহায্যে ফিলিস্তিনে আবার রাষ্ট্র কায়েম করে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় বিশ্বাসী মুসলিমদের বিরুদ্ধে অবিরত বিশৃংখলা, অশান্তি ও সন্ত্রাস চালিয়ে ইসলামী সমাজ নির্মাণে বাধা দিয়েই চলেছে। সে এক সুদীর্ঘ ঘটনাবহুল ইতিহাস। এই ইসরাইল রাষ্ট্র সৃষ্টির মূলে যে মহান নবী হজরত মুসার অবদানের কথা বলে গর্ব করে সেই মুসা নবীর (আঃ) প্রতিপালনকারিণী হজরত আসিয়ার (আঃ) অবদানের কথা সবাই ভুলে বসে আছে। ইহুদী জাতিও তাকে স্মরণ করে না। হজরত মুসার (আঃ) তিরোধানের প্রায় দেড় হাজার বৎসর পর পৃথিবীর যে ভূ-খÐে বর্তমান ফিলিস্তিন অবস্থিত সেই এলাকার বর্তমান বেথেলহেম শহরের কাছেই বিকৃত ও বিনাশ প্রাপ্ত ইসলামী সমাজের পুনঃনির্মাণের জন্য মহান আল্লাহ তার কুদরতি শক্তি দিয়ে হজরত মরিয়মের (আঃ) গর্ভে হযরত ঈসাকে (আঃ) জন্মগ্রহণ করান এবং হজরত মরিয়ম (আঃ) তৎকালীন কাফির সম্প্রদায়ের চরম লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করে বহু কষ্ট-ক্লেশ স্বীকার করে হজরত ঈসাকে (আঃ) মানুষ করেন। পরবর্তীকালে যৌবন প্রাপ্ত হলে আল্লাহ তাঁকে ইসলামী সমাজ নির্মাণ করে বনী ইসরাইল সম্প্রদায়েকে ভ্রষ্টাচার থেকে উদ্ধার করার জন্য ইসলামী আন্দোলন করেন। সেই স¤প্রদায়ের লোকেই তাকে হত্যা করার প্রচেষ্টা চালায়। আল্লাহ তাদের চক্রান্তকে ব্যর্থ করে দিয়ে তাকে নিজের কাছে তুলে নেন। আবার আল্লাহ তাঁকে বনী ইসরাইল সম্প্রদায়েকে ধংস করার জন্য এবং তাঁদের মধ্যে যারা তাকে স্বীকার করবে তাঁদের সংশোধন করে ইসলামী সমাজের অনুসারী করার জন্য পুনরায় এই পৃথিবীতে প্রেরণ করবেন। প্রাচ্যের ঘটনা প্রবাহ সেই ইংগিতই বহন করছে। কিন্তু সেই মহান ঈসা নবীর (আঃ) মাতা হজরত মরিয়মের অবদানকে আমরা সবাই ভুলে গেছি।
হজরত ইসা(আঃ)কে আল্লাহ তায়ালা তুলে নেয়ার প্রায় দু’হাজার বছর পরে আরব দেশের সেই হজরত ইসমাইলের মহিয়সী মাতা হজরত হাজেরার পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন সর্বশেষ মহানবী তথা ইসলামী সমাজ নির্মাণের বিশ্বনবী এজরত মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর পূণ্যময়ী মাতা হজরত আমিনার তথা আমরা খুব কমই মনে করে থাকি অথচ ইসলামী সমাজ নির্মাণে তাঁর অবদান ছিল অনেক বেশী। হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) সেই হজরত ইব্রাহীম- ইসমাইল (আঃ) কর্তৃক নির্মিত কা’বা শরীফ কেন্দ্রিক পবিত্র একা শহরেই ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের আন্দোলনের সুচনায় শয়তানের প্রতিভূ বনি উমাইয়া গোত্রের কুরাইশ সম্প্রদায় তীব্র বিরোধীতা শুরু করে বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ) কর্তৃক সুচিত ইসলামী সমাজ বির্নিমানের আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে। মহিলাদের মধ্যে যারা সর্বাপেক্ষা বেশী অনুকরণীয় অবদান ও আদর্শ রেখেছিলেন তাঁরা ছিলেন পরম পূণ্যবতী প্রাতঃস্মরণীয়া হজরত খাদিজাতুল কুবরা (আঃ) এবং তারই গর্ভজাত কন্যা হজরত ফাতিমা জাহরা (আঃ)। তাঁরা আরবের কাফের স¤প্রদায়ের তথা বনী উমাইয়া গোত্র প্রধানের সর্বধ্বংসী বিরোধিতা ও আক্রমনের মুখে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে ইসলামী আন্দোলনে সাহায্য করেন সে ছিল এক কাল জয়ী ইতিহাস, স্বর্ণাক্ষরে লিখিত রয়েছে বিশ্ববাসীর গবেষণার জন্য। বিশ্বনবী স্বয়ং এই সব মহিয়ষী মহিলার অবদানের স্বীকৃতি দিয়েছেন। নীচে বর্ণিত হাদীসে তা সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন, “বেহেশতবাসিনী মহিলাদের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছেন খুওয়াইলিদ তনয়া খাদিজা, মুহম্মদ (সাঃ) তনয়া ফাতিমা, ইমরান তনয়া মরিয়ম এবং ফেরাউনের স্ত্রী মুজাহিম তনয়া আসিয়া।”
ইসলামী আন্দোলনে হজরত খাদিজা (রাঃ) সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন, তার সমস্ত সম্পদ মহানবীর (সাঃ) খেদমতে পেশ করেন, হজরত ফাতিমাকে ইসলামের আদর্শে গড়ে তোলেন, হজরত মুহাম্মদকে (সাঃ) তার সাথে বিয়ের পর থেকে আমৃত্যু পাশে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করেন। মহানবীকে (সাঃ) একবার তার অন্যতমা স্ত্রী হজরত আয়শা (রাঃ) হজরত খাদিজার (রাঃ) প্রতি হজরতের (সাঃ) অকৃত্রিম ভালবাসায় ঈর্ষান্বিতা হয়ে বলেন, মুখের দুপাশ লালচে ধরণের এক বৃদ্ধা মহিলাকে আপনি এখনও স্মরণ করেন অথচ আল্লাহ তাঁর চেয়ে আরো ভাল একজন স্ত্রী আপনাকে দিয়েছেন। মহানবী (সাঃ) হজরত আয়শার (রাঃ) ইঙ্গিতপূর্ন কথায় খুবই বিরক্ত ও ব্যথিত হয়ে জবাবে বলেছিলেন। আল্লাহ কখনও খাদিজার (রাঃ) থেকে ভাল কোন স্ত্রী আমাকে দান করেননি খাদিজা আমার সন্তানের মাতা এবং আমার গৃহকর্তী ছিলেন। সব লোকেরা যখন আমাকে অবিশ্বাস করে ত্যাগ করেছিল খাদিজাই (রাঃ) আমাকে বিশ্বাস করে কাছে টেনে নিয়েছিল। সব লোকেরা যখন আমাকে নির্যাতন করে একঘরে করে রেখেছিল তখন খাদিজাই আমাকে তার সহায় সম্পদ দিয়ে সাহায্য করেছিল। আমার বিপদে সান্তনা দিয়েছিল। বস্তুত হজরত খাদিজার ইসলামী আন্দোলন বাস্তবায়নে যে অবদান রেখেছেন তার ইতিহাস যেমন সুদীর্ঘ, তেমনি হৃদয়গ্রাহী ও চিত্তাকর্ষক এক বিরাট ইতিহাস। হজরত খাদিজার ইন্তেকালের পর মহানবী বড় একাকী হয়ে পড়েন। পক্ষান্তরে, কাফের মুশরিক সম্প্রদায় তাঁদের অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা অত্যাধিক বাড়িয়ে দেয়। এই সময় হজরত ফাতিমার (আঃ) বয়স খুবই কম, ৮/৯ বৎসর হবে। সেই অল্প বয়সে পিতাকে সেবা-যতু দিয়ে শোকে-দুঃখে সান্তনা দিয়ে মুশরিকদের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা ও প্রতিরোধ করে হজরতকে (সাঃ) সর্বদাই ছায়ার মত ঘিরে রাখতেন। একবার কাফেরদের নির্যাতনের প্রতিবাদে বলেছিলেন, ‘তোমাদের লজ্জা করে না একজন নিরাপরাধ ব্যক্তি যিনি তোমাদের মঙ্গলের জন্য, হেদায়েতের জন্য সারারাত জেগে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যিনি তোমাদের হেদায়েতের বিনিময়ে কিছুই চান না। আর তোমরা এতই নির্বোধ অধম যে তাকে তোমরা শ্বাসরোধ করে আল্লাহর ইবাদতরত অবস্থায় মেরে ফেলতে চাও। আল্লাহ তোমাদের হেদায়েত করুন। তোমরা আমার আব্বাকে আর যন্ত্রণা দিও না, আর কষ্ট দিও না। মনে রেখ আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও করবেন কেউই নিস্তার পাবে না। আর একবার এক নরাধম উমাইয়ারা মহানবীর পবিত্র মাথায় ও মুখের উপর ময়লা আবর্জনা ছুড়ে মেরেছিল। মহানবী দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বাড়ী ফিরে এলেন। হজরত ফাতিমা (আঃ) মহান পিতার এই অবস্থা দেখে মনের কষ্টে কেঁদে ফেললেন এবং ক্রন্দনরত অবস্থায় পাত্রে করে পানি এনে মহানবীর (সঃ) পবিত্র মুখমন্ডল ও মাথা ধুয়ে দিয়েছিলেন। তাকে মহানবী (সাঃ) বললেন, “ছোট্ট মা মনি দুঃখ করো না। আল্লাহ তোমার আব্বাকে অবশ্যই বিজয় নান করবেন। সেই ছোট মেয়েটিকে মক্কার লোকেরা পিতাকে মায়ের মত স্নেহ-মমতা আদর-যত্ন করতে দেখে, মায়ের মত নিজের জীবন দিয়ে আগলে রাখার জন্য ডাকতো “উম্মে আবিহা” অর্থাৎ পিতার মা বলে।
হজরত ফাতিমা বড় হয়ে মদিনায় হিজরত করেন এবং সেখানে মহিলাদের ধর্মকর্ম শিক্ষা দিতেন। হজরত আলীর (আঃ) সাথে তাঁর বিয়ে হবার পর তিনি ইসলামী সমাজে একজন আদর্শ স্ত্রীর ভূমিকা কিরূপ হবে তার পূর্ণ আদর্শ দেখিয়ে গেছেন, একজন মা হিসাবে কিভাবে সন্তানাদি লালন পালন করতে হবে পূর্ণ আদর্শ তিনি নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। ইবাদত বন্দেগীতে তিনি যে একজন আদর্শ শ্রেণীর আবেদা ছিলেন তাও তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে মহানবী তাকে শিখিয়েছিলেন। ঠিক সেইভাবে সকল স্তরের মহিলাদের দেখিয়েছেন। কাছের এবং দূরের বহু মহিলারা তাঁর কাছে এসে সদাসর্বদাই তাদের হরেক রকমের সমস্যার কথা বলতেন এবং সমাধান নিয়ে যেতেন। কেউ কোন প্রশ্ন করে সন্তুষ্ট না হয়ে ফিরে যাননি। তার সন্তান ইমাম হাসান, হুসাইন (আঃ), জায়নাব ও উম্মে কুলসুম তাদের মায়ের অবদানের কথা ইসলামী সমাজের সদস্যবৃন্দ মুসলিম জনসাধারণকে বলতেন, সে সবই ইতিহাস হয়ে আছে। এই দেশে তার চর্চা নেই। হজরত ফাতিমা (আঃ) আধ্যাত্মিক জগতের এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক ছিলেন। মহানবী বলতেন, ‘ফাতিমা আমার কলিজার টুকরা। তাঁকে যে কষ্ট দেবে সে আমাকে কষ্ট দেবে, আর তাঁকে যে খুশী করবে, সে আমাকে খুশী করবে।’
পবিত্র হাদীস ও ইতিহাস গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, মহানবী (সঃ) এর ইন্তেকালের পর তাঁকে অনেক দুঃখ এবং যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। মোকাবিলা করতে হয়েছিল অনেক প্রতিকূল অবস্থার। পিতার একমাত্র উত্তরাধীকারীনি হিসাবে প্রাপ্ত ফিদাকের বাগানটি তৎকালীন শাসক কর্তৃক এই বলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। যে, নবীদের কোন উত্তরাধিকারী নেই। হযরত ফাতেমা (আঃ) এ ঘটনায় ভীষণ মর্মাহত হয়েছিলেন। তিনি ইসলামী আইন শাস্ত্রে যথেষ্ঠ ব্যুৎপত্তির অধিকারীনি ছিলেন। তিনি যুক্তি প্রদর্শন করে বলেছিলেন যে নবীর কোন ওয়ারিশ না থাকতে পারে কারণ তা নবুয়্যত সংক্রান্ত বিষয় কিন্তু নবী মোহাম্মদের সন্তানের ওয়ারিশ হওয়াতে বাধা কোথায়? আল কুরআনে মিরাসের বিধান সুস্পষ্ট। সেক্ষেত্রে কোন মানুষের শোনা কথার কোন মুল্য নেই। তাছাড়া কুরআনের বিধানের সাথে সামঞ্জস্য নেই এমন কোন হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়। উদাহরণ স্বরূপ তিনি হযরত জাকারিয়ার (আঃ) পুত্র হযরত ইয়াহইয়াকে (আঃ) ওয়ারিশ ঘোষণা করা, হযরত দাউদের (আঃ) পুত্র হযরত সুলাইমানকে (আঃ) আল কুরআনে ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারী ঘোষণার বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি এতই মর্মাহত হয়েছিলেন যে হাদীসে উল্লেখ আছে ফিদাকের বাগান বাজেয়াপ্ত করার পিছনে যারা সক্রিয় ছিলেন তাদের সাথে আমৃত্যু কথা বলেননি এমনকি তাঁর জানাজায় পর্যন্ত শরীক হতে নিষেধ করেছিলেন। আল্লাহর বাসুল কখনও মিথ্যা বলেন না। ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে হজরত ফাতিমা জাহরার অবদান অতুলনীয় সেই ইতিহাস অনেক বড়, অনেক বেদনার অনেক প্রেরণার, অনেক আদর্শের উজ্জ্বল নিদর্শনে ভরপুর। আমাদের সমাজে সেই বিষয়ে গবেষণা হওয়ার প্রয়োজন।
বিশ্বনবী হজরত মুহম্মদ (সাঃ) মক্কার কোরাইশ বংশের বনী হাশিম গোত্র নেতা আব্দুল মোত্তালিবের পুত্র আব্দুল্লাহর সন্তান ছিলেন। হাশিম ছিলেন মহানবী (সাঃ) পূর্ব পুরুষ। আবুল হাশিমের আপন ভাইয়ের ছেলে উমাইয়া ছিল চাচা হাশিমের চির প্রতিদ্ব›দ্বী। এই উমাইয়ার বংশধর বনী উমাইয়া নামে অভিহিত। উমাইয়া নিজে এবং তার বংশ ধরেরা সকলেই হাশিম ও তার বংশের উত্তরসুরী আবদে মানাফ, আব্দুল মোতালেব, আবু তালেব, আব্দুল্লাহ, ও হজরত মুহাম্মদের (সঃ) প্রতি চিরদিন গোত্র বিদ্বেষ ও হিংসা পোষণ করে এসেছে এবং সর্বদাই প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে বনী হাশিম গোত্রের ক্ষতিসাধন করেই চলেছিল কিন্তু মক্কার কোরায়েশ বংশের লোকেরা সর্বদাই বনি হাশিম গোত্রের প্রধানকে তাদের নেতা হিসাবে মেনে চলেছে এবং তার নেতৃত্ব স্বীকার করে নিয়েছে। উমাইয়া তার অবৈধ হিংসা বিদ্বেষমূলক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের জন্য মক্কা থেকে বিতাড়িত ও নির্বাসিত হয়েছিল। মহানবীর (সাঃ) ইসলামী আন্দোলন সাফল্য লাভ করার পর মক্কা বিজিত হলে উমাইয়া গোত্রের লোকেরা প্রতিকুল ঘটনা প্রবাহের ও স্রোতের বিপরীতে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে না দেখে রাতারাতি ভোল পাল্টায়ে ইসলাম গ্রহণ করে। মহা নবীর উদারতা বনী উমাইয়াদের পুনর্বাসনে সহায়ক হয়। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদের (সাঃ) ইসলামী আন্দোলনের যে পর্যায়ে কুরায়েশ কাফের স¤প্রদায়ের সাথে সশস্ত্র সংগ্রাম সংগঠিত হয়, বিশেষ করে আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে ৬/৭ বৎসর বনী উমাইয়া গোত্রের গোত্র প্রধান আবু সুফিয়ান ইসলামী আন্দোলনকে সমূলে বিনাশ করার ঘোষণা দিয়ে ওহুদ ও খন্দকের যুদ্ধে বিরাট বিরাট সৈন্যবাহিনীর সমাবেশ ঘটায় এবং সেই যুদ্ধে মদিনার ইহুদী নাসারাদের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে ইসলামী রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার মরণপণ সংগ্রাম পরিচালনা করে। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা যে কত জঘণ্য প্রকৃতির হিংসুক ও প্রতিহিংসা পরায়না ছিল তার নিকৃষ্ট প্রমাণ রেখেছিল ওহুদের যুদ্ধে শহীদ হজরত হামজার (রাঃ) লাশের কলিজা বের করে চিবিয়ে খেয়েছিল এবং এক বিভৎস পৈশাচিক দৃশ্যের অবতারণা করেছিল। আমীর মাবিয়া ছিলেন সেই উমাইয়ার উত্তরসূরী আবু সুফিয়ান ও হিন্দার সন্তান। হজরত ওমর (রাঃ) সেই মারিয়াকে সিরিয়ার গভর্নর নিযুক্ত করেন। মহানবী মক্কা বিজয়ের পর বনী উমাইয়া বংশের আবুল হাকাম ও তার পুর মারওয়ানকে বিতাড়িত ও নির্বাসন দেন। হজরত ওসমান (রাঃ) হজরত আবুবকর ও হজরত ওমরের খেলাফত কালে অনেক চেষ্টা তদবীর করেও তাদের নির্বাসন দÐ প্রত্যাহার করাতে সমর্থ হন নি। মৃত্যুর পূর্বেই হজরত ওমর (রাঃ) হজরত ওসমান (রাঃ)কে খলিফা মনোনয়নের একটা অনুকূল ব্যবস্থা করে যান এবং সেই সুবাদে হযরত উসমান (রাঃ) খলিফা মনোনিত হন। তিনি খলিফা হওয়ায় মহানবী কর্তৃক আরোপিত নির্বাসন দন্ড প্রত্যাহার করে বংশগতভাবে কুটপ্রকৃতির জঘন্যতম চক্রান্তকারী মারওয়ানকে তার ব্যক্তিগত সচিব নিয়োগ করেন এবং ধীরে ধীরে ইসলামী শাসন ব্যবস্থার প্রধান প্রধান নির্বাহী পদসমূহে বনী উমাইয়া গোত্রের লোকদের নিয়োগ দান করেন। বনি উমাইয়া গোত্রের মারওয়ান-মাবিয়া চক্র হজরত উসমানের (রাঃ) দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রে স্বেচ্ছাচার ও নির্যাতন মূলক প্রশাসন প্রক্রিয়া চালু করে।
তাদের খড়যন্ত্রের ফলে যে অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাতে হজরত ওসমানের (রাঃ) জীবন দিতে হয় বিদ্রোহীদের হাতে। এক বিশৃংখল অরাজক অবস্থা সৃষ্টি হয়ে যায় ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার মধ্যে এবং সেই অবস্থা সৃষ্টিতে বনী উমাইয়াদের কারসাজি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র আগাগোড়া সক্রিয় ও কার্যাকর ছিল। কখনও অতি সংগোপনে এবং কখনও প্রকাশ্যে এই অবস্থা সৃষ্টি করে রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করাই ছিল বনী উমাইয়াদের একমাত্র উদ্দেশ্য। আর আল্লাহও তাদের সীমা লংঘনের চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত সুযোগ দিয়েছিলেন এবং পরিণামে অর্ধ শতাব্দির কিছু বেশী সময়ের পর তাঁদের আমূলে বিনাশ সাধন করা হয়। এইভাবে বনী উমাইয়া বংশের লোকেরা ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বড় বড় পদগুলি দখল করে ইসলামী শাসন ব্যবস্থায় চরম বিকৃতি সাধন করে। আমীর মাবিয়া হজরত ইমাম হাসানের (আঃ) সাথে সম্পাদিত চুক্তিলংঘন করে নিজের অপদার্থ পুত্র এজিদকে ইসলামী রাষ্ট্রে খলিফা মনোনিত করেন এবং মৃত্যুর পূর্বে তিনি যেভাবে এই মনোনয়নের কার্যাটি সম্পাদন করেন তা ছিল সম্পূর্ণ ইসলাম বিরোধী পদক্ষেপ। আমীর মাবিয়া কর্তৃক খেলাফতের পরিবর্তে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর যে ইবলিশ শয়তান হতাশ হয়ে আরব থেকে পলায়ন করেছিল সে আবার প্রত্যাবর্তন করলো। এজিম প্রকাশ্যে কুরআন ও সুন্নাহ তথা ইসলাম বিরোধী কার্য্যকলাপে লিপ্ত হয়ে পড়লো। প্রকাশ্যে মদ্যপান, নারীদের নিয়ে আমোদ-প্রমোদ নৃত্যগীতের জলসা বসান, জুয়াখেলা, বানর নাচান, পুতুল খেলা সমাজে আবন্ধ হয়ে গেল সমাজে সুদ ও ঘুষের প্রচলন প্রবর্তন করা হল। ভাড়াটে খুনীদের দিয়ে সমাজের ভাল মানুষগুলিকে খুন করানো শুরু হয়ে গেল। বিষ প্রয়োগে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের হত্যা করা হতে লাগলো, অসৎ কার্যের পরিধি এত বেশী ব্যাপ্তি লাভ করল যে, ভাল লোকের সে সমাজে বসবাস করা কঠিন হয়ে উঠলো। রাষ্ট্র ব্যবস্থার নির্বাহী পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের, প্রশাসনের সর্ব্বোচ্চ থেকে সর্ব নিম্নপর্য্যায়ে দুর্নীতির সয়লাব বয়ে গেল, তাদের দেখাদেখি জনসাধারণও ইসলামী শরিয়ত অমান্য করে খারাপ কাজে লিপ্ত হয়ে পড়লো। ইসলামী সমাজের নাজুক অবস্থায় হজরত ইমাম হোসাইন (আঃ) এজিদের প্রতি বায়াত গ্রহণে অস্বীকার করলেন এবং তিনি তার মহান মাতামহ মহানবীর ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার সংস্কার সাধনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেন। অবশ্য তিনি এটা তার বহু পূর্বেই করেছিলেন এবং যথাসময়েই করেছিলেন। তার এই সংস্কার আন্দোলনে যে মহিয়ষী মহিলা অনবদ্য গৌরবোজ্জল ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি হজরত ইমাম হুসায়েনের (আঃ) আপন ভগ্নি ও হজরত ফাতিমা জাহরার (আঃ) কন্যা জায়নাব (আঃ)। তিনি কারবালা যুদ্ধে হজরত ইমাম হুসাইনের (আঃ) সাথে ছিলেন। নিজের দুই ছেলেকে যুদ্ধে পাঠিয়ে শহীদের মর্যাদায় বিভূষিত করেন। কারবালার শোকাবহ ঘটনার পর তিনি বন্দিনী অবস্থায় কারবালা থেকে ইবনে জিয়াদের দরবার, তারপর এজিদের দরবার, রাজধানী দামেস্কের পথে কি নির্মম নির্যাতন, নিষ্ঠুর দুর্ব্যবহার সহ্য করে রাস্তার পাশে সমবেত জনগণকে উদ্দেশ্য করে আর ইবনে জিয়ানের ও এজিদের দরবারে প্রকাশ্যে ‘অনলবর্ষী বক্তৃতা দিয়ে কারবালার মহানবীর বংশের লোকদের প্রতি বনি উমাইয়াদের প্রতিশোধমূলক হিংসাত্মক কার্য্যকলাপের ফিরিস্তি প্রকাশ করেন। সে সব বক্তৃতা শুনে লোকজন না কেঁদে কেউই থাকরে পারেনি। এজিদের দরবারে লোকজন ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকে। এজিদ স্বয়ং বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে যায়। হজরত জায়নাবের (আঃ) বাগ্মীতা, কথার যুক্তি ও তেজস্বীতা সাহিত্যের অমোঘ উপাদান হয়ে রয়েছে। কারবালার শোকাবহ ঘটনার পর মহিয়ষী মহিলা হজরত জায়নাব যে সব বক্তৃতা বিবৃতি দেন সেগুলি পরবর্তী পর্যায়ে ইসলামী সমাজের সংস্কারে বিপুল উপাদান যোগান দিয়েছিল তাই তার অবদানকে ইসলামী সমাজ বির্নিমানে ছোট করে দেখার কোনই অবকাশ নেই। হযরত জায়নার মক্কার কোরাইশ গোত্রের সবচেয়ে বুদ্ধিমতি ও আনময়ী মহিয়সী মহিলা হিসাবে সর্বাধিক অভিহীত ছিলেন। কারবালার হৃদয় বিদারক শোকাবহ ঘটনার পর মহানবী পরিবারে এই অকুতোভয় মহিয়ষী মহিলা শত সহস্র নির্যাতন, ধারণাতীত দুর্দশা নিপীড়নের মধ্যে থেকেও যে নির্ভীক ও সৎসাহসের পরিচয় দিয়েছেন তার কোন নজীর সেই সময়ের আগে অথবা পরে এমনকি ভবিষ্যতে কোন মহিলা বা পুরুষ কারো পক্ষে সম্ভব হবে না বলে আমি বিশ্বাসকরিবনী উমাইয়াদের সাজানো সব ষড়যন্ত্র তিনি তার ভাষনের মাধ্যমে ফাঁস করে দিয়েছিলেন, সমস্ত চক্রান্তের আল তার অসাধারণ বাগ্মীতার মাধ্যমে ছিন্নভিন, তছনছ করে দিয়েছিলেন ইতিহাস তার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। উমাইয়ারা চেয়েছিল কারবালার ঘটনাকে ও হজরত ইমাম হুসাইন (আঃ) এর শাহদাত বরণের উদ্দেশ্য কে রাজনৈতিক রং দিয়ে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে সমগ্র বিষয়টি একটি বিদ্রোহ দমনের পদক্ষেপ হিসাবে চিত্রিত, চিহ্নিত ও প্রতিষ্ঠিত করার কূট কৌশল বিস্তার করেছিল এবং সেই উদ্দেশ্য সফল করার জন্য সমগ্র রাজশক্তি নিয়োগও করেছিল কিন্তু এই মহিয়ষী মহিলার অনলবর্ষী বক্তৃতায় উমাইয়াদের সকল ফন্দি ফিকির চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের নীলনক্সা প্রকাশিত হয়ে পড়েউমাইয়াদের আসল উদ্দেশ্য ধরা পড়ে যায়পরবর্তীকালে ৫/৬ বৎসরের মধ্যে হযরত জায়নাবের (আঃ) ভাষণে প্রভাবান্বিত হয়ে কারবালার ঘটনার প্রতিশোধকামী অনুশোচনাকারীর এক দূর্জয় দল মহান মুখতারের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়তারা কারবালার ঘটনার সাথে জড়িতদের প্রায় সকল নেতৃস্থানীয়দের পাকড়াও করে নানা প্রকারের শান্তি দিয়ে হত্যা করে কারবালার ঘটনার প্রতিশোধ নেয়। মুসলিম স¤প্রদায়ও খুব মর্মাহত হয় এবং ইসলামী সমাজ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সাড়া দেয়। পরবর্তীকালে হজরত জায়নাবের উত্তরসুরী মহান ইমামদের দ্বারা সেই সংস্কার প্রক্রিয়া চলতে থাকে শয়তানের সাথে পাল্লা দিয়ে হক ও বাতিলের সংঘাত চলতেই থাকবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কারবালার ট্রাজেডির উৎকৃষ্ট ফসল।
132
আগের পোস্ট
