যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা দরকার তা হচ্ছে ন্যায়পরায়ণতা (আদালাত) ও সমতার (মোসাওয়াত) বিষয়। যা মানুষ গুলিয়ে ফেলে এবং ভুল করে থাকে। অনেকে মনে করে যে, আদালাত বলতে সমতা বোঝানো হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে কিন্তু তা নয় । আদালাতের ক্ষেত্রে সমতার কোন শর্ত নেই। বরং এখানে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি ক্লাসের সকল ছাত্রদের মধ্যে আদালাত তথা ন্যায়বিচারের অর্থ এই নয় যে তাদের সকলকে ১০০ নম্বর দিতে হবে। আদালাত এটা নয় যে সকল শ্রমিককে সমান পারিশ্রমিক দিতে হবে। বরং আদালাত হচ্ছে প্রতিটি ছাত্রকে তার যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী নম্বর দিতে হবে এবং প্রতিটি শ্রমিককে তার দক্ষতা ও কাজ অনুযায়ী পারিশ্রমিক দিতে হবে। প্রকৃতিতে আদালাত বলতেও এটাই বোঝানো হয়েছে। একটি তিমি মাছের কলিজার ওজন হচ্ছে ১ টন। আর একটি চড়ুই পাখির কলিজার ওজন হচ্ছে ১ গ্রাম ।
এখানে যদি দুজনের কলিজা সমান হত তাহলে আদালাত হত না। অনুরূপভাবে, একটি বিশাল বৃক্ষের মূল শিকড় আর একটি সবজির মূল শিকড় যদি সমান হত তাহলে তা আদালাত হত না বরং তা হত জুলুম তথা অন্যায়। আদালাত তথা ন্যায়পরায়ণতা হচ্ছে প্রতিটি অস্তিত্ব তার অধিকার, যোগ্যতা ও মেধা অনুযায়ী তার প্রাপ্য অংশ বুঝে পাবে।
