মার্কিন দম্ভকে চূর্ণ বিচূর্ণ করেছে আইআরজিসি’র ক্ষেপণাস্ত্র : সর্বোচ্চ নেতা

by Rashed Hossain

দীর্ঘ ৮ বছর পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হজরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা খামেনেয়ী’র ইমামতিতে অনুষ্ঠিত হল তেহরানের জুমআর নামাজ। তেহরান শহর ছাড়াও তেহরানের আশেপাশের শহরগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মুসুল্লি সকাল থেকে জুমআর নামাজের স্থান ‘মুসাল্লা’তে উপস্থিত হতে শুরু করে। তেহরানে অনুষ্ঠিত গতকালের জুমআর নামাযে ৪০ লাখের কাছাকাছি মুসল্লি একত্রে জুমআর নামায আদায় করেছেন।

হজরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সৈয়দ আলী খামেনেয়ী জুমআর প্রথম খোতবায় সকলকে তাকওয়ার প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন: মহান আল্লাহর সাহায্য ও তৌফিক তাকওয়ার মাঝেই নিহিত। এরপর তিনি সূরা ইব্রাহিমের ৫নং আয়াত তেলাওয়াত করে ‘আইয়ামুল্লাহ’ বা আল্লাহর দিনসমূহকে সংরক্ষণ এবং মহান আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার কথা উল্লেখ করে খোতবা শুরু করেন।

‘আল্লাহর দিনসমূহ’ জনগণকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার বিষয়ে হজরত মুসা (আ.) এর প্রতি মহান আল্লাহর নির্দেশের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন: [এ আয়াতে] সাব্বার ((صبّار)) এর অর্থ হল ধৈর্যশীল ও অটল জনগোষ্ঠী। তারা সামান্য ধাক্কায় ময়দান খালি করে না। আর শাকুর ((شکور)) অর্থ হচ্ছে ঐ ব্যক্তিরা যারা মহান আল্লাহর নেয়মতসমূহ চিহ্নিত এবং নেয়ামতের স্পষ্ট ও লুক্কায়িত বিভিন্ন দিক অবলোকনের পর সেটার জন্য কৃতজ্ঞ থাকে। আর মহান আল্লাহ প্রদত্ত এ নেয়ামতের বিপরীতে দায়িত্ববোধ রাখে।

তিনি পবিত্র কুরআনের এ আয়াত মক্কায় -তথা কুফরি মুভমেন্টের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সংগ্রাম ও দৃঢ়তার সময়- অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়ে বলেন: ঐ কঠিন মুহূর্তে এ আয়াত মুসলমানদেরকে এ সুসংবাদ দান করে যে, মহান আল্লাহ তোমাদেরকে আইয়ামুল্লাহ দান করবেন। আর প্রদত্ত নেয়ামতের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে যেয়ে তোমরা যেসব আমল করবে সেগুলোর ফলস্বরূপ অধিক বিজয় তোমাদের জন্য অপেক্ষা করবে।

তিনি বলেন: ইয়াওমুল্লাহ অর্থ হচ্ছে, বিভিন্ন ঘটনাবলিতে মহান আল্লাহর শক্তি ও ক্ষমতা প্রকাশিত হওয়ার দিন। অতএব, কুদস ফোর্সের কমান্ডারের আত্মত্যাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে যখন ইরানে কোটি মানুষ এবং ইরাকসহ অন্যান্য দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে এসে এটাকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ [অন্তিম] বিদায় অনুষ্ঠানে পরিণত করে তোলে –এটাই হচ্ছে আইয়ামুল্লাহ’র অন্যতম নমুনা। কেননা একমাত্র মহান আল্লাহর অদৃশ্য শক্তি ব্যতীত কোন কিছুই এ বৃহৎ ঘটনার জন্ম দিতে পারে না।

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার দিনকে আল্লাহর দিনসমূহের একটি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন: বিশ্বের বলদর্পী ও দাম্ভিক শক্তির মুখে কোন জাতির এমন শক্তি ও মনোবল নিয়ে সজোরে চপেটাঘাত করা প্রকৃত অর্থে মহান আল্লাহর শক্তির বহিঃপ্রকাশ। অতএব, এদিনটিও আইয়ামুল্লাহ’র অন্তর্ভুক্ত।

হজরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী আইয়ামুল্লাহ’কে ইতিহাস সৃষ্টিকারী স্মরণীয় দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন: ইরানি সমাজ; ‘সাব্বার’ এবং ‘শাকুর’ গুণে গুণান্বিত। বহুবছর ধরে তারা দৃষ্টান্তমূলক প্রতিরোধের মাধ্যমে সর্বদা মহান আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞ।

জেনারেল সোলেইমানি’র জানাজার অনুষ্ঠানের বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক বিভিন্ন দিকের পরিচিতি অর্জনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে এ প্রশ্ন উত্থাপন করেন যে, ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের ৪১ বছর পর মহান আল্লাহর শক্তি ছাড়া কোন শক্তি এ ধরনের দৃষ্টান্তহীন ঘটনার জন্ম দিতে পারে এবং এত বিপুল সংখ্যক প্রেমিক জনতাকে ময়দানে আনতে পারে?

বৃহৎ এ জানাযার অনুষ্ঠান ও ইরানের জনগণের এ ঐশী মুভমেন্ট জনগণের প্রশংসনীয় বাতেন ও আধ্যাত্মিকতা’র বহিঃপ্রকাশ। আর এ বাস্তবতার প্রমাণ যে, মহান আল্লাহর ইচ্ছা ইরানি জাতির বিজয়ের সাথেই রয়েছে।

তিনি বলেন: শহীদ কাসেম সোলেইমানি’র ঐতিহাসিক জানাযার ঘটনায়, জায়নবাদী সংবাদ মাধ্যমের মহাচক্র ও সন্ত্রাসী মার্কিন কর্মকর্তারা, সকলের প্রিয় মহান সেনাপতি কাসেম সোলেইমানিকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু মহান আল্লাহ্ দৃশ্যপটকে এমনভাবে পাল্টে দিয়েছেন যে, শুধুমাত্র ইরানে নয় বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনগণ তার আত্মার প্রতি দরুদ পাঠিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী ইসরাইলের পতাকায় আগুন দিয়েছে।

তার সংযোজন: শুধুমাত্র মহান এ সকল মুজাহিদের জানাযার ঘটনা নয় বরং তাদের শাহাদাতও মহান আল্লাহর ক্ষমতার নিদর্শন স্বরূপ। কেননা সার্দার (জেনারেল) সোলেইমানিকে হত্যা -তথা মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিখ্যাত কমান্ডারকে হত্যা- মূলতঃ নির্লজ্জ মার্কিন সরকারের অধিক অপমানের কারণ হয়েছে।

তিনি শহীদ কাসেম সোলেইমানি’র দুঃসাহসিক এক অভিযানের -যার ফলে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থায় থাকা শত্রুরা শেষমেষ পালাতে বাধ্য হয়েছিল- বর্ণনা দিয়ে সাহসী এ শহীদের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বলেন: মার্কিনীরা তার সাথে সরাসরি যুদ্ধে না যেয়ে, চোরের মত এবং কাপুরুষের মত এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আর এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তাদের অধিক অপমানের কারণ হয়েছে।

এর আগে প্রতিরোধ আন্দোলনের নেতাদেরকে এ ধরনের গুপ্তহত্যা করতো জায়নবাদী ইসরাইল। মার্কিনীরা ইরাক ও আফগানিস্তানে এ ধরনের বহু হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, কিন্তু এবার স্বয়ং তাদের প্রেসিডেন্ট নিজ মুখেই স্বীকার করেছেন যে, ‘আমরা সন্ত্রাসী’। এরচেয়ে বড় অপমান ও নির্লজ্জতা আর কি হতে পারে।

তিনি আমেরিকার জবাবে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনীর মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে বলেন: শক্তিশালী এ জবাব ছিল প্রভাব বিস্তারকারী একটি সামরিক আঘাত। কিন্তু এ হামলা ছিল সামরিক আঘাতের পাশাপাশি তাদের সম্মানের উপর আঘাত; যা তাদের দম্ভকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। আমেরিকা নিজেকে পরাশক্তি দাবি করে দম্ভ দেখায় আইআরজিসি’র ক্ষেপণাস্ত্র তাদের সেই দম্ভে আঘাত করেছে। এখন তারা বলছে আমাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করবে, কিন্তু এসবের মাধ্যমে তারা তাদের হারানো সম্মান ফিরে পাবে না।

আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন: যে কাজে একনিষ্ঠতা থাকবে মহান আল্লাহ্ তাতে বরকত প্রদান করবেন, সেটাকে বৃদ্ধি করবেন। আর এই বরকতের সুফল সবাই ভোগ করবে, যা হবে স্থায়ী। যেমনটি আইআরজিসি’র মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার মাঝে পরিলক্ষিত হয়েছে।###

সুত্রঃ হলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা)

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔