১। যে মুসাফিরকে চার রাকাত সম্বলিত নামাজের কসর আদায় করবে সে ঐ দিনের রোযাও রাখতে পারবে না এবং যে মুসাফির সম্পূর্ণ নামাজ আদায় করবে যেমন উদাহরণস্বরূপ তার সফর কোন পাপের কারণে কিংবা ঐ ব্যক্তির পেশাই হচ্ছে সফর করা সেক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে সফরে রোযা রাখতে হবে।
২। রমজান মাসে সফর করার ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্দ্বকতা নেই তবে সে যদি রোযা থেকে বাচার জন্য সফর করে তবে ঐ সফর মাকরূহ বলে গণ্য হবে।
৩। রমজান ব্যতিত অন্য কোন নির্দিষ্ট রোযা যদি কারোর উপর ওয়াজিব থাকে তাহলে এহতিয়াতে ওয়াজিবের কারণে ঐ দিন সফর করা উচিত নয়। আর যদি সফরে থাকে তাহলে কোন স্থানে দশদিন অবস্থানের নিয়ত করে তবে ঐ নির্দিষ্ট দিনে রোযা রাখার মান্নত করে যে অমুক দিন রোযা রাখবো তাহলে সে সফর করতে পারবে।
৪। কেউ যদি রোযা রাখবে বলে মান্নত করে থাকে অথচ দিন নির্দিষ্ট করেনি তাহলে ঐ রোযাসমূহ সফররত অবস্থায় রাখতে পারবে না। কিন্তু যদি সে মান্নত করে যে অমুক দিনের রোযা সফর কালীন সময় রাখবে তাহলে উচিত হবে ঐ দিন সফরে রোযা রাখা এবং যদি মান্নত করে যে অমুক নির্দিষ্ট দিনে সে সফরে থাকবে কি থাকবে না যদি সে সফরেও থাকে তবুও যেন ঐ দিনে রোযা রাখে।
৫। সফরকারী নিজের মনবাসনা পূরণের জন্য মদিনার তিন দিন মোস্তাহাব রোযা রাখতে পারে।
৬। মুসাফিরের রোযা বাতিল এ সম্পর্কে যে ব্যক্তি অবগত নয় এবং সফরে রোযা রেখে নেয় কিন্তু দিনের যে কোন সময় সে জানতে পারে যে ঐ অবস্থায় তার রোযা বাতিল তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে এবং যদি সে মাগরিব পর্যন্ত জানতে না পারে তাহলে ঐ ব্যক্তির রোযা সঠিক বলে গণ্য হবে।
৭। কোন ব্যক্তি নিজের মুসাফির হওয়ার কথা বেমালুম ভুলে যায় অথবা এও ভুলে যায় যে মুসাফিরের রোযা বাতিল বলে গণ্য হয় তাহলে সে যদি সফরে রোযা রাখে ঐ রোযা বাতিল বলে গণ্য হবে।
৮। রোযাদার যদি জোহরের পর সফর শুরু করে তাহলে ঐ দিনের রোযা পূর্ণ করতে হবে এবং যদি জোহরের পূর্বে সফর শুরু করে তাহলে ঐ ব্যক্তি যখন “হদ্দে তায়াখুস” পর্যন্ত পৌছে যাবে অর্থাৎ সে এতখানি দুরে চলে যাবে যে সেখানকার আজান শোনা যাবে না এবং শহরের দেওয়ালগুলো চোখের আড়ালে চলে যাবে। তখন সে রোযা ভাঙ্গবে এবং এর পূর্বে যদি রোযা ভেঙ্গে দেয় তবে এহতিয়াতের কারণে কাফফারা তার উপর ওয়াজিব।
৯। যদি সফরকারী জোহরের পূর্বে নিজরে জন্মভুমি অথবা এমন জায়গায় পৌছে যায় যেখানে সে দশদিন থাকার ইচ্ছা পোষণ করে সেক্ষেত্রে ঐ সময় পর্যন্ত সে এমন কোন কাজ না করে থাকলে যা রোযাকে বাতিল করে দেয় ঐ ব্যক্তিকে ঐ দিনের রোযা রাখতে হবে এবং রোযা বাতিল করার মত কোন কাজ করে থাকলে ঐ দিনের রোযা রাখা তার উপর ওয়াজিব নয়।
১০। মুসাফির যদি জোহরের পর নিরজের জন্ম ভুমি অথবা এমন জায়গা যেখানে সে দশদিন অবস্থান করার ইচ্ছা রাখে সেখানে সে পৌছে যায় সেক্ষেত্রে ঐ দিনের রোযা তাকে রাখতে হবে না।
১১। মুসাফির এবং ঐ ব্যক্তি যে রোযা রাখতে অক্ষম তার ক্ষেত্রে রমজান মাসের সহবাস করা এবং পেট ভরে পানাহার করা মাকরুহ।###
610
আগের পোস্ট
