হে শান্তি ও উষ্ণতা সৃষ্টিতে ফাতেমা (আ.) হযরত ফাতেমা যাহরা (আ.) এমনি এক আদর্শবান স্বামীর সাথে জীবন কাটিয়েছেন, যিনি সর্বাবস্থায় তাঁর স্মরণে থাকতেন এমনকি জিহাদ ও মুশরিকদের সাথে যুদ্ধের দিনগুলিতেও। ফাতেমার (আ.) গৃহ আলীর (আ.)
জন্য কখনও প্রাণহীন ও শুষ্ক ছিল না। যদিও বাহ্যিক চাকচিক্যের লেশমাত্র এ গৃহে পরিদৃষ্ট হত না। ফাতেমা যাহরা (আ.) পরিশুদ্ধতা, তাকওয়া, পরহেজগারীতা, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা এবং ঈমানী দৃঢ়তার সাহায্যে এমনই গৃহের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন, যা ইসলাম ও মুসলমানদের শান্তির দোলনাতে পরিণত হয়। পারস্পরিক ভক্তি- ভালবাসা ও বিনয় এখানে উচ্ছ্বসিত হত এবং ইসলামী মূল্যবোধের জ্যোতি এ গৃহ হতে বিচ্ছুরিত হত। এ পবিত্র গৃহ আল্লাহর রহমত, বরকত, শান্তি, সমৃদ্ধি, সত্য ও ন্যায়নীতি আর মহব্বতে পরিপূর্ণ। এভাবে ফাতেমার (আ.) গৃহ বরকতময় ও আধ্যাত্মিকতায় পরিণত হয় এবং এ গৃহে ইমাম আলী (আ.) এক স্বর্গীয় সুখ ও প্রশান্তির সন্ধান পান। মূলতঃ মহান সমাজ সংস্কারকদের জন্য এ ধরনের গৃহের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে সেখানে সব সময় ইসলামের সুঘ্রাণ অনুভব এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশে জীবন যাপন করতে পারেন। সাধারণতঃ সুযোগ্য স্ত্রীরা স্বামীদের জন্য এমন উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করেন। ফাতেমার (আ.) গৃহও আলীর (আ.) জন্য এরূপ বৈশিষ্ট্যাবলীতে পূর্ণ ছিল। এ গৃহের প্রতিটি পরতে পরতে ইসলামের সুঘ্রাণ বিচ্ছুরিত হত। এভাবে আলী (আ.) কেবলমাত্র মসজিদ ও রাসূলের (সা.) সান্নিধ্যে ইসলামের সুশীতল ছায়া অনুভব করতেন না। বরং মহানবীর (সা.) প্রিয়তমা কন্যার উপস্থিতিতে তাঁর গৃহও ইসলামের অত্যুজ্জ্বল আলোকে আলোকিত হয়েছিল। পক্ষান্তরে, তাদের উভয়ের যৌথ জীবনে ইমাম আলীও (আ.) ছিলেন যোগ্যতম স্বামী। যিনি সব সময় হকের সাথে ছিলেন এবং হক ছিল তাঁর সাথে। আর তাই ফাতেমা (আ.) আমিরুল মু’মিনিন আলীর (আ.) সুদৃঢ় ঈমান, তাকওয়া, পরহেজগারী, প্রজ্ঞা, ও বিচক্ষণতার সাহায্যে ইসলামকে স্বীয় গৃহে প্রসারিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁদের এ আদর্শ গৃহ উভয়ের অংশগ্রহণে পরিপূর্ণতা লাভ করেছিল। তাঁদের উভয়ের ইবাদত বন্দেগী ও উপাসনা ছিল একমাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি নিবেদিত এবং সর্বোত্তম ভক্তি-ভালবাসা ও আর্তি সে-ই একক ও অদ্বিতীয় সত্তার নিকটই পেশ করতেন।
সূ্এ ; নবী নন্দিনী হযরত ফাতেমা যাহরা ( আ.)
