ইসলামের প্রতি আনুগত্যই ইরানি জাতিকে সম্মানিত করেছে
আজ ইরানি জাতি ইসলামকে আঁকড়ে ধরার কারণে এতই সম্মান ও মর্যাদার আসনে সমাসীন হয়েছে যে, না পৃথিবীর কোন পরাশক্তি এ দেশের উপর কোন ধরনের আগ্রাসনের সাহস দেখাবে, না এ জাতি কোন বিদেশী শক্তিকে তোয়াক্কা করে চলে। এমনটি নয় কি? আমেরিকা, রাশিয়া (তদানীন্তন সোভিয়েত ইউনিয়ন), ইউরোপ আজ বিশ্বের শক্তি বলয়গুলো এবং অর্থনীতি ও রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রন করছে। পৃথিবীর সব কিছু আজ এ পরাশক্তিদের কবলে বন্দি হয়ে পড়েছে। কিন্তু এ সব পরাশক্তির কোনও একটিও ইরান ও ইরানি জাতির কাছ থেকে টোল আদায় ও চাঁদাবাজি করতে পারছে না (ইরান ও ইরানি জাতি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে)।
আর এমন সাফল্য এ কারণেই সম্ভব হয়েছে যে, ইরানি জাতি আল্লাহর কিছু বিধান বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছে; কেননা এখনও তো ইরানে ইসলামের যাবতীয় বিধানাবলি যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয় নি। অনেক বিধান বর্তমানে আমাদের দেশে (ইরানে) ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। আমরা মাত্র কয়েকটি খোদায়ী বিধান এ যাবত পুরোপুরি বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছি; সেগুলো হচ্ছে- আমরা জিহাদের বিধানকে কার্যকর করেছি, কুরআনের অন্যতম বিধান আমল বিল মা’রুফ (সৎ কাজের আদেশ) এবং নাহি আনীল মুনকারকে (মন্দ কাজের নিষেধ) আমাদের সমাজে যতদুর সম্ভব বাস্তবায়নে চেষ্টা চালিয়েছি, তাওয়াক্কুল তথা আল্লাহর উপর ভরসা ও নির্ভরশীলতা বিধানের উপর আমল করেছি। কুরআনের ভাষাতে আল্লাহর অন্যতম বিধান হচ্ছে,
“আল্লাহ কখনও কাফিরদেরকে মু’মিনদের ওপর কর্তৃত্বশীল করেন না।” ( সূরা নিসা : ১৪১ )
অর্থাৎ কাফিররা যাতে কখনও মুসলমানদের উপর কর্তৃত্বশীল হতে না পারে- এটা আল্লাহর অন্যতম বিধান। আমরা এ বিধান বাস্তবায়নের কারণে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের উপর থেকে কুফরী শক্তিগুলোর খবরদারির অবসান ঘটিয়েছি। আমরা ইসলাম ধর্মের এ ক’টি গুরুত্বপূর্ণ বিধানকে জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন ও কার্যকর করেছি; আর সেই সুবাদে ইরানি জাতি আজ এমন মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন হয়েছে। কাজেই সমগ্র মুসলিম উম্মাহ যেমন- আরব দেশগুলোর জনগণ ও সরকার প্রধানগণ এবং পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলিম জাতিসমূহ (চাই যে কোন ভাষা কিংবা বর্ণের হোক না কেন) যদি নিজ নিজ দেশে জাতীয় পর্যায়ে ন্যুনতম ঐ সব খোদায়ী বিধানও বাস্তবায়ন করত, তাহলে নিঃসন্দেহে তারাও অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে রূপান্তরিত হত। পাশাপাশি বিশ্বের কোন অপশক্তি তাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারত না এবং তাদের জীবনধারাও ইসলামি ও স্বাধীনচেতা হত। এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আমাদের আলোচ্য বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় আমরা তা এখানে তুলে ধরলাম।
