৩। তিন দিনের কম না হয়:
যদি রক্ত তিন দিনের কম দেখা যায় এমনকি এক ঘন্টাও কম হয় তাহলে তা হাইয নয়। তবে অবশ্যই দিনের প্রথমভাগে রক্ত দেখতে হবে এমন কোন কথা নেই। বরং যদি প্রথম দিনের মধ্যভাগ থেকে শুরু হয় এবং চতুর্থ দিনের মধ্যভাগ পর্যন্ত রক্ত আসা অব্যাহত থাকে তাহলেও যথেষ্ট হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে মাপকাঠি হল তিন দিন হওয়া, তিন রাত ও দিন নয়। কাজেই যদি তিন দিন ও দুই রাত আসে তাহলেও হবে। আর দিন বলতে সুবহে সাদিকের উদয় থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত বুঝায়। (উরওয়াতুল উছকা, পৃ. ৩১৯, মা. ৬, তাহরিরুল উসিলা, খ. ১, পৃ. ৪৪)
নোট:
(ক) প্রথম রাতটি দিনের অন্তর্ভূক্ত হবে না। আর যদি বলা হয় দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাতেও যেন রক্ত আসে তাহলে এতে দিন এর অর্থে কোন প্রভাব ফেলবে না। বরং একথাটি বলা হয় ৬নং শর্তটির জন্য অর্থাৎ যেন অব্যাহতভাবে রক্ত আসে আর প্রথম দিনের রাতটা গণনা না করা হয় যদিও হাইযের হুকুমভূক্ত হবে। (তাহরীরুল উসিলা, খ. ১, পৃ. ৪৭)
(খ) যদি রমজান মাসে রোজা রাখার জন্যে গর্ভনিরোধক পিল ব্যবহার করে থাকে তাতে আপত্তি নেই। আর যদি রক্তও আসে এবং তিন দিনের কম হয়ে থাকে তাহলে তা হাইযের রক্ত নয়। যদিওবা তার মধ্যে হাইযের লক্ষণসমূহ বিদ্যমান থাকে।
(গ) প্রশ্ন: যে স্ত্রীলোক ওয়াক্তীয়া (বা শুরুর সময়ের দিক দিক থেকে নিয়মিত) এবং আদাদিয়া (দিনের সংখ্যার দিক থেকে নিয়মিত) মাসিকের অধিকারিনী সে যদি তার মাসিকের সময়কালে রক্ত দেখতে পায় তার জন্যে প্রথম দিন অতিবাহিত হওয়ার পর গর্ভনিরোধক পিল ব্যবহার করা এবং রক্ত আসা বন্ধ করা কি জায়েজ? আর যদি একাজ জায়েজ হয়ে থাকে তাহলে উক্ত প্রথম দিনের হুকুম কি হবে যেহেতু সে একদিনের বেশি রক্ত দেখেনি?
উত্তর: যদি ক্ষতিকর না হয়ে থাকে তাহলে নিষেধ নেই। আর যদি তিন দিনের কম সময়ের মধ্যে রক্ত বন্ধ হয়ে যায় তাহলে হাইযের হুকুমে পড়বে না। (ইস্তিফতা)
(ঘ) প্রশ্ন: কোন কোন স্ত্রীলোক হজ্জ সফরকালে মাসিক বন্ধ রাখার জন্যে পিল খেয়ে থাকে। কখনো আবার পিল খাওয়া সত্ত্বেও মাসিক চলে আসে এবং ইনজেকশনের মাধ্যমে তা অব্যাহত হতে দেয় না। এক্ষেত্রে কি হাইয থেকে পাক হওয়ার হুকুম জারী হয়? এবং তখন কি মসজিদুল হারামে প্রবেশ করতে এবং তাওয়াফ ও নামাজ আদায় করতে পারে?
উত্তর: যদি পর পর তিনদিন রক্ত না আসে তাহলে হাইযের হুকুম বর্তাবে না এবং নামায ও রোযা শুদ্ধ হবে। আর তিনদিনের কম হলে ইস্তিহাযার হুকুমে পড়বে। (ইস্তিফতা)
সুত্রঃ আহকামে মুমিনাত বই থেকে সংগ্রহীত
