ই’তিকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত

by Rashed Hossain

মাওলানা মোঃ শহিদুল ইসলাম, শিক্ষক, ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র, খুলনা

ইতিকাফ হল শরীর ও আত্মার প্রশিক্ষণ নেয়া। রোজা স্বয়ং একটি মূল্যবান ইবাদত তা সত্তেও ইতিকাফের শর্ত হল রোজা রাখা, মসজিদে অবস্থান করা এবং নামাজ পড়াও ইতিকাফের আর একটি শর্ত। প্রকৃতপক্ষে ইতিকাফ হল ফজিলতপূর্ণ কয়েকটি ইবাদাতের সংমিশ্রণ।

ইতিকাফের আহকামের গুরুত্ব ও ফজিলত: ইতিকাফ কলুষিত গোনাহসমূহ ধৌতকরার একটি বিশেষ সুযোগ। নাফসের সঙ্গে যুদ্ধ করা, অন্তরকে আলোকিত করা ও আত্মাকে স্বচ্ছতা করার বিশেষ সময়। ইতিকাফ আল্লাহর নিকট তার দাসত্বের বহিঃপ্রকাশের মূখ্য সময়। ইতিকাফের এই রীতি বহু বছর পূর্ব থেকে আজ পর্যন্ত মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। ইতিকাফের সময় মানুষ বস্তুবাদীর সাথে সম্পর্ক ও দুনিয়ার প্রতি আসক্ত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নির্জনে বসে সকল বস্তুবাদীর সম্পর্ক থেকে মুক্তির আশ্রয় প্রার্থনা করে এবং স্বীয় খোদার সঙ্গে গোপনে আর্তনাদ করে যাতে তার চেহারা থেকে ক্রোধ ও বিষণœতার মরিচা দূরীভূত হয়।

ইকিকাফ কি?
ইতিকাফের শাব্দিক অর্থ কোন স্থানে অবস্থান করা ও থাকা কিন্তু শরিয়াতের পরিভাষায় ইতিকাফ হল আল্লাহর ‘নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে অবশ্যই কোন পবিত্র স্থানে অবস্থান করাকে বুঝায়। অন্যান্য ধর্মেও ইতিকাফ আছে তবে প্রত্যেক ধর্মে ইতিকাফের বিশেষত্ব, আহকাম ও শর্তাবলী ভিন্ন। ইতিকাফ ফকিহ তথা ইসলামী পণ্ডিতদের পরিভাষায় এক ধরণের ইবাদত যেখানে মানুষ তিন দিন অথবা তার অধিক সময় মসজিদে অবস্থান করবে আর ঐ তিন দিন রোজা রাখবে ও আমল করবে।

জাওয়াহের পুস্তকের লেখক ইতিকাফের শাব্দিক অর্থের ব্যাখ্যায় বলেছেন, ইতিকাফের শাব্দিক অর্থ বন্দি করা, আর এই অর্থই দীর্ঘ করাকে বুঝায়। হযরত ইমাম খোমেনী (রহ.) বলেছেন, ইতিকাফ হল মসজিদে অবস্থান করা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে তা দীর্ঘায়িত করা।

ইতিকাফ সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনা: কুরআনে ইতিকাফের মূল উপাদান ‘আকফুন’ (আরবি শব্দ) ৯ (নয়) বার ব্যবহৃত হয়েছে, তার মধ্যে দুইটি ক্ষেত্রে পৃথক দু’টি আয়াত মসজিদে অবস্থানকারী ও ইতিকাফকারীর জন্য বর্ণিত হয়েছে। এই মর্যাদাপূর্ণ আয়াত দুটি ইতিকাফের শরিয়াতী দলিল বলে গণ্য করা হয়।

“এবং ইব্রাহীম ও ইসমাইলকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী, রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য আমার গৃহকে পবিত্র রাখিতে আদেশ দিয়াছিলাম।” (সূরা আল বাকারাঃ ১২৫)

“তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাহাদের সঙ্গে সংগত হইওনা। এইগুলি আল্লাহর সীমারেখা। সুতরাং এইগুলির নিকটবর্তী হইও না। এইভাবে আল্লাহ তাঁহার বিধানাবলী মানবজাতির জন্য সুষ্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাহাতে তাহারা মুত্তাকী হইতে পারে।” (সূরা আল বাকারাঃ ১৮৭)

ইতিকাফের পূর্ব ইতিহাস: আল্লাহর দাসত্ব ও উপাসনা করা সকল একত্ববাদী ধর্মে উপস্থিতি ছিল। পবিত্র কুরআনেও বহু আয়াত রয়েছে যা থেকে প্রাচীন উম্মতদের ইতিকাফ ও ইবাদতের জন্য পবিত্র স্থানসমূহে গমন করার নিদর্শন রয়েছে।

সূরা আল বাকারার ১২৫ নং আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, ইতিকাফ নামের ইবাদতটি হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর যুগেও ছিল, কারণ এই আয়াতে আল্লাহ তায়ালা দু‘জন পয়গাম্বারকে নির্দেশ দেন মসজিদুল হারামকে ইতিকাফকারীদের জন্য পাক-পবিত্র ও প্রস্তুত করার, এছাড়াও তাওরাত ও ইঞ্জিল গ্রন্থেও নির্জন অবস্থান করার কথা উল্লেখ রয়েছে। রোহবানিয়াত (বৈরাগ্য জীবন) অর্থাৎ নির্জনে বসা ও নিরিবিলি অবস্থান করা এবং ইবাদত করা খৃষ্টান ধর্মেও রয়েছে।

“এবং তাহার অনুসারীদের অন্তরে দিয়াছিলাম করুণা ও দয়া। আর সন্ন্যাসবাদ-ইহা তো ইহারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রবর্তন করিয়াছিল। (সূরা আল হাদীদঃ ২৭)
পয়গাম্বার (সা.) রোহবানিয়াত সম্পর্কে বলেছেন: মসজিদে অবস্থান করা, মুসলমানদের সন্ন্যাসবাদকে বুঝায়, মুমিনদের অবস্থান করা ও বসার স্থান হল মসজিদ ও সন্ন্যাসীদের আশ্রম হল তার ঘর।

জাহেলিয়াতের যুগেও ইতিকাফের উপস্থিতি ছিল, কিছু লোকজন গুহাসমূহে, মরুভুমিতে ও পর্বতে ইতিকাফ করত এবং সৃষ্টিকর্তার ইবাদত ও চিন্তা-ভাবনায় মশগুল থাকত।
পবিত্র কুরআনের একটি আয়াতে হযরত মারইয়াম ও (আ.) জনগণ থেকে তাঁর নিরালায় চলে যাওয়া সম্পর্কে এবং বাইতুল মুকাদ্দাসে হযরত যাকারিয়ার (আ.) তৈরী মেহরাবে আশ্রয় নেয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

“বর্ণনা কর এই কিতাবে উল্লিখিত মারইয়ামের কথা, যখন সে তাহার পরিবারবর্গ হইতে পৃথক হইয়া নিরালায় পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় লইল…।” (সূরা মারইয়ামঃ ১৬)
আল্লামা তাবাতাবায়ী হযরত মারইয়ামের (আ.) জনগণ থেকে দূরে থাকা ও তাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা ইবাদতকে ইতিকাফ বলে বর্ণনা করেন।

হযরত সুলাইমান (আ.)-এর ইতিকাফ সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছেঃ
হযরত সুলাইমান (আ.)-এর সুন্নত ছিল এরকম যে তিনি পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাসে এক বছর অথবা দুই বছর ব্যাপী, এক মাস অথবা দুই মাস ব্যাপী ও কখনও তার থেকে কম অথবা বেশি ইতিকাফ করতেন এবং ঐখানে ইবাদতে মশগুল থাকতেন।

হযরত মুসা (আ.)-এর তুর পাহাড়ে চল্লিশ রাত্র অবস্থান করা এক ধরণের ইতিকাফ ও আল্লাহর ইবাদত ছিল। “যখন মূসার জন্য চল্লিশ রাত্রি নির্ধারিত করিয়াছিলাম…।” (সূরা আল বাকারাঃ ৫১)

হযরত মুহাম্মাদ ও (সা.) বরকতময় মাস রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফে বসতেন। ইমাম সাদেক (আ.) বলেছেন, ইসলামের সম্মানিত নবী রমজান মাসের শেষ ১০ দিন তাঁর মসজিদে ইতিকাফে বসতেন।

পয়গাম্বার (সা.)-এর স্ত্রীরাও পয়গাম্বার (সা.)-এর সঙ্গে ইতিকাফে বসতেন। ইমাম সাদেক (আ.) বলেছেন, নারীদের ইতিকাফ পুরুষদের ইতিকাফের ন্যায়। ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হোসেইন (আ.) পয়গাম্বার (স.) এর সাথে এবং পবিত্র ইমামগণ (আ.) আল্লাহর ঘরের এক কোণে ও নবী (স.) মসজিদে ইতিকাফে বসতেন।

রেওয়ায়েতে ইতিকাফের গুরুত্ব: ইমাম সাদেক (আ.) বলেছেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) মর্যাদাপূর্ণ রমজান মাসের শেষ ১০ দিন স্বীয় মসজিদে ইতিকাফে বসতেন। পয়গাম্বার (সা.)-এর নিকট ইতিকাফ এতই গুরুত্ববহ ছিল যে, হিজরী দ্বিতীয় বছর বদর যুদ্ধের কারণে ইতিকাফ বাস্তবায়ন করতে না পারায় পরের বছর তা কাযা করেন এবং মসজিদে নবী (সা.)-এর একটি স্তম্ভ আস্তুনেহুস সারির নামে পরিচিত যা আজও স্পষ্ট রয়েছে তা পয়গাম্বার (সা.)-এর ইতিকাফের স্থান বলে গণ্য ছিল।

ইমাম সাজ্জাদ (আ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসে ১০ দিন ইতিকাফ করবে তার মূল্য দু’টি হজ্জ ও ওমরার সমান হবে। পয়গাম্বার (সা.)-এর প্রসিদ্ধ রেওয়ায়েতে উল্লেখ রয়েছে: যে ব্যক্তি ঈমান ও বিশ্বাসের সাথে ইতিকাফ করবে আল্লাহ তায়ালা তার পূর্বের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।

ইতিকাফকারী সেই ব্যক্তির মত যে সকল ভাল কাজগুলো বাস্তবায়ন করল। আল্লাহ তায়ালা কাবার উপর ১২০ ভাগ পরিমাণ রহমত খুলে দেন, ৬০ ভাগ রহমত তাওয়াফকারীদের জন্য ও ২০ ভাগ দর্শনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। ইতিকাফের বিশেষত্বসমূহই প্রমাণ করে তার গুরুত্ব ও ফজিলত কতটা: ইতিকাফ নামাজের মত সব স্থানে আদায় করা যায় না, ইতিকাফের স্থান অবশ্যই মসজিদ ও আল্লাহর ঘর হতে হবে, তবে সব মসজিদ না বরং বৃহত্তর মসজিদ অথবা জামে মসজিদ অথবা মাসজিদুল হারাম ও মাসজিদুন নবী (সা.) অথবা যে মসজিদে মাসুমগণ (আ.) জুমার নামাজ অথবা জামাআতের নামাজ আদায় করেছেন। অথবা ঐ মসজিদ যেখানে জুমার নামাজ অথবা জামাআতের নামাজ আদায় করা হয়। অতএব মসজিদ হওয়াটা স্বয়ং একটি ‘বৈশিষ্ট্য আর ঐ মসজিদে জুমার নামাজ অথবা জামাআত আদায় করা আরও একটি ‘বৈশিষ্ট্য। পরিত্যক্ত মসজিদে ইতিকাফ অনুষ্ঠিত করা যাবে না।

ইতিকাফের অন্য আরো ‘বৈশিষ্ট্য হল অবশ্যই অন্যান্য ইবাদত যেমন নামাজ ও রোজা আদায় করবে। ইতিকাফের গুরুত্ব এতই বেশী যে, দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ অর্থাৎ রোজা রাখা তার একটি শর্ত। আল্লাহ তায়ালা অন্য সবার থেকে বেশী রোজাদারদের নিকটবর্তী থাকেন, যেমনিভাবে নামাজ পবিত্রতা ব্যতীত সঠিক হয় না, তেমনিভাবে ইতিকাফ রোজা ব্যতীত সঠিক হয় না।

হযরত আলী (আ.) বলেছেন, মসজিদে বসা আমার জন্য বেহেস্তে বসার থেকে উত্তম কারণ, মসজিদে বসার অর্থই হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে সম্পর্কিত থাকা। নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সর্বদা মসজিদে অবস্থান করে তার প্রতিটি নিঃশ্বাসের জন্য আল্লাহ তায়ালা বেহেস্তে একটি মর্যাদা লিপিবদ্ধ করেন এবং ফেরেস্তারা তার জন্য দুরূদ প্রেরণ করেন।
ইতিকাফের পরিপূর্ণতা: মরহুম আল্লামা মাজলেসী (রহ.) বলেছেন, ইতিকাফের পরিপূর্ণতা হল চিন্তা, মন ও দেহের অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলোকে শুধুমাত্র নেককর্মের জন্য উৎসর্গ করতে হবে এবং মহান আল্লাহর ঘরে তার নেক ইচ্ছাকে বন্দি করে রাখতে হবে। আর যাকিছু রোজাদারদের জন্য নিষিদ্ধ সেগুলো থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং সর্বদা আল্লাহর প্রতি মনোযোগ রাখতে হবে, তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা যাবে না। যখন ইতিকাফকারী আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরে জায়গা দিবে অথবা কোন একটি অঙ্গ আল্লাহর আনুগত্যের কাজ ব্যতীত অন্য কারো জন্য ব্যবহৃত করতে তাহলে যে পরিমাণ আনুগত্যের বাহিরে ব্যবহৃত হয়েছে ঐ পরিমাণ আল্লাহর প্রাচুর্য্য থেকে সে বঞ্চিত হবে ও ইতিকাফের প্রকৃত পূর্ণতা নষ্ট হয়ে যাবে।

বাতিল ইতিকাফ: আল্লাহ তায়ালা সকল মিথ্যা ইতিকাফ ও উপাসনার উপর বাতিলের মোহর মেরে দিয়েছেন এবং শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য ইতিকাফসমূহ সঠিক বলেছেন। আল্লাহ তায়ালার সম্মানিত পয়গাম্বারগণ মানুষকে মুর্তিসমূহের সামনে নমনীয়, বিনয়ী ও কুর্ণিশ করা নিষেধ করেছেন। নিচে দু’টি বাতিল ইতিকাফের উদাহরণ উল্লেখ করা হল। এগুলো বাতিল হওয়ার কারণে নিন্দনীয় ও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

“অতঃপর তাহারা (বনি ইসরাইল) প্রতিমা পূজায়রত এক জাতির নিকট উপস্থিত হয়। তাহারা বলিল, হে মূসা! তাহাদের দেবতার ন্যয় আমাদের জন্যও এক দেবতা গড়িয়া দাও। সে বলিল, তোমরা তো এক মূর্খ সম্প্রদায়।” (সূরা আল আরাফঃ ১৮৩)

হযরত মুসা (আ.) সামেরী সম্পর্কে বলেছেন, “এবং তুমি তোমার সেই ইলাহের প্রতি লক্ষ্য কর যাহার পূজায় তুমি রত ছিলে আমরা ইহাকে জ¦ালাইয়া দিবই, অতঃপর উহাকে বিক্ষিপ্ত করিয়া সাগরে নিক্ষেপ করিবই।” (সূরা ত্বোয়া-হাঃ ৯৭)

পবিত্র কুরআনে হযরত ইব্রাহীম (আ.) তাঁর চাচা ও সম্প্রদায়কে বলেছেন, “এই মূর্তিগুলো কী, যাহাদের পূজায় তোমরা রত রহিয়াছ।” (সূরা আম্বিয়াঃ ৫২)
হজ্জ ও রমজান মাসের সাথে ইতিকাফের তুলনা: আল্লাহর ঘরের জিয়ারতকারীরা ও মেহমানেরা অবশ্যই বস্তুবাদী সকল সম্পর্ক ত্যাগ করবে ও দুনিয়ার সকল আনন্দ-উপভোগ উপেক্ষা করবে। ইতিকাফকারীরাও এক প্রকার আল্লাহর মেহমান সুতরাং তারা যে ৩ (তিন) দিন আল্লাহর ঘরে উপস্থিত থাকবে, কিছু কিছু জিনিস যা ইতিকাফের পূর্বে হালাল ছিল ইতিকাফকারীর উপর হারাম হয়ে যাবে যেমন পবিত্র আয়াত থেকে স্পষ্ট হয় যে, “তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাহাদের সঙ্গে সংগত হইও না।” (সূরা আল বাকারাঃ ১৮৭)

অন্য যে সব জিনিস ইতিকাফকারীর জন্য হারাম তা হল খুশবু ব্যবহার করা, যার সম্পর্কে ইমাম বাকের (আ.) বলেছেন, ইতিকাফকারী ঘ্রাণ শুকবে না এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে না। ইতিকাফ অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় তর্ক-বিতর্ক করা নিষেধ করা হয়েছে। ইমাম বাকের (আ.) তর্ক-বিতর্ক করাকে ইতিকাফের হারাম কাজ বলে গণ্য করেছেন। অতএব, ইতিকাফকারী ৩ (তিন) দিন জামে মসজিদে অবস্থান করবে, উপযুক্ত কারণ ব্যতিত কোন বন্ধুকেও গলি পথে ছেড়ে আসবে না। নিজেকে হালাল জিনিস থেকে দূরে রাখবে যাতে দাসত্বের অনুশীলনের মাধ্যমে নাফসের সাথে যুদ্ধের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে।

ইতিকাফ ও সামাজিক দায়িত্ব: ইসলাম ধর্ম মানুষকে ইতিকাফের ন্যায় আরো অনেক ধর্মীয় অনুষ্ঠান করার জন্য উৎসাহিত করেছে। যেমন: ইসলাম ধর্ম অন্যদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া ও মুসলমানদের সমস্যাগুলো দূর করা ইতিকাফ থেকে উত্তম মনে করে। ইমাম সাদেক (আ.) বলেছেন, যদি কোন ব্যক্তি তার দ্বীনি ভাইয়ের ইচ্ছা পূরণের জন্য চেষ্টা করে আল্লাহ তায়ালা তাকে একটি হজ¦ ও ওমরা এবং মসজিদুল হারামে দুই মাস ইতিকাফ ও তার রোজার সওয়াব নির্ধারণ করেছেন।

একদিন ইমাম হাসান মুজতবা (আ.) মাসজিদুল হারামে ইতিকাফ অবস্থায় ছিলেন, এক ব্যক্তি তাঁর নিকটে এসে বলল, অমুক ব্যক্তির কাছে আমি ঋণী, আমার পক্ষে ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না তাই সে আমাকে কারাগারে পাঠাতে চায়, হযরত ইমাম হাসান (আ.) বললেন, আল্লাহর কসম! আমার অর্থ নেই যে তোমার ঋণ পরিশোধ করব, তাই কমপক্ষে তার সাথে কথা বলে একটি সময় নিয়ে নাও, অতঃপর হযরত তাঁর জুুতা পরে রওয়ানা হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলেন, বর্ণনাকারী বলল, আমি বললাম, হে রাসূলের সন্তান! আপনি কি ইতিকাফের কথা ভুলে গেছেন? ইমাম বললেন: না, তবে আমার পিতা থেকে শুনেছি যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের প্রয়োজন মিটানোর জন্য চেষ্টা করল সে ঠিক যেন ৯ (নয়) হাজার বছর এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করল যেমনভাবে সকল দিনে রোজা ও সকল রাত্রে নামাজে দন্ডায়মান ছিল।

ইমাম রেজা (আ.) বলেছেন, যে ব্যক্তি একজন মুমিনের ইচ্ছা পূরণ করে সে মসজিদুল হারামে ইতিকাফ ও রোজা থাকার চেয়ে উত্তম। ###

সম্পর্কযুক্ত পোস্ট

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Are you sure want to unlock this post?
Unlock left : 0
Are you sure want to cancel subscription?
লিংক কপি হয়েছে ✔