অনুবাদঃ মাওঃ মোঃ শহীদুল হক
নাজরান হিজাজের একটি শহর যা ইয়ামানের সীমান্তে অবস্থিত। ইসলামের প্রাথমিক যুগে ঐ স্থানের অধিবাসীরা খ্রীষ্টান ধর্মের অনুসারী ছিল। দশম হিজরীতে পয়গাম্বার (সাঃ) খালিদ বিন ওয়ালিদের মাধ্যমে ঐ স্থানের অধিবাসীদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ায় বেশ কিছু লোকজন মুসলমান হন। তবে কিছু লোক খ্রীষ্টান ধর্মে থেকে যান।
এ ঘটনার পর মহানবী (সাঃ) নাজরানের খ্রীষ্টান নেতৃবৃন্দের কাছে চিঠি লিখেনঃ
গুরুত্বপূর্ণ চিঠিটির বার্তা ছিলো এরূপঃ
এক আল্লাহর নামে শুরু করছি, যিনি ইব্রাহীম, ইসহাক ও ইয়াকুবের আল্লাহ। মহান আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত পয়গাম্বার মুহাম্মাদ হতে নাজরান খ্রীষ্টানদের সম্মানিত পাদ্রির প্রতি।
আমি আপনাদেরকে বান্দার উপাসনা থেকে এক আল্লাহর উপাসনার জন্য দাওয়াত করছি। যদি চান মুসলমান হতে পারেন, আর যদি ইসলামকে কবুল না করেন, অবশ্যই জিজিয়া (কর) প্রদান করুন। যদি এগুলো মানতে রাজি না হন তাহলে আপনাদের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করছি।
তারা পয়গাম্বার (সাঃ)-এর চিঠি পেয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লো। এরপর তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে এহতাম, আকেব ও সাইয়্যেদ নামের তিনজন পাদ্রির নেতৃত্বে ১৪ সদৃশ্য বিশিষ্ট একটি দল মদীনায় আসেন।
নাজরান থেকে আগত পাদ্রির দলটি মদীনায় প্রবেশ করে পয়গাম্বার (সাঃ)-এর মসজিদে উপস্থিত হলেন।
নাজরানের পাদ্রীরা যখন অনুমান করলেন তাদের ইবাদাতের সময় হয়েছে, তখন ঘন্টা বাজিয়ে তাদের ইবাদাতের জন্য আহবান জানালেন। পয়গাম্বার (সাঃ)-এর সাথীরা এ অবস্থা দেখে রেগে গিয়ে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! আপনার মসজিদে ঘন্টার আওয়াজ?!
পয়গাম্বার (সাঃ) বললেনঃ একটু ধৈর্য ধর। তাদের ইবাদাত সমাপ্ত হলে, তাদেরকে এখানে ডেকে আনবে! এরপর তাদের ইবাদাত সমাপ্ত হলে তারা পয়গাম্বার (সঃ)-এর নিকট আসলেন এবং রাসুল (সাঃ)-কে বললেনঃ আপনি কিসের দাবি করছেন? রাসূল (সাঃ) বললেনঃ আমি জনগণকে একত্ববাদের ধর্মের প্রতি আহবান করছি এবং তাদেরকে বলবো, তারা সাক্ষ্য দিবে এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই এবং আমিও আল্লাহর পয়গাম্বার। এছাড়া আমার ধর্মে ঈসা ইবনে মরিয়ম আল্লাহর একজন বান্দা এবং তাঁর সৃষ্টি। তিনি খাদ্য খেতেন, পানি পান করতেন ও কথা বলতেন।
নাজরানের খ্রীষ্টান পাদ্রীরা জিজ্ঞাসা করলেনঃ যদি তিনি (ঈসা আঃ) আল্লাহর বান্দা হন, তাহলে তাঁর পিতা কে?
আর এ সময় পয়গাম্বার (সাঃ)-এর ওপর অহী অবতীর্ণ হলো, বলা হলো তাদের কাছে প্রশ্ন কর, তারা হযরত আদম (আঃ) সম্পর্কে কি বলে? তিনি কি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর সৃষ্টি ছিলেন না? অন্যান্য বান্দাদের মত কি খাদ্য খেতেন না, পানি পান করতেন না ও কথা বলতেন না?
যখন পয়গাম্বার (সাঃ) তাদের কাছে প্রশ্ন করলেন; তারা উত্তর দিলেনঃ হ্যাঁ, তিনি এমনি ছিলেন। তখন পয়গাম্বার (সাঃ) প্রশ্ন করলেনঃ তাহলে আদম (আঃ)-এর বাবা কে ছিল? তারা উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়ে হতবাক দৃষ্টিতে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে রইল।
ঐ সময় আল্লাহ তায়ালা সূরা আল্ ইমরানের ৫৯ নং আয়াত অবতীর্ণ করেনঃ আল্লাহর নিকট নিশ্চই ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্ত সদৃশ। তিনি তাকে মৃত্তিকা হতে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাকে বলেছিলেন, হও তখন সে হয়ে গেলে।
অতএব ঈসা (আঃ) এর জন্ম পিতা ছাড়া, এটা কখনও বিশেষত্বের কোন দলিল হতে পারে না। যদি তাই হত, তাহলে অবশ্যই হযরত আদম (আঃ) আল্লাহর অধিকতর বিশেষত্ব ব্যক্তিতে পরিণত হতো, কারণ না তাঁর পিতা ছিলো, না তাঁর মাতা ছিলো।
খ্রীষ্টান নেতৃত্বদের সাথে মুবাহেলাঃ
যখন তারা উত্তর দিতে ব্যর্থ হলো, পয়গাম্বার (সাঃ) আবারো তাদেরকে ইসলামের পথে দাওয়াত দিলেন এবং তারা নিজেদেরকে মুক্ত করার জন্য বললো ঃ আমরা মুসলমান হয়েছি।
পয়গম্বার (সাঃ) বললেনঃ না! তোমরা মিথ্যা বলছো, তোমাদের কাল্পনিক ঈসা (আঃ)-এর ক্রুশের প্রতি ভালবাসা, মদ পান করা ও শুকরের মাংশ খাওয়া থেকে বিরতি রাখবে যদি অন্তর দিয়ে সত্য ধর্ম কবুল কর। যেহেতু তারা সঠিক দ্বীন কবুল করতে অস্বীকার করলো। আর তখনই মুবাহেলার আয়াত অবতীর্ন হয়ঃ সূরা আল্ ইমরানের ৬১ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ “অতঃপর তোমার নিকট সত্য সংবাদ এসে যাওয়ার পর যদি এই কাহিনী সম্পর্কে তোমার সাথে কেউ বিবাদ করে, তাহলে বলঃ এসো, আমরা ডেকে নেই আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের এবং আমাদের স্ত্রীদের ও তোমাদের স্ত্রীদের এবং আমাদের নিজেদের ও তোমাদের নিজেদের আর তারপর আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিসম্পাত করি যারা মিথ্যাবাদী।”
নাজরানের নাসারা এই আয়াত শুনার পর বললোঃ এটা ন্যায়সংগত কাজ। এরপর তারা মুবাহেলার সময় নির্ধারণ করে, মুবাহেলার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার উদ্দেশে নিজ এলাকায় ফিরে গেল। তাদের এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা অন্যদেরকে বললোঃ যদি মুহাম্মাদ আগামীকাল তাঁর কিছুসংখ্যক সাথী ও সাহাবীদের নিয়ে মুবাহেলার জন্য আসে, আমরাও তাঁর সাথে মুবাহেলা করবো। তাহলে বুঝবো তিনি সত্যিকারে আল্লাহর পয়গাম্বার নন। যদি তিনি তাঁর পরিবারদের নিয়ে মুবাহেলা করার জন্য উপস্থিত হন, তাহলে আমরা তাঁর সাথে মুবাহেলা করবো না; কারণ তিনি যদি পরিবারদেরকে এ কাজের জন্য নির্বাচন করেন এবং উপস্থিত হন তাহলে তাদের জন্য আত্মত্যাগ করবেন। তাহলে বুঝবো তিনি অবশ্যই পয়গাম্বার এবং তাঁর দাবি সত্য।
পরের দিন সকালে নাজরানের খ্রীষ্টানেরা নির্ধারিত স্থানে এসে উপস্থিত হয়ে পয়গাম্বার (সাঃ)-এর আসার অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ তারা দেখতে পেল, হযরত রাসুল আকরাম (সাঃ) যাঁর কোলে একটি শিশু, অন্য হাতে ধরা ছিল অন্য একটি শিশু, এবং তাঁর পিছে ছিল একজন নারী ও একজন পুরুষ তারা সবাই এক বিশেষ উৎফুল্ল ও আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভির্যের সাথে এগিয়ে আসছেন। পয়গাম্বার (সাঃ) তাঁর সঙ্গীদের উপদেশ দিলেন, আমি যখন বদ দোয়া করবো তখন তোমরা আমিন বলবে।
নাজরানের পাদ্রিরা মুবাহেলা দেখতে আসা কিছু আনসার ও মুজাহিদদের কাছে জিজ্ঞাসা করলো, এদের সাথে মুুহাম্মাদের কি সম্পর্ক? তারা উত্তর দিলোঃ ঐ পুরুষ আলী ইবনে আবি তালিব তাঁর জামাতা, ঐ নারী ফাতেমা তাঁর মেয়ে, আর ঐ দুই শিশু হাসান ও হুসাইন, আলী ও ফাতেমার সন্তান।
খ্রীষ্টান পাদ্রীরা এ দৃশ্য দেখে ভীষণ দুঃশ্চিন্তায় পড়ে গেল। যা তাদের প্রধানের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় তিনি বলেনঃ আমি কয়েক কদমের মধ্যে আজাব অনুভব করছি, কারণ তিনি তাঁর পথে খুব দৃঢ় ও সঠিক। যদি এরকম না হতো, কোন ব্যক্তির কাজে সন্দেহ থাকলে কখনও প্রিয়জনকে আল্লাহর আজাবের মধ্যে ফেলতো না। যদি আমরা এই অবস্থায় তাঁদের বদ দোয়ার সম্মুখীন হই, তাহলে আমরা সবাই ধ্বংস হয়ে যাব এবং কিয়ামত পর্যন্ত পৃথিবীতে একটাও নাসারা অবশিষ্ট থাকবে না। ইতিহাসের পাতা থেকে গীর্জা শব্দটি মুছে যাবে। এরপর তারা নমনীয় স্বরে প্রস্তাব রাখলেনঃ হে আবুল কাশেম! আমরা কখনও মুবাহেলা করবো না; তুমি তোমার ধর্মে থাক আর আমাদেরকে অনুমতি দাও আমরাও যেন আমাদের ধর্মে থাকতে পারি।
পয়গাম্বার (সাঃ) বললেনঃ যদি মুবাহেলা করতে রাজী না হও তাহলে মুসলমান হয়ে যাও।
আস্কাফ বললোঃ না! মুসলমান হব না এবং যুদ্ধ করারও ক্ষমতা নেই, অন্যান্য আহলে কেতাবদের মত জিজিয়া প্রদান করবো। পয়গাম্বার (সাঃ) প্রস্তাব মেনে নিলেন এবং তাদের সথে সন্ধি করলেন।
মুবাহেলার বিষয়টা ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য খুব গুরুত্ব ও মূল্যবান হওয়ায় ইসলামী ইতিহাসে এক নবঅধ্যায়ের সৃষ্টি হয়; কারণ ঐ দিন ইসলামের আলো আর একবার অস্তিত্বময় দিগন্ত আলোকিত করে এবং বিশ্বে নবম হিজরীতে, আখেরী পয়গাম্বার (সাঃ)-এর সত্যতা ও তাঁর আহলে বাইতের সুমহান মর্যাদা পূর্বেকারের ন্যায় প্রদর্শিত হলো এব্ং মুুবাহেলার দিনটি বিজয় উৎসবের ও দোয়া-শুকরিয়া জানানোর দিনগুলোর ন্যয় একটি দিন হিসেবে ইসলামী ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হলো।
এ কারণে এ অংশে মুবাহেলার ঘটনার কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ও অন্তর্নিহিত শিক্ষা উল্লেখ করবোঃ
ক) সত্যতার সনদঃ
মুবাহেলার পবিত্র আয়াত অবতীর্ণ, পয়গাম্বার (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর হযরত আলী (আঃ)-এর ইমামত ও খেলাফতের ক্ষেত্রে মর্যাদাপূর্ণ সুস্পষ্ট দলিল ও সত্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে শিয়াদের জন্য উচ্চতর প্রমাণস্বরূপ।
কারণ এ আয়াতে আমীরুল মুমেনীন হযরত আলী (আঃ)-এর পবিত্র অস্তিত্ব পয়গাম্বার এর আত্মার সাদৃশ খেতাব গ্রহণ করেছে। এ বাস্তবতা অনস্বীকার্য। আর এটাই প্রমাণ হয় যে, খাতিমুল আম্বিয়ার ইন্তেকালের পর তাঁর সুযোগ্য উত্তরাধিকারী হওয়ার অধিকার বিশ্বে একমাত্র তাঁরই রয়েছে।
শেইখ মুফিদ (রঃ) বলেনঃ আল্লাহ তায়ালা মুবাহেলার আয়াতে স্পষ্ট করেছেন যে, আলী (আঃ) হলেন রাসুল (সাঃ)-এর প্রাণ। এই নির্দেশের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, পয়গাম্বারের (সাঃ) পাশাপাশি আমীরুল মুমেনীন আলী (আঃ)-এর সম্মানও উচ্চতর ও মর্যাদাপূর্ণ। পূর্ণতা ও গোনাহের পাপশূন্যতা থেকে সমপর্যায়ের।
এ বক্তব্য শেইখ মুফিদ (রহঃ) উল্লেখ করেছেন যা প্রসিদ্ধ হাদীস থেকে গ্রহণ করেছেন যে হাদীস আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত পয়গাম্বার (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ যদি কেউ হযরত আদম (আঃ)-এর জ্ঞান, হযরত নুহ (আঃ)-এর পরহেজগারী ও বুদ্ধি, হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর ধৈর্যশীলতা, হযরত ইয়াহিয়ার (আঃ) পরহেজগারীতা, হযরত মুসা (আঃ)-এর ভাবমূর্তি, ও হযরত ঈসা (আঃ)-এর ইবাদাত দেখতে চায়, তাহলে হযরত আলী (আঃ)-কে দেখুক তিনি আম্বিয়াদের এ সকল গুণাবলীর অধিকারী।
সকলের মধ্যে যাকিছু ভাল রয়েছে তোমার একার মধ্যে তা নিহিত আছে।
এই রেওয়ায়েত অনুযায়ী আমীরুল মুমেনীন আলী (আঃ)-এর অস্তি—ত্ব সকল পয়গাম্বারদের সমান।
খ) নবুওয়্যাতের প্রমাণঃ
ইসলামী ইতিহাসে মুবাহেলার ঘটনা একটি অনস্বীকার্য ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার অন্যতম। এর মাধ্যমে ইসলামের মর্যাদা ও সত্যতা সকল মানুষের মধ্যে প্রমাণিত হয় এবং পয়গাম্বার (সাঃ)-এর সত্য বক্তব্য ও তাঁর মহান দাবীগুলো পূর্বের চেয়ে অধিকতর প্রকাশিত হয়। এ ঘটনা পয়গাম্বার (সাঃ)-এর নবুওয়াত ও তাঁর মহাত্ম্যার অন্যতম একটি দলিল বলে পরিগণিত হয়। নিঃসন্দেহে মুবাহেলা, মুসলমানদের ঈমানী শক্তিবৃদ্ধি ও মুনাফিক ও বিরোধীদের আত্মার দুর্বলতা প্রকাশের ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেছে।
গ) আহলে বাইত (আঃ)-এর নিস্পাপ ও পবিত্রতার প্রমাণঃ
ইসলামের অনেক জ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, এই আয়াত আহলে বাইত (আঃ)-এর মহত্ত্ব ও মর্যাদার ক্ষেত্রে খুব মজবুত একটি দলিল। বিশেষ করে আহলে সুন্নাতের বিজ্ঞ আলেম, আবুল কসেম জামাখসারী তাঁর প্রসিদ্ধ তাফসীরে কাসসাফে উল্লেখ করেছেনঃ
এই আয়াত অন্যদের তুলনায় আসহাবে কেসা (আঃ)-এর মর্যাদার ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী একটি দলিল এবং পয়গাম্বার (সাঃ)-এর সত্যতার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বলময় প্রমাণ। কারণ কোন বিরোধী পক্ষের কোন জ্ঞানী ব্যক্তিরা দাবি করেনি নাজরানের খ্রীষ্টানরা পয়গাম্বার (সাঃ)-এর সাথে মুবাহেলা করতে রাজী হয়েছিল।
মুসলেম নিশাবুরীও তাঁর নিজ গ্রন্থ ‘সহীতে’ এই আয়াত অবতীর্ণের কারণ, যা আহলে বাইত (আঃ)-এর জন্য মহত্ত্ব ও মর্যাদা বলে গণ্য করা হয়েছে সে সম্পর্কে বলেন ঃ যখন মুবাহেলার আয়াত অবতীর্ণ হলো, রাসুলে খোদা (সাঃ) হযরত আলী, হযরত ফতেমা, হযরত হাসান ও হযরত হুসাইন (আঃ)-এর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন ঃ হে আমার পরোয়ারদিগার! এরা হলো আমার আহলে বাইত। এই উক্তিকে শেইখ মুফিদ তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে এভাবে পরিপূর্ণতা এনেছেনঃ মুবাহেলা আহলে বাইতের জন্য একটি বিশেষ মর্যাদা স্বরূপ, যা ইসলামী উম্মাহর মধ্যে কেউই এ মর্যাদার শরীক নয় বা হতে পারবে না।
ঘ) ইসলামী শত্র“দের জন্য অপমান স্বরূপঃ
মুবাহেলার ঘটনায় প্রতীয়মান হয় যে, যে কেউ যে ভাবেই ইসলামের বিরোধীতা করবে, চির অপমানিত ও পরাজয়ের সম্মুখিন হবে এবং একগুঁয়েমী ও স্বার্থপর লোকেরা যে বাহানায় সত্য ও সঠিক দর্শনকে মেনে নিতে বিরত থাকবে তাদের ভাগ্য নাজরানের খ্রীষ্টানদের ন্যায় লাঞ্জিত ও অপমানিত হবে। আল্লাহর ওয়াদা সঠিক এবং বাতিলের ওপর হকের বিজয় এক অপরিবর্তনীয় রীতি।
তারা পয়গাম্বার (সাঃ)-এর আধ্যাত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক মহত্ত্ব দেখে এতই প্রভাবান্বিত হয়েছিলো যে, কোন কালক্ষেপণ ছাড়াই মুবাহেলা থেকে হাত গুটিয়ে নিলো এবং কোন বিলম্ব ছাড়াই পয়গাম্বার (সাঃ)-এর দাবি মেনে নিলো আর এ যথার্থতা সূরা আন্ফালের ১২ নং আয়াতের মাধ্যমেই স্পষ্টতর হয়ঃ আমি শীঘ্রই কফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দিবো।
এ কারণে তারা যখন পয়গাম্বার (সাঃ) ও তাঁর সঙ্গীদের চেহারা ও প্রত্যয়ের প্রতি লক্ষ্য করছিলো যে, কোন অবস্থায় মুবাহেলার স্থানের দিকে তাঁদের পাগুলো অগ্রসর হচ্ছিলো, নাজরানের আসকাফের উক্তি থেকে তা স্পষ্ট হয়।
তিনি বলেনঃ হে নাসারা সম্প্রদায়! আমি এমন চেহারা দর্শন করছি যদি তারা আল্লাহর কাছে চায় যে পাহাড়টি তার স্থান থেকে সরে যাক, দ্রুত তা কার্যে পরিণত হবে। কখনও তাঁদের সাথে মুবাহেলা করবে না, ধ্বংস হয়ে যাবে।
ঙ) পবিত্র ও আনন্দময় দিনঃ
ঐতিহ্য ও মহত্ত্বে পূর্ণ মুবাহেলার ঘটনার দিনটিকে ইসলামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা বলে গণ্য করা হয়েছে। ঐ দিনকে আসহাবে কেসা (আঃ)-এর মর্যাদার কথা স্মরণ করে একটি আনন্দময় ও আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের দিন বলে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়েছে। একারণে ২৪ জিলহজ্জ, ঈদে গাদ্বীরের ন্যায় সম্মান ও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং এ দিনের কিছু আমল নিচে বর্ণনা করা হলো যথাঃ
১) রোজা রাখা।
২) মুবাহেলার দিনে গোসল করা।
৩) মুবাহেলার নামাজ পড়া।
৪) ঐ দিনের দোয়া পড়া।
৫) শুকরিয়া আদায়স্বরূপ দরিদ্রদেরকে দান করা।
৬) জিয়ারাত পাঠ করা যা আহলে বাইতের মর্যাদার সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়। (সূত্রঃ ভিজেগীহয়ে পয়গাম্বার আযম (সাঃ) আল্ খাসায়েসুন নাবুবিয়াহ)
